নতুন হিন্দু উত্কট স্বদেশভক্ত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে প্রতিবাদ

রোহান্থা দ্যা সিলভা
১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

গত সপ্তাহে মাত্র চার দিনে হিন্দু আধিপত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সংসদে যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সি-এ-এ) পাশ করিয়ে নিল, তা নিয়ে ভারত জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

"মানবিকতার" মুখোশী সি-এ-এ হলো বিজেপি ও তাদের আদর্শগত গুরু অন্ধকারের দল আর-এস-এস-এর শুরু করা আরেকটি উস্কানিমূলক কাজ, যা দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায় ভারত প্রথমত ও প্রধানত একটি "হিন্দু রাষ্ট্র" - একটি রাষ্ট্র যেখানে মুসলমানদের "সহ্য করা হয়", কিন্তু কেবলমাত্র তখনই যখন তারা হিন্দু আধিপত্ববাদকে মেনে নেয়।

সকল অমুসলিম, যথা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং ক্রিশ্চান, যারা আফঘানিস্থান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে ২০১৫-র আগে ভারতে এসেছে, সি-এ-এ এদের সকলকে নাগরিকত্বের অধিকার প্রদান করে।

এই তিন দেশ থেকে আসা মুসলমান উদ্বাস্তুদের সচেতন ভাব বাদ দেওয়া হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভাষায়, তাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হবে যেন তারা "ছাড়পোকার"। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের থেকে আসা উদ্বাস্তুদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কার তামিলরা এবং ময়ানমারের রোহিঙ্গারা, যারা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িক হিংসার লক্ষ্য হয়েছে।

সারা ভারতে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধকরণ (এন-আর-সি) শুরু করার বিজেপি-র যে পরিকল্পনা, সি-এ-এ-কে পাশ করিয়ে দেওয়া তারই প্রস্তুতি। এর ফলে দেশের ১৩০ কোটিরও বেশী বাসিন্দাদের এই প্রমাণ দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবার যোগ্য। মুসলমানরা - যাদের সি-এ-এ এবং এন-আর-সি-র দ্বৈত আক্রমণে দেশহারা হবার ভয় আছে এবং তারা যদি তাদের নাগরিকত্ব "প্রমাণ" করতে না পারে তবে অন্তরিত ও বহিষ্কৃত হতে পারে - সঠিক ভাবেই ভাবছে যে এই বিষয়টি ব্যবহৃত হবে তাদের ভয় দ্খাতে, হয়রান করতে এবং লাঞ্চনার শিকার বানাতে। (দেখুনঃ India adopts Hindu supremacist citizenship law).

গত শুক্রবার থেকে ভারতের রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর দিল্লী, এবং পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশে সি-এ-এ বিরোধী বিশাল প্রতিবাদ সভা হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে বিভিন্ন ছোটো ছোটো প্রতিবাদ সভা আয়োজিত হয়েছে। আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং দক্ষিণপন্থী বাংলা আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি কলকাতায় সি-এ-এ এবং এন-আর-সি বিরোধী একটি প্রতিবাদ সভায় নেতৃত্ব দেবেন। ইতিমধ্যে, দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য কেরালায় স্তালীনপন্থীদের নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট এবং সরকারি বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের একত্রে অনেকগুলি প্রতিবাদ সভা আয়োজন করার কথা আছে।

শুক্রবার এবং আবার রবিবার যে হাজার হাজার মানুষ দিল্লীর রাস্তায় সি-এ-এ বিরোধী প্রতিবাদ করছিলেন, পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। গতকাল দক্ষিণ দিল্লীতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের রাস্তা আটকালে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বিনা অনুমতিতেই জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢোকে, এবং, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কার্যাধিক্ষ ওয়াসিম আহমেদ খানের মতে, ছাত্রদের এবং কর্মীদের মারতে শুরু করে। পঞ্চাশ জনেরও বেশী প্রতিবাদীদের কাছের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়। তাদের মধ্যে কারো কারো আঘাত গুরুতর ছিল।

দিল্লী কর্তৃপক্ষ আজ দক্ষিণপূর্ব দিল্লীর সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আগে, অবস্থা সামাল দিতে এবং নিঃসন্দেহে সরকারকে সাহায্য করতে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বছর শেষের পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছিল এবং জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

প্রতিবাদীদের সরানোর জন্য কাঁদানে গ্যাস, জল কামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করার পর রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ আলিগড়ের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও প্রবেশ করে। এই ঘটনায় অন্তত ৬০ জন ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছিলেন। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন ঘোষণা করে যে তারা একটি সি-এ-এ বিরোধী প্রতিবাদ সংগঠিত করবে। তার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ভোরবেলা জেলা কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় এবং আলিগড়ে ফৌজদারি কোডের ১৪৪ ধারা জারি করে। এর ফলে চারজন বেশী মানুষের যে কোনো জমায়েতকে অপরাধ বলে গণ্য করা যাবে।

