ভারতের জাতীয় নির্বাচনে বিপর্যয়ের মুখোমুখি স্তালীনপন্থী সি-পি-এম এবং সি-পি-আই

-দীপাল জয়শেখরা
২৭ মে ২০১৯

ভারতের হিন্দু আধিপত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এবং তিন দশকের "বাজারমুখী" সংস্কারের ফলে হওয়া ক্ষতির বিরুদ্ধে যখন শ্রমিক শ্রেণীর বিরোধীতা ক্রমে বেড়ে চলেছে, তখন ভারতের প্রধান স্তালীনন্থী দলগুলি - ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিএম এবং তার ছোট কিন্তু তার চেয়ে পুরোনো শরিক ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিআই নির্বাচনে এক হতাশাজনক ফল করেছে।

ভারতের দ্বিপাক্ষিক সংসদের বেশী শক্তিশালী নিম্নপক্ষ বা লোকসভার ৫৪৫ আসনের মধ্যে সিপিআই ও সিপিএম একত্রে মাত্র ৫টি পাবে - সিপিএম এর ৩টি এবং সিপিআই-এর ২টি। তাদের সঙ্গী, সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বামপন্থী নির্বাচনী জোট একটিও আসন পাবে না।

লোকসভায় এটিই "বাম" দলগুলির সর্বনিম্ন প্রতিনিধিত্ব এবং এর ফলে "জাতীয় দল" হিসাবে সিপিএম ও সিপিআই সরকারী পদমর্যাদাই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। ভারতের স্বাধীনতার পরের প্রথম নির্বাচনে সিপিআই ১৬টি আসন জিতে লোকসভার দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ছিল। তাদের চেয়ে বেশী আসন ছিল কেবল জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস পার্টির যাদের আসন সংখ্যা ছিল ৩৬৪। এমনকি ইদানিংকালের চতুর্দশ লোকসভাতেও (২০০৪-০৯) সিপিএম-এর ৪৩ জন সাংসদ ছিল এবং প্রায় ৬০ জন সাংসদ নিয়ে বামফ্রন্ট লোকসভাতে তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি ছিল।

সেই সময়ের পর থেকে শ্রমিক শ্রেণী এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের মধ্যে স্তালীনপন্থীদের সমর্থনের যে ভিত ছিল তা ধ্বংস হয়ে গেছে। একের পর এক জাতীয় নির্বাচনে লোকসভাতে স্তালীনপন্থীদের প্রতিনিধির সংখ্যা ক্রমাগত অর্ধেক হয়ে চলেছে। সিপিএম ২০০৪ সালে জাতীয় স্তরে ৭.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সংখ্যায় যা ছিল ৩ কোটি ভোট। ২০০৯-এ তারা পায় ৫.৩ শতাংশ ভোট এবং ২০১৪ সালে তা নেমে এসে দাঁড়ায় ৩.২৫ শতাংশে। ২০১৯-এ তারা ২ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেয়েছে (চূড়ান্ত পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করা হয়নি)।

শ্রমিক শ্রেণীকে রাজনৈতিক ভাবে দমন করায় তাদের ভূমিকা এবং ১৯৯১ এর পরে শাসক শ্রেণী ভারতকে বিশ্ব পুঁজির কাছে সস্তার বাজার বানানোর যে পন্থা নেয় তাকে রূপায়ন করতে সিপিএম ও সিপিআই যে সাহায্য করে, তারা তারই ফল ভোগ করছে। এর মধ্যে রয়েছে একের পর এক দক্ষিণ পন্থী কেন্দ্রীয় সরকার গড়ে তোলায় সাহায্য করা, যাদের অধিকাংশের নেতৃত্বে ছিল কংগ্রেস। এই কেন্দ্রীয় সরকারগুলি "বাজারমুখী" সংস্কার পালন করেছে এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে নিকট সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এছাড়াও, তারা যে রাজ্যগুলিতে সরকার গড়েছিল, সেখানে স্তালীনপন্থীরা নিজেরাই "বিনিয়োগকারীদের পক্ষে" নীতি বাস্তবায়িত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিএম-এর পলিটব্যুরোর সদস্য স্বর্গীয় জ্যোতি বসুর কুখ্যাত উক্তির উল্লেখ করতে গেলে বলা যায়, তিনি সমাজতন্ত্রকে "বহু দূরের স্বপ্ন" বলে নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন।

