প্রবল সাম্প্রদায়িক মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার শপথ নিলেন

দীপাল জয়শেখারা
১ জুন ২০১৯

বৃহস্পতিবার হিন্দু আধিপত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আরও ৫৭ জন মন্ত্রী - যাদের মধ্যে ৪ জন বাদে সবাই বিজেপি-র - যারা মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি-র জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এন-ডি-এ সরকারে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সকলের শপথ গ্রহণও পরিচালনা করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

এপ্রিল ও মে মাসে সাত দফায় ভারতীয় দ্বিকাক্ষিক সংসদের নিম্নতর কিন্তু বেশী প্রভাবশালী কক্ষ লোকসভার যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে বিজেপি ও এন-ডি-এ তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে। জনপ্রিয় ভোটের ৩৭.৪ শতাংশ পেয়ে লোকসভার ৫৪৫ আসনের মধ্যে ৩০৩টি জিতে পর পর দুই নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। বিজেপি-র ২০টির মতন জোট সঙ্গী আরও ৩০টি আসন পাওয়ায় বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটের সমগ্র আসন সংখ্যা হয়েছে ৩৫৩।

ভারতের বড় ব্যবসাগুলি এবং তাদের মিডিয়াগুলি বিজেপি/এন-ডি-এ-র ক্ষমতায় ফেরাকে প্রবল ভাবে সমর্থন করে। "বাজারমুখী" সংস্কারকে আরও দ্রুতগতির করতে এবং বিশ্ব মঞ্চে তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্খার জন্য আরও ছুটতে ভারতের বড় ব্যবসাগুলি বিজেপি-র পুণঃনির্বাচনকে তাদের জন্য সেরা উপায় বলে মনে করেছিল।

ভারতের বড় ব্যবসার তাঁবেদার মিডিয়াগুলি তাড়াতাড়ি নির্বাচনের এই ফলাফলকে মোদির 'শক্তিশালী' সরকারের এবং বিজেপি-র ক্ষতিকারক হিন্দুত্ববাদী আদর্শের জনপ্রিয়তা বলে অভিহিত করেছে। তারা এই কাজ করছে শ্রমিক শ্রেণীকে ভয় দেখানোর জন্য। এই শ্রমিক শ্রেণীর অধিকাংশ হয় বিজেপি-র বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে অথবা ভোটই দেয়নি। এছাড়াও মিডিয়াগুলি মোদি সরকারের বিরোধীতাকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করছে, কারণ এই বিরোধীতা শিগগিরি শুরু করবে ভারতের শ্রমিক ও শোষিত শ্রেণী।

গত কয়েক বছরে মানুষ ক্রমাগত বেড়ে চলা সামাজিক সংগ্রামের সাক্ষী থেকেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকা ভারতের উৎপাদন শিল্পে গাড়ি শ্রমিকদের এবং অন্যান্য শ্রমিকদের করা জঙ্গী ধর্মঘট, শিক্ষক ও অন্যান্য রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের করা ধর্মঘট, কম বিক্রয় মূল্য এবং ভর্তুকি কাটার জন্য কৃষকদের প্রতিবাদ এবং পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ।

কিন্তু ভারতের শ্রমিক এবং শোষিত শ্রেণী কঠোরতা, প্রতিক্রিয়া এবং যুদ্ধের যে বিরোধীতা করে, তা ভারতের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো ভাষা খুঁজে পায় না। কংগ্রেস পার্টি, স্তালীনপন্থী সাংসদীয় দলগুলি এবং আরও বেশ কিছু আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদী ও জাতিভিত্তিক দলগুলি, যারা বিজেপি-র নির্বাচনী বিরোধী দল, তাদের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এর কারণ তারা বহু দশক ধরে নব্য-উদারনৈতিক নীতি প্রণয়ন করতে সাহায্য করেছে, যে নীতি ভারতকে বিশ্বের অন্যতম অসাম্যের সমাজে পরিণত করেছে, তারা ভারতের সামরিক শক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ সমর্থন করেছে, ভারত-মার্কিন "বিশ্বব্যাপী কৌশলগত জোটকে শক্তিশালী করতে ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছে এবং বিভিন্ন পুঁজিপতিদের মধ্যে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বের দুর্নীতিপূর্ণ জোট গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