পূর্ব ভারতের রাজ্য বিহারের সবচেয়ে বড় দুটি শহর গয়া ও পাটনাতেও প্রবল প্রতিবাদ হয়। জে-ডি-(ইউ) বিহারের রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে আছে এবং বিজেপির নিকট মিত্র। তারা সি-এ-এ পাশ করানোর সমর্থন করেছিল। কিন্তু জনগণের রোষের মুখে পড়ে তারা দাবি করছে তারা বিহারে এন-আর-সি শুরু করার বিরোধ করবে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর মুসলমান সংখ্যালঘুরা রয়েছেন। বিজেপি-র সর্বশেষ প্ররোচনার বিরুদ্ধে সেখানে জনগণ হিংসাত্মক প্রতিবাদ করেছে। শনিবার প্রতিবাদীরা মোটরগাড়ির রাস্তা আটকেছে এবং বহু রেল ও রেল স্টেশনে আক্রমণ করেছে। কর্তৃপক্ষ কলকাতার বাইরেই অবস্থিত হাওড়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগণা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাগুলির কিছু অংশে বা সর্বত্র ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

চেন্নাই ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুর অন্যান্য শহরেও সি-এ-এ বিরোধী প্রতিবাদ সংগঠিত হয়েছে। এই আইন যে মুসলিমদের বাদ দিয়েছে এবং শ্রীলঙ্কা রাষ্ট্রের তামিল-বিরোধী যুদ্ধ থেকে এবং সরকারের সিংহলী জাতীয়তাবাদী নীতি থেকে যে তামিলরা পালিয়ে এসেছে, তাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে না, তার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ সংগঠিত হচ্ছিল। সালেম শহরে ১০০-রও বেশী প্রতিবাদীদের আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশে জন্মানো হিন্দুদের ও তাদের উত্তরাধিকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উত্তরপূর্বের রাজ্য অসমেও সি-এ-এ-কে আক্রমণ করে প্রবল প্রতিবাদ হয়েছে, যদিও এই প্রতিবাদগুলির চরিত্র জাতিভিত্তিক ও জাতীয়তাবাদী।

যে দল সি-এ-এ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেই অল আসাম স্টুডেন্টস্ ইউনিয়নের প্রধান পরামর্শদাতা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য্য গত শুক্রবার এক মিছিলে মোদির নিন্দা করেছে কারণ "সব বেআইনি উদ্বাস্তু-দের বিতাড়িত" করার যে প্রতিক্ষা মোদি করেছিল, সে তার সঙ্গে "বিশ্বাসঘাতকতা" করেছে। ভট্টাচার্য্য জানায়, "উনি একজন বেআইনি বাংলাদেশীকেও ফেরত পাঠাননি। তার বদলে তিনি এখন তাদের স্বাগত জানাচ্ছেন।"

অসমে সংগঠিত প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়া হিসাবে ভারত রাষ্ট্র তাদের চারিত্রিক হিংস্রতা প্রকাশ করেছে, নির্মম শক্তি ব্যবহার করেছে এবং ২০০০-এর বেশী মানুষকে প্রতিরোধমূলক আটক করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত চারজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চম ব্যক্তি, যিনি একজন ট্রাক চালক ছিলেন, তাকে প্রতিবাদকারীরা মেরে ফেলেছে। রবিবার রাত্রে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে আইনের শাসন কায়েম করা হয়েছে, তাই ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কার্ফিউ "শিথিল" করা হবে।

অসমের জাতিভিত্তিক-জাতীয়তাবাদী দলগুলি দারিদ্র ও কর্মহীনতার জন্য হওয়া জনক্রোধকে কাজে লাগাতে পেরেছে। দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় বুর্জোয়ারা এবং অল্প সংখ্যক আঞ্চলিক অভিজাত মানুষজন রাজ্য থেকে সম্পদ সরিয়ে নিয়েছে এবং অসম, যে রাজ্যে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, তাকে প্রধানত অনুন্নত করে রেখেছে।

হিন্দু আধিপত্ববাদী সি-এ-এ-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়া হিসাবে মোদি ও তার বিজেপি বিরোধী দলগুলির প্রবল নিন্দা করেছে এবং হিংসা ছড়ানোর জন্য ও ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলছে বলে তাদের দোষারোপ করেছে। বিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ইউনিটের প্রধান দিলীপ ঘোষ প্রতিজ্ঞা করেছে তার দল "বাংলাদেশী মুসলিম হিংসা"-র বিরুদ্ধে মানুষকে রাস্তায় নামাবে। ঘোষ জানায়, "তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী মুসলমানরা পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করছে। এটি অভাবনীয়। এবং আরও ভয়াবহ হলো এই বিষয়টি যে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি"।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এবং বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণীর থেকে পাওয়া বিরোধীতার সম্মুখীন হয়ে মোদি সরকার ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের লক্ষ্য হলো হিন্দু আধীপত্ববাদের ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গী কর্মীদের আন্দোলন সৃষ্টি করা এবং জনগণকে ভয় দেখাতে ও বিভাজন করতে সামাজিক ক্রোধ ও হতাশাকে প্রতিক্রিয়াশীল রাস্তায় চালিত করার জন্য সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করা।