জাতীয় বুর্জোয়াদের "সামন্ততান্ত্রিক", "সাম্রাজ্যবাদ-পন্থী" শাখার বিরুদ্ধে বুর্জোয়াদের "প্রগতিশীল" শাখাকে সমর্থন করার নামে বহু দশক ধরে স্তালীনপন্থীরা শ্রমিক শ্রেণীকে বিভিন্ন পুঁজিবাদী দলের কাছে শৃঙ্খলবদ্ধ করে রেখেছিল। গত তিন দশক ধরে স্তালীনপন্থীরা তর্ক করেছে যে ভারতের শ্রমিক শ্রেণীর ও শোষিত শ্রেণীর উচিত হিন্দু আধিপত্ববাদী বিজেপিকে ক্ষমতায় আসা থেকে আটকানোর একমাত্র পন্থা হিসাবে কংগ্রেসকে এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলকে সমর্থন করা। কিছু আগে পর্যন্তও এই কংগ্রেস ছিল ভারতীয় অভিজাত শ্রেণীর পছন্দের শাসক দল।

সিপিএম ও সিপিআই এবং তাদের অনুমোদিত ইউনিয়নগুলি বেড়ে চলা সামাজিক সংকটের সমাজতান্ত্রিক সমাধান বের করা থেকে শ্রমিক শ্রেণীকে বিরত করায় বেড়ে ওঠা দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাব এবং ব্যাপক সামাজিক অসাম্য জনগণের মধ্যে যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়, দক্ষিণপন্থী হিন্দু আধিপত্ববাদীরা সেই হতাশা ও উদ্বেগকেই কাজে লাগিয়েছে। তিন দশক স্তালীনপন্থীরা শ্রেণী সংগ্রামকে দমন করে রেখেছিল এই দাবি করে যে শ্রমিকরা অবশ্যই "গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে"। এর ফলে শ্রমিকদের বুর্জোয়া শ্রেণীশত্রুদের দল বিজেপি ও হিন্দু আধিপত্ববাদী দক্ষিনপন্থীদের সাংসদীয় সমন্বয় ও নির্বাচনী জোট এই মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী।

সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে স্তালীনপন্থীরা আবার "গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক সরকার গড়ার নামে, অর্থাৎ এক দক্ষিণপন্থী, বড় ব্যবসার সরকার গড়তে কংগ্রেস, তাদের জোট ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স এবং জনগণের দ্বারা নিন্দিত বেশ কিছু দক্ষিণপন্থী দলের সমর্থনে গলা ফাটিয়েছে। এই সব দলগুলি তাদের নিজেদের প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক এবং জাতি ও বর্ণ ভিত্তিক আবেদন জানায় এবং এরা সবাই - এবং তাদের মধ্যে স্তালীনপন্থীরাও আছে - ২৬শে ফেব্রুয়ারি মোদি পাকিস্তানের ওপর যে প্ররোচনামূলক ও বেপরোয়া বিমানহানা চালায়, যা আর একটু হলেই এক সর্বগ্রাসী যুদ্ধের রূপ নিত, তার প্রশংসা করেছে। এবং এরা সবাই ভারতকে বিশ্ব পুঁজির জন্য সস্তা শ্রম জোগানোর স্থান বানাতে এবং চীন-বিরোধী ভারত-মার্কিন "বিশ্বব্যাপী কৌশলী অংশদারিত্বে" ভারতকে কনিষ্ঠ অংশীদার করতে বিজেপি-র-ই মতন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বহু দশক ধরে বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে কাজ করার পর এবং শ্রমিক শ্রেণীর এবং শোষিত সর্বহারাদের ওপর আক্রমনের ষড়যন্ত্রে অংশ নেবার পর সিপিএম ও সিপিআই যখন দাবি করেছে যে তারা সমাজতান্ত্রিক অথবা অন্তত "জনমুখী" বিকল্পকে প্রতিনিধিত্ব করে, মানুষ তা বিশ্বাস করছে না।

