মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (এমএসআরটিসি) বাস শ্রমিক এবং তাদের আইনজীবী গুণরতন সাদাবর্তেকে গতকাল জামিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও ৮ই এপ্রিল জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) নেতা শরদ পাওয়ারের মুম্বাই বাসভবনে বিক্ষোভ করার জন্য 'দাঙ্গা' এবং 'ষড়যন্ত্র' এর অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে।
কর্তৃপক্ষ, যারা ৮ই এপ্রিলের বিক্ষোভকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে, দাবি করেছে যে শ্রমিকরা পাওয়ারের বাড়িতে পাহারা দেওয়া পুলিশকে জুতো এবং ঢিল ছুড়েছে এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।
শ্রমিকরা এবং তাদের আইনজীবী গত দুই সপ্তাহ জেলে কাটিয়েছেন, আগে তাদের জামিন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হয় যা অস্বীকার করা হয়েছে বা স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল, একটি দায়রা আদালত বলেছে যে ১০,০০০ টাকা (130 মার্কিন ডলার) জামিনে শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। অনেক শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের জন্য এটি বড় কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ১০,০০০ টাকা অনেক MSRTC কর্মীদের মাসিক বেতন ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়া সরকারি মালিকানাধীন আন্তঃনগর বাস সার্ভিসের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় মাস ধরে ধর্মঘটের সময় তাদের কোনো আয় নেই বা ধর্মঘটের কোনো সুবিধা পাননি।
আদালত সদাবর্তের জন্য ৫০ হাজার টাকায় জামিন ধার্য করে।
পাওয়ারের সরকারী বাসভবন, সিলভার ওক, বোম্বে হাইকোর্টের ৭০,০০০ জনেরও বেশি MSRTC শ্রমিককে তাদের ধর্মঘট শেষ করতে হবে এবং ২২শে এপ্রিলের মধ্যে কাজে ফিরতে হবে, নইলে তাদের কর্মসংস্থান বাতিল করা হবে বলে র্কোট রায় দেওয়ার ঠিক একদিন পরে সেখানে একটি বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদের দৃশ্য ছিল।
ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় দাবি - যে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত MSRTC কে তাদের মজুরি, শর্তাবলী এবং বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য রাজ্য সরকারের সাথে একীভূত করতে হবে - যা আদালত কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
পাওয়ারের বাসভবনে প্রতিবাদকারী ধর্মঘটকারীদের গ্রেপ্তার এবং জেলে পাঠানো এবং সদাবর্তেকে, যে তৈরি করা 'ষড়যন্ত্র' অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, যা এমএসআরটিসি শ্রমিকদের ভয় দেখানো এবং তাদের ধর্মঘট ভাঙ্গার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় দমন অভিযানের অংশ।
দক্ষিণ মুম্বাইতে পাওয়ারের বাসভবনের বাইরে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ভারতের শ্রমিক শ্রেণী এবং শহুরে ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের গভীরতার কথা বলে, একটি মহামারী যা লক্ষ লক্ষ জীবন কেরে নিয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি যা শ্রমজীবী মানুষের উপর বিশাল বোঝা চাপিয়েছে।
MSRTC কর্মীরা বেসরকারীকরণ এবং ব্যয় সঙ্কোচ কঠোরতার একই কর্মসূচির বিরুদ্ধে লড়াই করছে যা ভারতের উগ্র ডানপন্থী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার এবং সমস্ত রাজ্য সরকার, যার মধ্যে বিরোধী দলগুলির নেতৃত্বে মহারাষ্ট্রের মতো সরকারও আছে যারা বহু মিলিয়ন ভারতীয় শ্রমিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে এটা প্রয়োগ করছে।
যাইহোক, ট্রেড ইউনিয়ন এবং 'বাম' দলগুলি - সর্বোপরি স্টালিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (সিপিআই) এবং তাদের নিজ নিজ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, সিআইটিইউ এবং এআইটিইউসি - MSRTC শ্রমিকদের বেসরকারিকরণ বিরোধী সংগ্রামে সমর্থন জোগাড় করার জন্য কিছুই করেনি। বরং একে বিচ্ছিন্ন ও নাশকতা করার জন্য তারা যা যা করার সবই করেছে।
প্রতিবাদকারী ধর্মঘটকারীরা এনসিপি নেতাকে তাদের দাবি সমর্থন করতে অস্বীকার করার জন্য, ঘৃণাভরে জুতা এবং চপ্পল ছুড়ে ক্রুদ্ধভাবে নিন্দা করেছিলেন। পাওয়ার কয়েক দশক ধরে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের স্থির হয়ে আছেন। তিনি বাস শ্রমিকদের সংগ্রামের প্রতি প্রতারণা পূর্ণ সহানুভূতি প্রকাশ করার পরে তাকে নিশানা করা হয়, যখন ইউনিয়ন এবং আদালতের সাথে যোগসাজিস করে শ্রমিকদের জোর করে কাজে ফিরতে বাধ্য করার চেষ্টা হচ্ছিল।
এনসিপি মহারাষ্ট্রর একটি জোট সরকারের অংশ হিসাবে শাসন করে যা ফ্যাসিবাদী শিবসেনার নেতৃত্বে রয়েছে এবং এতে কংগ্রেস পার্টিও রয়েছে, যেখান থেকে এনসিপি দুই দশকেরও বেশি আগে বিভক্ত হয়েছিল।