দশকের শুরুর দিকে ভারতের অর্থনীতির অবস্থা টালমাটাল হবার পর ভারতের বুর্জোয়ারা বিজেপি-কে সমর্থন করে মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি-কে দেশের প্রধান জাতীয় দল বানায়। অধিকাংশ রাজ্যে, এমনকি জাতীয় সরকারের ও রাষ্ট্রপতিত্বের নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে বিজেপি। বিজেপি তাদের বহুদিনের হিন্দু আধিপত্ববাদী কার্য্যক্রম বাস্তবায়িত করায় এদের কেউ কেউ তার ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিচ্ছে এই ভয়ে যে মোদি শীঘ্রই একটি ঝড়ের সৃষ্টি করবে। কিন্তু বড় ব্যবসারা এখনও হিন্দু "শক্তিশালী পুরুষ"কেই আলিঙ্গন করে রয়েছে এই হিসাব করে যে বিশ্বমঞ্চে তাদের লুন্ঠনের স্বার্থকে বাস্তবায়িত করতে এবং বিনিয়োগকারীদের পক্ষে সামাজিক "সংস্কার" করার জন্য মোদিই তাদের সেরা বাজি।

গত সপ্তাহে সি-এ-এ আইন কার্য্যকর করায় মোদি সরকারের কূটনৈতিক দিনপঞ্জী বিঘ্নিত হয়েছে। সি-এ-বি ও এন-আর-সি-র প্রকাশ্য মুসলিম-বিরোধী খোঁচার ফলে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান যথাক্রমে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তাদের ভারত সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু ভারতকে খারাপ ভাবে না দ্যাখাতে এবং নতুন দিল্লীর রাজনৈতিক সমর্থন ও বিনিয়োগ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য তারা তাদের সফর বাতিল করার কারণ হিসাবে সি-এ-এ-র কথা বলেনি।

গত সপ্তাহান্তে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিঞ্জো আবের সঙ্গে গুয়াহাটিতে মোদির একটি বার্ষিক সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে এই মুহূর্তে সি-এ-এ বিরোধী প্রতিবাদ চলায় এই সম্মেলন সংগঠিত করা সম্ভব হয়নি। ভারত এই সম্মেলন অন্য কোথাও স্থানান্তরিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু জাপান সম্মতি জানায়নি। তারা উত্তরপূর্ব ভারতে তাদের বিনিয়োগকে সবার দৃষ্টিগোচর করার জন্য এই সম্মেলনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। উত্তরপূর্ব ভারতের এক কৌশলগত অবস্থান আছে, যার উত্তরে রয়েছে চীন সীমান্ত এবং নতুন দিল্লী ও টোকিয়ো ভারত ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে হঠাৎ বেড়ে ওঠা ব্যবসার অপরিহার্য্য উপাদান হিসাবে এই উত্তরপূর্ব ভারতকে ব্যবহার করতে চায়।

মোদি সরকারের সি-এ-এ এবং জাতীয় এন-আর-সি শুরু করার পরিকল্পনা ১৯৪৭-এর ভারতীয় উপমহাদেশের ভাগ হবার কৃত্রিম ও সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রকে প্রকাশ করে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগের সমর্থনে দক্ষিণ এশিয়ার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসকরা ভারতীয় ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে এই উপমহাদেশকে মুসলিম পাকিস্তান ও প্রধানত হিন্দু ভারতে ভাগ করে।

দেশভাগের তাৎক্ষণিক প্রভাব ছিল জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসা, যার ফলে দশ লক্ষেরও বেশী মানুষ মারা যান এবং ২০০ লক্ষ মানুষ গৃহহারা হন। তার চেয়েও বড় কথা হলো, এই দেশভাগ এক প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্ম দিল যা সাম্রাজ্যবাদকে এই অঞ্চলে শাসন করার পথ তৈরী করে দিল; প্রতিক্রিয়াশীল আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্ম দিল যার ফলে বহু যুদ্ধ ও যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং আজ তা এই অঞ্চলকে এক সংকটের সম্মুখীন করতে পারে যেখানে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রের দ্বারা যুদ্ধ হতে পারে; এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিক্রিয়াশীল অভিজাত শাসক শ্রেণী দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা বাড়িয়ে তুলতে এবং জনগণের বিভাজন ঘটাতে।

সাম্রাজ্যবাদের দ্বারা সৃষ্ট রাষ্ট্রীয়, সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বৈষম্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সামাজিক দুর্দশা ও প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থা থেকে এবং এই অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী বুর্জোয়া অভিজাত শ্রেণীদের থেকে বাইরে আসার একমাত্র উপায় হলো এক আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কার্য্যক্রমের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রমিক শ্রেণীকে ঐক্যবদ্ধ করা।