কংগ্রেস, যারা ঐতিহ্যগত ভাবে ভারতীয় বুর্জোয়াদের পছন্দের দল, এবং স্তালীনপন্থী সাংসদীয় দলগুলি - ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএম এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিআই - ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়েছে। কংগ্রেস বিজেপি-র সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হিন্দু আধিপত্ববাদীতায় ভরা প্রচার করে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিংস্র হুমকি দিয়ে এবং ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে "নায়ক"-এর তক্‌মা দিয়েও মাত্র ১৯.৫ শতাংশ ভোট পায়। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ছিল রাহুল গান্ধী, যার মা, বাবা, ঠাকুমা ও ঠাকুমার বাবা তার আগে কংগ্রেসের সভাপতি ছিল। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব কংগ্রেস মাত্র ৫২টি লোকসভা আসন পায়, যা সরকারি বিরোধী দল হবার জন্যও যথেষ্ট নয়।

স্তালীনপন্থী সিপিএম এবং সিপিআই একত্রে মাত্র পাঁচটি আসন জিতেছে এবং এর মধ্যে চারটি আসন তারা তামিলনাড়ুতে দক্ষিণপন্থী নির্বাচনীর জোটের অঙ্গ হিসাবে পেয়েছে। এই জোটে তারা ডি-এম-কে এবং কংগ্রেসের ছোটো অংশীদার হিসাবে ছিল। বহু দশক ধরে স্তালীনপন্থী দলগুলি এবং তাদের ট্রেড ইউনিয়নগুলি শ্রেণী সংগ্রামকে পেষণ করেছে এবং হিন্দু আধিপত্ববাদী দক্ষিণপন্থীদের ক্ষমতায় আসা থেকে আটকানোর নামে একের পর এক দক্ষিণপন্থী সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। এই দক্ষিণপন্থী সরকারের অধিকাংশের নেতৃত্বেই ছিল কংগ্রেস। শ্রমিক শ্রেণীকে রাজনৈতিক ভাবে পঙ্গু করে দিয়ে স্তালীনপন্থীরা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যেখানে ক্রমবর্দ্ধমান অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জনরোষকে বিজেপি সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়ার পরে সারিতে নিয়ে যেতে পারছে।

একটি প্রতিক্রিয়াশীল মন্ত্রীসভা

মোদির পুণর্নিমিত মন্ত্রীসভায় ২১ জন নতুন সদস্য আছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হলেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, এবং একজন প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব সুব্রমনয়াম জয়শংকর। যদিও জয়শংকর সাংসদের কোনো কক্ষের সদস্য নন, তবু তাকে ভারতের বহিরাগত বিষয়ক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রী করা হলো।

জয়শংকরের পূর্ববর্তী, সুশমা স্বরাজ তার খারাপ স্বাস্থের কারণে নির্বাচনে লড়েননি। রাজ্যসভার সাংসদ অরুণ জেটলি, যিনি মোদির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন, তিনিও অন্তত এই সময়ের জন্য খারাপ স্বাস্থের কারণে পদত্যাগ করেছেন। মোদির প্রথম পাঁচ বছর শাসনের সময় জেটলি অর্থমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০১৪ থেকে ২০১৭ আড়াই বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবেও কাজ করেছেন।

আভ্যন্তরিণ সুরক্ষার দায়িত্ব যে মন্ত্রীসভার, তার শীর্ষে শাহের নিযুক্তি এক নিষ্ঠুর প্ররোচনা এবং মোদি যে বেড়ে চলা সামাজিক বিরোধীতাকে চুপ করাতে নির্মম রাষ্ট্র হিংসার ব্যবহার করবে, এই বিষয়টি তারই পূর্বাভাস।

অমিত শাহকে মোদির ডান হাত হিসাবে ধরা হয়। তিনি সেই সময় থেকে মোদির সঙ্গে আছেন যখন মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বিজেপি-র সভাপতি হিসাবে শাহ বিজেপি-র নির্বাচনী প্রচার সমন্বিত করেছিল, যার মধ্যে ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মৌখিক আক্রমণ, মুসলিম ও বাংলাদেশী উদ্বাস্তুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলা, অভিযুক্ত হিন্দুত্ববাদী জঙ্গী প্রজ্ঞা ঠাকুরকে বিজেপি-র "তারকা" প্রার্থী বলে তুলে ধরা। তিনি ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে বিজেপি-র ক্ষমতা ও জনসংযোগ বাড়িয়ে তোলার পঞ্চবর্ষীয় প্রচারের দায়িত্বেও ছিলেন এবং তার প্রধান অস্ত্রগুলির অন্যতম ছিল সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মেরুকরণ এবং বিরোধীদের ঘুষ দিয়ে কিনে নেওয়া।

