বাংলা

শ্রীলঙ্কার ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের জন্য একটি সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি

নিম্নলিখিত বিবৃতিটি শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের মধ্যে সোশ্যালিষ্ট ইকোয়ালিটি পার্টি (SEP) দ্বারা প্রচার করা হচ্ছে যারা আজ রাজাপাক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে।

সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি (SEP) লক্ষ লক্ষ শ্রমিকদের সাথে দাঁড়িয়ে আছে যারা নিপীড়ক গোটাভায়া রাজাপাক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে আজ এক দিনের সাধারণ ধর্মঘট শুরু করেছে। রাষ্ট্রপতি রাজাপাক্ষে এবং তার সরকারের পদত্যাগের দাবিতে তারা কয়েক লক্ষ এই বিস্তৃত সংগ্রামে যোগ দিচ্ছে। আজকের এই সংগ্রামে সকল বন্দর, বিদ্যুৎ, ডাক, রেলওয়ে, পেট্রোলিয়াম, ব্যাঙ্ক ও রাজ্য প্রশাসনের কর্মচারী ও শিক্ষকরা অংশ নেবেন।

২০শে এপ্রিল কলম্বোতে রাষ্ট্রিয় ক্ষেত্রের কর্মীরা বিক্ষোভ করছে [WSWS মিডিয়া]

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় বৃদ্ধি এবং তীব্র ঘাটতির সম্মুখীন হয়ে শ্রমিক ও কৃষক জনসাধারণ সামাজিক বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে। রাজাপাক্ষে সরকার জনগণের জীবনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ভোগ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ করেছে এবং বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। রামবুক্কানায় জ্বালানির দাবিতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলিতে চামিন্দা লক্ষনের হত্যা, দেখায় যে সরকার জনগণের আন্দোলনকে রক্তে ডুবিয়ে দিতে প্রস্তুত।

সমস্যা থেকে উত্তরণে ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে আলোচনার মাধ্যমে আরও বেশি কঠোর ব্যবস্থা আরোপ করার জন্য রাজাপাক্ষে নির্বাহী রাষ্ট্রপতির কঠোর ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। সরকার ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার পর বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইএমএফ জোর দিয়েছে যে ট্যাক্স বাড়াতে হবে, দাম আরও বাড়াতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগগুলিকে বেসরকারীকরণ করতে হবে, যার ফলে চাকরি, মজুরি এবং পেনশন হ্রাস করা হবে।

গত দুই বছরে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট এবং এখন ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন-ন্যাটোর ছায়া যুদ্ধের সাথে ক্রমাগত আরও খারাপ হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় যা উদ্ভূত হয়েছে তা হল এই সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ।

তাদের সামাজিক অবস্থানের উপর আক্রমণকে পরাস্ত করার জন্য লক্ষ লক্ষ শ্রমিক আজ ধর্মঘট করছে যারা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি। একই সময়ে, গত তিন সপ্তাহ ধরে কলম্বোতে গালে ফেস গ্রিন এবং সারা দেশে প্রচারণায় জড়িত শ্রমজীবী লোকেরা একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

আজ ট্রেড ইউনিয়নগুলির স্লোগান “আসুন অত্যাচারী সরকারকে তাড়াই! আমরা গণসংগ্রামে জয়ী হই!” কিন্তু পরবর্তীতে কী হবে তা নিয়ে তারা মরণঘাতী নীরবতা বজায় রেখেছে। বাস্তবে, ইউনিয়নগুলি নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সামগী জনা বালাভেগয়া (এসজেবি) এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) এর প্রতিক্রিয়াশীল 'অন্তবর্তীকালীন প্রশাসনের' কর্মসূচিকে সমর্থন করে৷

ছদ্ম-বাম ফ্রন্টলাইন সোশ্যালিস্ট পার্টি (এফএসপি), এর ইউনিয়ন এবং ছাত্র সংগঠনগুলি এই ট্রেড ইউনিয়নগুলির সাথে সারিবদ্ধ হয়েছে।

ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল এবং সরকারকে নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মসূচি কী হবে? এটি হবে শ্রীলঙ্কায় পুঁজিবাদকে সমর্থন করার জন্য IMF দ্বারা নির্দেশিত কঠোর কঠোরতা কর্মসূচি। এই প্রতিষ্ঠিত দলগুলির কোনোটিরই কোন বিকল্প কর্মসূচি নেই। তাদের সবারই অতীতে আইএমএফের নির্দেশ বাস্তবায়ন করার রেকর্ড রয়েছে।

দীর্ঘ নীরবতার পরে, ট্রেড ইউনিয়নগুলি ঘোষণা করেছে যে তারা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সংগ্রামে যোগ দেবে, তবে তারা শ্রমিকদের বিরোধিতাকে বিরোধী দলগুলির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তা করে।

২০শে এপ্রিল কলম্বো ফোর্টে ব্যাঙ্ক কর্মীরা বিক্ষোভ করছে [WSWS Media]

এই সব ইউনিয়ন গত এক বছরে শ্রমিকদের ধর্মঘটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শিক্ষকদের ট্রেড ইউনিয়নগুলি সরকারের করুণ মজুরি প্রস্তাব গ্রহণ করে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষকদের ধর্মঘট বিক্রি করে দিয়েছে। ফেডারেশন অফ হেলথ প্রফেশনালস (FHP) স্পষ্টভাবে বলেছে যে এটি 'সদস্যদের জঙ্গিবাদকে বশে আনতে' ধর্মঘট ডাকছে। সিলন ওয়ার্কার্স কংগ্রেস সহ প্ল্যান্টেশন এর ইউনিয়নগুলি দরিদ্র বেতনভুক্ত প্ল্যান্টেশন শ্রমিকদের মজুরি সংগ্রামের সাথে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করার ডাক শ্রমিক শ্রেণীর জন্য একটি রাজনৈতিক ফাঁদ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিক ও দরিদ্রদের যে সামাজিক দুর্দশা তার কোনো সমাধান নেই।

*কি করা যাবে? SEP শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন এবং সমস্ত বুর্জোয়া দল থেকে স্বাধীন নিজস্ব অ্যাকশন কমিটি গঠনের আহ্বান জানাচ্ছে। সারা দেশে প্রতিটি কারখানা, কর্মক্ষেত্র এবং শ্রমিক-শ্রেণির এলাকায় এই কমিটিগুলো গড়ে তুলতে হবে। SEP তার রাজনৈতিক সহায়তা প্রসারিত করতে প্রস্তুত।

এসইপি স্বৈরাচারী নির্বাহী প্রেসিডেন্সির বিলুপ্তি এবং জননিরাপত্তা আইন, অপরিহার্য পরিষেবা আইন এবং সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইন সহ সকল দমনমূলক আইন বাতিলের দাবি জানায়।

IMF-এর কঠোরতা কর্মসূচির বিরুদ্ধে যা রাজাপাক্ষে সরকার এবং বিরোধী দলগুলি সকলেরই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়, আমরা একটি সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচী উপস্থাপন করেছি যা শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক সামাজিক চাহিদাগুলিকে বড় ব্যবসার লাভের চেয়ে এগিয়ে রাখে।

* জনজীবনের জন্য যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রয়োজনীয় পণ্য এবং অন্যান্য সংস্থানগুলির উত্পাদন এবং বিতরণ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে! ব্যাংক, বড় কর্পোরেশন, বড় এস্টেট এবং অন্যান্য বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলি জাতীয়করণ করতে হবে শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে! 

পুঁজিপতি শ্রেণী বিপুল মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন ও বন্টনের উপায়ে তার মালিকানাকে কাজে লাগায়। শ্রমিক শ্রেণীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয়তাগুলি সরবরাহ করার একমাত্র উপায় হল পুঁজিবাদীদের কাছ থেকে সেগুলি কেড়ে নেওয়া এবং তাদের সংহত করা যাতে বর্তমান নিপীড়ন ও দুর্দশার অবসান হয়।

* সব বৈদেশিক ঋণ অস্বীকার! আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ব্যয় হ্রাস কঠোরতার দাবি প্রত্যাখ্যান!

আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কগুলির কোষাগারে $ ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিবর্তে শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানী, ওষুধ এবং অন্যান্য পণ্যের জন্য অর্থ ব্যয় করা উচিত।

* বিলিয়নেয়ার এবং কর্পোরেশনগুলির বিপুল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করুন!

বিশ্ব বৈষম্যর তথ্যভান্ডার অনুসারে, শ্রীলঙ্কার সমাজের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশের কাছে দ্বীপের ৬৩.৮ শতাংশর বিশাল সম্পদ যেখানে নীচের দিকের ৫০ শতাংশের কাছে  মাত্র ৪.৩ শতাংশ। শ্রমিকশ্রেণীর দ্বারা সৃষ্ট এই বিপুল সম্পদ সামাজিক চাহিদা মেটাতে বাজেয়াপ্ত করে বিতরণ করা উচিত।

* দরিদ্র ও অতি দরিদ্র কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সকল ঋণ বিলোপ করুন! কৃষকদের জন্য সারে ভর্তুকিসহ সব ভর্তুকি পুনর্বহাল করুন! 

তাদের নিষ্পেষণকারী অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মুক্তির পথ প্রদানের মাধ্যমে, শ্রমিক শ্রেণী নিপীড়িত গ্রামীণ জনসাধারণ এবং ছোট ব্যবসাদারদের কাছে একটি আকর্ষণের মেরু হয়ে উঠবে যারা উচ্চ ঋণ, ব্যয়বহুল খরচার বোঝা বইছে এবং অর্থ যা তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে না।

* শালীন এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ সহ সকলের জন্য কাজের গ্যারান্টি! জীবনযাত্রার ব্যয় অনুসারে সূচক মজুরি!

আইএমএফ এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকাররা তাদের পথে থাকলে, চাকরি  তুষারপাতের মত ধ্বংস হবে। মুদ্রাস্ফীতি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে চলছে এবং মজুরি খেয়ে নিয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের হাতে ছেড়ে দেওয়া, চাকরি, মজুরি এবং শর্তগুলি আরও দর কষাকষি করা থেকে দূরে যেমনটি বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসছে।

এই কর্মসূচির জন্য লড়াই এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায় এবং শ্রমিক শ্রেণীকে তার সামর্থ্যের প্রতি আস্থার সাথে উদ্বুদ্ধ করবে, গ্রামীণ জনসাধারণকে তার দিকে টেনে আনবে এবং অ্যাকশন কমিটির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণীর জন্য সাংগঠনিক ভিত্তি প্রদান করবে একটি শ্রমিক ও কৃষকের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সমাজের সমাজতান্ত্রিক পুনর্গঠন শুরু করার জন্য ।

শ্রমিক ও দরিদ্ররা আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের বন্ধু হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণী যারা একই ধরনের হামলার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমেছে। এই সংগ্রামে শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা।

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ ফোর্থ ইন্টারন্যাশনাল (ICFI) কর্তৃক সূচিত র‌্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটির ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স অফ র‍্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটির (IWA-RFC) সাথে যোগ দিয়ে শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের সংগ্রামকে বৈশ্বিক কর্পোরেশন, ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির আধিপত্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে পরিণত করা যেতে পারে।

এই প্রোগ্রামে লড়াই করার জন্য SEP এর সাথে যোগ দিতে যোগাযোগ করুন বা এই 0773562327 নম্বরে এসএমএস পাঠান।

সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, বৈশ্বিক মহামারী এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীকে একত্রিত করার জন্য সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বিশ্ব পার্টি ICFI (সোমবার, 2 মে, শ্রীলঙ্কার সময় 12.30a.m) আয়োজিত আন্তর্জাতিক অনলাইন মে দিবসের সমাবেশের জন্য রেজিষ্টার করুন৷

Click on this link: https://www.wsws.org/en/special/pages/international-mayday-online-rally-2022.html

Loading