৮ই এপ্রিলের প্রতিবাদে ভারতের শাসক শ্রেণী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শরদ পাওয়ারের ভাগ্নে, অজিত পাওয়ার, যিনি একজন প্রবীণ এনসিপি রাজনীতিবিদ এবং মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী, জানতে চেয়েছিলেন কেন পুলিশ আগাম সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এনসিপি রাজনীতিবিদ দিলীপ ওয়ালসে-পাতিল 'গোয়েন্দা ব্যর্থতা' এবং 'উস্কানিদাতাদের' খোঁজার তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। তিক্ত নিন্দার মধ্যে একজন স্থানীয় পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সিলভার ওক প্রতিবাদের আতঙ্কিত প্রতিক্রিয়ার কোন ছোট ব্যাপার নয় কারণ শ্রীলঙ্কার পাক স্ট্রেট জুড়ে এমণ ঘটনা ছিল। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাক্ষের বাড়ির বাইরে একটি বিক্ষোভ দ্বীপে প্রায় ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিরুদ্ধে যা লক্ষ লক্ষ লোককে ধ্বংস করেছে।
মহারাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বাহিনী ৮ই এপ্রিলের প্রতিবাদ দমন করতে এবং সঠিক প্রতিশোধ নিতে দ্রুত অগ্রসর হয়। দাঙ্গার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ২৯ জন মহিলা সহ ১০৪ ধর্মঘটকারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাতে আরও ছয়জন ধর্মঘটকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছিল এবং গতকাল পর্যন্ত জামিন অস্বীকার করা হয়েছিল।
সদাবর্তে, আইনজীবী যিনি বোম্বে হাইকোর্টের সামনে ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাকে ৮ই এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল, যদিও তিনি পাওয়ারের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভেও উপস্থিত ছিলেন না। পরে ওই দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এখন তার বিরুদ্ধে দাঙ্গা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মিথ্যা অভিযোগুলি দ্রুত ব্যাবহার করা হয়েছে যাতে করে ধর্মঘট ভাঙ্গার জন্য ব্যাপক আক্রমণ করা যায়। ৯ই এপ্রিল, পুলিশ ধর্মঘটকারীদের মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানের স্পোর্টস গ্রাউন্ড থেকে 'উচ্ছেদ করে' যেখানে তারা গত নভেম্বর থেকে ক্যাম্প করে ছিল। ১১ই এপ্রিল ভারতের ফ্রি প্রেস জার্নাল রিপোর্ট করেছে, সাইবার পুলিশ ব্যবহার করা হচ্ছে 'কল ডেটা রেকর্ড এবং প্রতিবাদকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাটগুলি যাচাই করার জন্য, তারা কোন রাজনৈতিক দল বা সংস্থার দ্বারা প্ররোচিত হয়েছিল কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য।'
সদাবর্তের গ্রেফতার নিয়ে রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়। পরিবহন মন্ত্রী অনিল পরব, শিবসেনা নেতা যিনি বারবার অপরিহার্য পরিষেবা রক্ষণাবেক্ষণ আইন (ESMA) লাগু করার এবং ধর্মঘটকারীদের গণগ্রেপ্তার করার হুমকি দিয়েছেন, আইনজীবীকে প্রতিবাদের 'মাস্টারমাইন্ড' হিসাবে নিন্দা করেছেন।
রাজ্য কর্তৃপক্ষ সাদাবর্তের জামিনের বিরোধিতা করেছিল, যার বাড়িতে বিক্ষোভের দুই দিন পরে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। পাবলিক প্রসিকিউটর প্রদীপ ঘরা দাবি করেছেন যে কর্তৃপক্ষকে আরও তিনজন রাজ্য সরকারের মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে একটি 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্র' উদ্ঘাটনে সহায়তা করার জন্য আইনজীবীকে আটক করা উচিত।
প্রেস রিপোর্ট ইঙ্গিত করে যে জেলে বন্দী ধর্মঘটকারীদের মিথ্যা 'স্বীকারোক্তি' আদায় করার জন্য বারবার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
সাহসী মহারাষ্ট্র ধর্মঘটকারীদের উপর যে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল তা ৭ই এপ্রিল বোম্বে হাইকোর্টের রায়ের আসল উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করে। এর বহুল প্রশংসিত দাবি যে কোনও শ্রমিক যদি ২২শে এপ্রিলের মধ্যে কাজে ফিরে আসেন তবে ধর্মঘটে অংশগ্রহণের জন্য তিনি শিকার হবেন না, মিথ্যায় ভরা।
১২ই এপ্রিল এমএসআরটিসি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শেখর চান্নি ঘোষণা করেন, “আমরা হামলায় জড়িত কর্মী এবং গ্রেপ্তার করা কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।” তিনি অব্যাহত রেখেছিলেন, 'অধিকাংশ ধর্মঘটকারী এমএসআরটিসি কর্মী যারা হামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল তাদের (ধর্মঘটে) অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসাবে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড বা বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।'
ভারত জুড়ে এবং আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিকদের অবশ্যই মহারাষ্ট্রের ধর্মঘটকারী এবং তাদের আইনজীবীর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করার দাবি জানাতে হবে এবং ধর্মঘটের সময় তারা এবং হাজার হাজার MSRTC শ্রমিকদের নিঃশর্তভাবে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। ভারতীয় রাষ্ট্রে ধর্মঘটকারী নেতাদের বিরুদ্ধে হিংস প্রতিশোধের দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। ২০১৭ সালে, ভারতের আদালত প্রতিশোধমূলকভাবে ১৩ জন শ্রমিককে যারা মারুতি-সুজুকির হরিয়ানার মানেসার, কার অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে জঙ্গি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের সাজানো মিথ্যা অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে।