যে তিন রাজ্যকে নির্বাচনে স্তালীনপন্থীদের দুর্গ হিসাবে ধরা হয় এবং যেখানে তারা বারবার রাজ্য সরকার গঠন করেছে, সেই পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরালাতে সিপিএম ও সিপিআই মাত্র একটি আসন জিতেছে। লোকসভাতে তাদের বাকি চার জয় এসেছে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু থেকে, যেখানে তারা দক্ষিণপন্থী তামিল আঞ্চলিক দল ডি-এম-কে-র সঙ্গে একটি দক্ষিণপন্থী নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং এই জোটকে রাহুল গান্ধী এবং তার কংগ্রেস পার্টি সমর্থন করে।

পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ২০১১ পর্যন্ত ৩৪ বছর ধরে গঠিত হয়েছে, স্তালীনপন্থীরা সম্পূর্ণ মুছে গেছে। তারা কেবলমাত্র তাদের দুটি আসনই হারায়নি, ৪২ আসনের মধ্যে ৪১টিতে তাদের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

২০১৪-য় সংগঠিত গত লোকসভা নির্বাচনের ২২.৭ শতাংশ থেকে কমে সিপিএম মাত্র ৬.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং বামফ্রন্ট একত্রিত ভাবে ২০১৪ সালের ২৯.৫ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৭.৫ শতাংশ ভোট পেয়ছে।

বামফ্রন্ট সরকার নির্মম ভাবে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে যে নীতি প্রণয়ন করছিল তার বিরুদ্ধে বেড়ে চলা অসন্তোষকে গত দশকের শেষ দিকে দক্ষিনপন্থী জননেত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) কাজে লাগাতে সক্ষম হয়। বামফ্রন্ট সরকারের এই নির্মমতার নিদর্শন দেখা গিয়েছিল নন্দীগ্রামে, যেখানে বড় ব্যবসার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করতে তাদের জমি নিয়ে নেওয়ায় ছোট কৃষকরা যে প্রতিবাদ করেছিল, তার ওপর পুলিশ ও গুন্ডারা নির্মম অত্যাচার চালায়। এছাড়াও, বামফ্রন্ট সরকার তথ্যপ্রযুক্তি এবং তার সহযোগী শিল্পগুলিতে ধর্মঘটকে বেআইনি ঘোষণা করে।

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে চিরকাল এক গৌণ শক্তি হিসাবেই ছিল। কিন্তু টিএমসি-র উত্থানের এক দশক পরে তারা টিএমসি-র শাসনের বিরুদ্ধে বেড়ে চলা অসন্তোষকে কাছে লাগিয়ে নির্বাচনে ভালো ফল করে এবং স্তালীনপন্থীদের সম্পূর্ণ মুছে দেয়। ২০১৮-র নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি মাত্র ১৭ শতাংশের কিছু কম ভোট পেয়েছিল। ২০১৯-এর নির্বাচনে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের ভোটের ৪০ শতাংশ পেয়েছে এবং ১৮টি আসন পেয়েছে, যেখানে টিএমসি পেয়েছে ৪৩ শতাংশ ভোট এবং ২২টি আসন।

