ভারতের ট্রটস্কিপন্থীরা "জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ-এর মুক্তি"-র দাবিতে চেন্নাই ও কলকাতায় সমাবেশ আয়োজন করবেন

১৯ জুলাই ২০১৯

জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জকে মুক্ত করার জন্য যে আন্তর্জাতিক আন্দোলন চলছে, তার অংশ হিসাবে তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ভারতের ট্রটস্কিপন্থীরা সমাবেশ আয়োজন করবেন। এই দুটি সমাবেশেরই আয়োজন করছেন চতুর্থ ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক কমিটির ভারতীর সমর্থকরা।

উইকিলিক্‌সের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেলসি ম্যানিং, একজন মার্কিন হুইসেলব্লোয়ার, শ্রেণী যুদ্ধের বন্দী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, আফগানিস্তান ও বিশ্বের নানান জায়গায় যে যুদ্ধাপরাধ এবং কূটনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত ছিল, তা প্রকাশ করার জন্যই তাঁদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

ব্রিটিশ পুলিশ ১১ই এপ্রিল অ্যাসেঞ্জকে ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাস থেকে গ্রেপ্তার করার পর থেকে তাকে বেলমার্শ কারাগারে রাখা হয়েছে। এই বেলমার্শ কারাগারকে বলা হয় গ্রেট ব্রিটেনের গুয়ান্তানামো।

চেলসি ম্যানিং উইকিলিক্‌স্‌কে মার্কিন যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ দিয়েছিলেন ২০১০ সালে। অ্যাসেঞ্জ-এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করার জন্য তাঁকে বন্দী করা হয়েছে এবং এর লক্ষ্য হলো অ্যাসেঞ্জ-এর বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর জন্য ম্যানিং-এর কাছ থেকে জবানবন্দী আদায় করা। ম্যানিং-কে বন্দী করা প্রমাণ করে বিচারব্যবস্থার অবস্থা প্রহসনের মতো।

অ্যাসেঞ্জকে মুক্ত করার জন্য সমস্ত আন্তর্জাতিক কর্মকান্ডকে একত্রিত করতে ওয়ার্ল্ড সোশ্যালিস্ট ওয়েব সাইট-এর আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয় বোর্ড ২০শে জুন আবেদন জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণী, যারা এই গ্রহের সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক শক্তি, তাদেরকে আন্দোলকে সামিল করাই এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের লক্ষ্য।

দুর্নীতিগ্রস্ত ভারতীয় রাজনীতিবিদদের ওপর এবং কর ফাঁকি দেওয়া ভারতীয় পুঁজিবাদীদের সুইস ব্যাঙ্কে কালো টাকা জমানোর বিষয়ে উইকিলিক্‌স্‌ ওয়েবসাইটটিতে ২০১০ সালে বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর অ্যাসেঞ্জ বলেন যে উইকিলিক্‌সের সবচেয়ে বেশী সমর্থক আছেন ভারতে। এই বিষয়টি প্রকাশ করার পর প্রধান ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলি অ্যাসেঞ্জের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল।

তখন থেকে অবশ্য ভারতীয় কর্পোরেট মিডিয়া অ্যাসেঞ্জ ও উইকিলিকসের বিষয়ে স্থানুবৎ নৈঃশব্দ পালন করে আসছে। পূর্বতন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকার মার্কিন-পন্থী রাজনৈতিক পরিবর্তন করায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১৪-তে চীনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধ প্রস্তুতিতে ভারতকে এক কৌশলগত অংশীদার করে তোলায় অ্যাসেঞ্জ ও উইকিলিকসের বিষয়ে ভারতীয় কর্পোরেট মিডিয়ার এই নৈঃশব্দ খুবই স্বাভাবিক।

অ্যাসেঞ্জ ও ম্যানিং, যাদের আক্রমণ করা হয়েছে সত্য প্রকাশ করার জন্য, তাদেরকে অসংখ্য সাধারণ মানুষ নিজেদের মহানায়ক বলে মনে করে - এবং তা ঠিকই করে। যারা তাদের কারাগারে বন্দী করার  এবং তাদের আইনি অধিকারের ওপর করা নৃশংস আক্রমণের বিরোধীতা করেন, তাদের সকলকে আন্দোলনে সামিল করতে হবে। অ্যাসেঞ্জ এবং ম্যানিং-কে মুক্ত করার এবং তাদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার একমাত্র উপায় সামরিক ব্যবস্থা ও যুদ্ধ এবং পুঁজিবাদী লাভ করার ব্যবস্থা, যা তাদের উৎস - এই সবের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীর একটি স্বাধীন আন্দোলন গড়ে তোলা।

আমরা শ্রমিক, ছাত্র, যুব, শিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবিদের  অ্যাসেঞ্জ ও ম্যানিং-কে মুক্ত করার আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে এবং ভারতে হতে চলা আগামী সমাবেশগুলি সংগঠিত করতে ডাক দিচ্ছি।

চেন্নাই
তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯
সময়ঃ দুপুর ৩টে
স্থানঃ কল্যাণ মন্ডপম, থান্ডোন্তি আম্মান মন্দির (শ্রীপেরুম্বুদুর বাস টার্মিনাসের নিকটে)

কলকাতা
তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
সময়ঃ দুপুর ৩টে
স্থানঃ ইন্ডিয়ান অ্যাসোশিয়েশন, ৬২ বি.বি.গাঙ্গুলি স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০১২
(সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের ৪ নম্বর গেট-এর নিকটে, ডানদিকে)