অমিত শাহ গুজরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবার সময় ২০১০ সালে শোহরাবুদ্দিন শেখ, তার স্ত্রী কৌশর বাই এবং তার সহকারী তুলসীরান প্রজাপতির বিচারবহির্ভূত হত্যায় গুজরাতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে তাকে অভিযুক্ত করেছে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই। কিন্তু মোদি নতুন দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার পর শাহকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করা হয়।

নির্মলা সীতারামন, যিনি ২০১৭-র শেষের দিক থেকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তাকে জেটলি পরিবর্ত হিসাবে অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রালয়ের শীর্ষ স্থান দেওয়া হয়েছে।

বিদেশী ও দেশী বড় ব্যবসাগুলি বহুদিন ধরে যা চাইছে, নির্মলা সীতারামণের দায়িত্ব হবে আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে সেই অর্থনৈতিক "সংস্কার"-এর ব্যবস্থা করা। এর মধ্যে রয়েছে তথাকথিত বিধিবৎ বৃহৎ শিল্পে ছাঁটাই এবং কারখানা বন্ধের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং জমি অধিগ্রহণ আইন বদল করা, যাতে বড় ব্যবসাদের জন্য "উন্নয়ন"-এর জন্য নির্দিষ্ট বড় জায়গা জোড়া জমি অধিগ্রহণ করা সহজ হয়।

ইকোনমিক টাইমসের মতে, বড় ব্যবসাগুলি চায় "বৃদ্ধি"-তে গতি আনতে "বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে" নীতি প্রণয়ন করতে সরকার "যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি"-তে কাজ করুক। বিজেপি আবার নির্বাচিত হওয়ায় শেয়ার বাজার সূচক উপরে উঠেছে, কিন্তু ভারতের কর্পোরেট অভিজাত শ্রেণীরা আশংকা ও ভয়ে আছে কারণ ভারতীয় অর্থনীতিতে বিভিন্ন সংকট দেখা দিচ্ছে - তার মধ্যে রয়েছে চাহিদার পতন, কৃষি সমস্যা, ব্যবসার বিনিয়োগ ও রপ্তানির বৃদ্ধির দুর্বল হার, এবং বিশাল কর্পোরেট ঋণের দ্বারা নুব্জ একটি অর্থনৈতিক শাখা। নির্বাচন শেষ হবার পর সরকার অবশেষে একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে যে ভারতের বেকারত্ব গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

যদিও জয়শংকর সারা কর্মজীবন কূটনীতিক হিসাবে কাটিয়েছে, বিদেশমন্ত্রী হিসাবে তার নিযুক্তি একটি সন্দেহাতীত সঙ্কেত যে মোদি সরকার ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছের করতে চাইছে, বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আক্রমনের ক্ষেত্রে। ২০০৭-এর ভারত-মার্কিন পরমাণু জোটকে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুই তরফই ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সম্পূর্ণ করার পথ হিসাবে দেখেছে। এই জোট তৈরীর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতায় জয়শংকর অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি পরে দু-বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূতের কাজ করেন, যতদিন না তিনি মোদি সরকারের বিদেশ সচিব বা সর্বোচ্চ কূটনীতিক হন। ভারত দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বন্দ্বে ওয়াশিংটনের দিক নেওয়া, ভারতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সামরিক ঘাঁটি তৈরী এবং এশিয়া-প্যাসিফিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রধান মিত্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের নিকটতর দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক সামরিক-সুরক্ষার বন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।

চীনের সঙ্গে কারবারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে জয়শংকরের। তিনি ২০১৩ সাল পর্যন্ত সাড়ে চার বছর ধরে চীনে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০১৭-তে ভারতীয় এবং চীনা সৈনিকরা হিমালয়ের একটি প্রান্তিক মালভূমি নিয়ে সাত সপ্তাহ ধরে সামরিক ভাবে মুখোমুখি হয়েছিল, সেই সময় বেইজিং-এর সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে মোদি সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লোক ছিলেন জয়শংকর। সেই সময়ে ডোকলাম সীমান্ত বিরোধের ফলে এই দুই পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ লাগার আশঙ্কা তৈরী হয়েছিল।