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম-বামফ্রন্টের পতনের আগে তাদের বহু নেতা ও কর্মী দলত্যাগ করে। প্রথম দিকে বেশীর ভাগ নেতা কর্মীই দলত্যাগ করে টিএমসি-তে যোগদান করে। কিন্তু ইদানিং কালে দলের নেতা ও "নীচু তলার" কর্মীরা বিজেপি-তে যোগদান করে। তারা দাবি করে যে দিনের পর দিন টিএমসি-র যে সহিংস প্রচারণায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার বিরোধীতা করার একমাত্র উপায় বিজেপি-তে যোগ দেওয়া। এই থেকে প্রমাণ হয় যে পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম-এর যে বিরাট শক্তি ছিল তা আদতে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল এবং রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল পৃষ্ঠপোষকরা ছিল, যারা সরকারি সম্পদ এবং সরকার ও পুলিশের দ্বারা সুরক্ষিত থাকার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম-এর সদস্যদের দলত্যাগ করে অতি দক্ষিণে যাওয়ার কথা সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায় যে অনেকদিন ধরে যারা সিপিএম-এর প্রধান শত্রু, সিপিএম-এর দুই প্রাক্তন রাজ্যসভার সদস্য সেই বিজেপি-র প্রার্থী হিসাবে এই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন, মুর্মু খগেন, বিজেপি-র পার্লামেন্টের সদস্য হিসাবে এবার নতুন লোকসভাতে বসবে।

ভারতের আরেকটি প্রধান বাংলা ভাষী রাজ্য ত্রিপুরাতেও সিপিএম পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে ভালো ফল করেনি। গত লোকসভাতে সেই রাজ্যের দুটি আসনই তাদের ছিল। কিন্তু এই নির্বাচনে সেই দুটি আসনই বিজেপি-র দখলে চলে যায় এবং দুটির একটাতেও সিপিএম-এর প্রাক্তন সাংসদরা এমনকি দ্বিতীয়ও হয়নি। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ত্রিপুরার সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার গত বছর বিজেপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের কাছে পরাজিত হয়।

কেরালাই একমাত্র রাজ্য যেখানে স্তালীনপন্থীরা সরকারের নেতৃত্বে আছে। সেখানেও সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এল-ডি-এফ)-এর আসন সংখ্যা আট থেকে এক-এ নেমে এসে দাঁড়িয়েছে। এল-ডি-এফ এর ভোটের হার ৪০ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ কমে গিয়ে ৩২ শতাংশ হয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল। রাজ্যের বাকি ১৯টি আসনের সবকটিই কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউ-ডি-এফ) দখল করেছে। ইউ-ডি-এফ তাদের ভোটের হার বাড়িয়ে ৪৭ শতাংশ করেছে।

এল-ডি-এফ সরকার বিদেশী লগ্নি নিয়ে আসার জন্য এখন সব ধরনের প্রচেষ্টা করছে। ১৭-র মে মাসে ইউরোপের পুঁজি নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে করা এক বিদেশ ভ্রমণের সময় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবসার অধিবেশ শুরু করার ঘন্টাটি বাজান কেরলের মুখ্যমন্ত্রী এবং পলিটব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়ন । পাকিস্তানের ওপর মোদির বহু প্রচারিত দুটি "সার্জিকাল স্ট্রাইক"-এর প্রথমটির প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিজয়ন ২০১৬-র অক্টোবরে সীমানা পার করে করা আক্রমণের প্রসংশা করে কেরল বিধানসভাতে একটি সার্বজনীন সংকল্প গ্রহণ করেন।

তাদের দলের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর প্রতিক্রিয়া হিসাবে সিপিএম পলিটব্যুরো যে বিবৃতি প্রকাশ করে তাতে তারা মেনে নেয় যে তাদের দল "এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে" এবং তারা প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা "আত্মসমালোচনা" করবে।

শ্রমিক শ্রেণীকে বুর্জোয়াদের কাছে, তাদের দলগুলির কাছে এবং রাষ্ট্রের কাছে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার তাদের যে প্রচেষ্টা, তাকে আরও তীব্র করে তুলতে স্তালীনপন্থীরা আরও দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকবে। এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে যখন কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএম যে জোট করার চেষ্টা করেছিল, তা ব্যর্থ হওয়ায় সিপিএম-এর পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, "যদি জোট হতো, তবে এই নির্বাচনের ফল সম্পূর্ণ ভাবে পৃথক হতো।"