শাহ তার জায়গায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে অভিষিক্ত হয়েছেন এবং বিজেপি-র পুরোনো লোক রাজনাথ সিং-এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে। রাজনাথ সিং একজন কুখ্যাত হিন্দু সাম্প্রসদায়িক। ২০০৪ সালে বিজেপি জাতীয় কার্য্যালয় থেকে সরে যাবার পর হিন্দু আধিপত্ববাদী আদর্শের জয়গান করে রাজনাথ সিং দলটিকে পুর্ণগঠনের কাজ করেন।

অমিত শাহ ভারতের আভ্যন্তরিণ নিরাপত্তাবাহিনীর দায়িত্বে থাকায় এবং রাজনাথ সিং সামরিক বাহিনীকে চালনা করায় এমন আশঙ্কা করাই যায় যে বিজেপি/এনডিএ সরকার ভারতের একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য জম্মু ও কাশ্মির, যেখানে পাকিস্তান সরকারের সমর্থনে তিন দশক ধরে ভারত-বিরোধী বিদ্রোহ চলছে, সেখানে তাদের নির্মম দমন নীতি আরও তীব্র করবে। এই মুহূর্তে নতুন দিল্লি ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে পাঁচ লক্ষ সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। ফলে কাশ্মির বিশ্বের সবচেয়ে বেশী সামরিক বাহিনী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির অন্যতম।

মন্ত্রীর আসন দেবার পদ্ধতিতে মোদি ও বিজেপি তাদের এনডিএ মিত্রদের অপমান করেছে। শিরোমণি আকালি দল (এসএডি), শিবসেনা, লোকতান্ত্রিক জনতা পার্টি (এলজেপি) এবং ভারতীয় রিপাবলিকান পার্ট (আরপিআই) - এই সব দলগুলিকে মোটে একটি করে মন্ত্রিসভার আসন দিয়েছে। জনতা দল (ইউনাইটেড), যারা বিহার থেকে ১৬টি আসন জিতেছে, তাদের দাবি অনুযায়ি মন্ত্রীসভার তিনটি আসন তাদের না দেওয়ায় তারা সরকারে যোগ দেয়নি। তবে তারা এনডিএ-র অংশ থাকবে। কে তাদের মন্ত্রী হবে, এই নিয়ে আভ্যন্তরীণ গোলোযোগের ফলে তামিলনাড়ুর এ-আই-এ-ডি-এম-কে মন্ত্রীসভার একটি আসন নেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেনি।

একটি প্ররোচনামূলক পদক্ষেপে মোদি বৃহস্পতিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অঞ্চলের নেতাদের তালিকা থেকে লক্ষণীয়ভাবে বাদ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে।

১৪ই ফেব্রুয়ারি জম্মু ও কাশ্মিরের সংগঠিত একটি জঙ্গী হামলার সুযোগ নিয়ে মোদি পাকিস্তানের সঙ্গে একটি সামরিক সংকটের সৃষ্টি করে, যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ ১৯৭১-এর পর এই প্রথম বার সর্বগ্রাসী যুদ্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি চলে এসেছিল। বিজেপি সরকারের নির্দেশে পাকিস্তানের গভীরে যে বিমানহানা সংগঠিত হয়, তাকে ভারতের সামরিক বাহিনীর পরাক্রমের সাহসী বিবৃতি এবং নতুন দিল্লি ও ইসলামাবাদের দীর্ঘ দৃঢ় সম্পর্কের ক্ষেত্রে "খেলা ঘোরানো" পদক্ষেপ বলে কর্পোরেট মিডিয়া বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে।

ওয়াশিংটন পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে এবং ভারতকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র বলে আলিঙ্গন করেছে। এই পদক্ষেপের দ্বারা উত্তেজিত হয়ে ভারতের অভিজাত শাসক শ্রেণী পাকিস্তানকে চাপ দিয়ে বাধ্য করতে চায় কাশ্মিরের বিদ্রোহে তাদের সবরকম যৌক্তিক সমর্থন বন্ধ করতে এবং ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে স্পষ্ট ভাবে মেনে নিতে।