এই রবিবার, ১লা মে, রাত্রি ১২.৩০ মিঃ ভারতীয় সময়(ET-3pm), চতুর্থ আন্তর্জাতিকের আন্তর্জাতিক কমিটির (ICFI) অনলাইন মে দিবস এর সভা অসাধারণ সংকটের পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে পালন করবে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সাথে মার্কিন/ন্যাটোর ছায়া যুদ্ধ বিশ্বকে বিশ্বযুদ্ধ এবং পারমাণবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। ন্যাটো শক্তিগুলি একটি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সমস্ত প্রচেষ্টাকে নাশকতা করেছে। বাইডেন প্রশাসন যুদ্ধে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ঢেলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে সংঘর্ষের ব্যাপক বৃদ্ধি করে চলেছে।
করোনাভাইরাস মহামারী, এখন তার তৃতীয় বছরে, বিশ্বব্যাপী ২০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছে। পুঁজিবাদী সরকারগুলি মহামারী শেষ হয়েছে ঘোষণা করেছে যখন বিশ্বজুড়ে নতুন রূপগুলি ছড়িয়ে পড়ছে এবং ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করার লক্ষ্যে যা সমস্ত বিধিনিষেধ ছিল তার অবসান ঘটিয়েছে । বিশ্বের ব্যাঙ্ক এবং কর্পোরেশনগুলি চীনের জিরো কোভিড নীতি শেষ করার জন্য প্রচুর চাপ দিচ্ছে, যা আরও লক্ষাধিক মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে। ভাইরাসের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার নতুন, আরও মারাত্মক রূপের ঝুঁকি তৈরি করে যা ভ্যাকসিনগুলিকে অকার্যকর করে তুলতে পারে।
করোনভাইরাস মহামারী চলাকালীন, বিশ্বের শাসক গোষ্ঠী বিপুল পরিমাণে সম্পদের স্থানান্তর করেছে, অভূতপূর্ব অর্থ মজুত করেছে এবং কয়েক বিলিয়ন মানুষকে আরো দারিদ্র্যের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে ঋণে স্তূপে পরিণত করার পর, IMF এবং বিশ্বব্যাংক এমন নির্মম পুনর্গঠন কর্মসূচির দাবি করছে যা সামাজিক ব্যয় কমিয়ে দেবে এবং মানুষের গভীর কষ্টের কারণ হবে এবং শ্রেণী সংগ্রামকে তীব্রতর করবে। পুঁজিবাদী বাজারগুলি গভীরভাবে অস্থির, পণ্যের দাম বাড়ছে এবং সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের দ্বারা রাশিয়ার উপর আরোপিত যুদ্ধ নিষেধাজ্ঞা কয়েক মিলিয়ন মানুষকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উন্নয়নশীল বিশ্বে, পূর্ব ইউরোপ সেখানকার খাদ্যভান্ডার থেকে খাদ্য ও সার রপ্তানিতে ক্ষতির মানে ব্যাপক অনাহার দিগন্তে অপেক্ষা করছে। উন্নত দেশগুলিতে, মূল্য বৃদ্ধি মানে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ বেঁচে থাকার বা দারিদ্র্যের বাইরে থাকার জন্য লড়াই করছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মজুরিকে হ্রাস করেছে।
৩০০ মিলিয়ন মানুষ যারা সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, দারিদ্র্য, একনায়কত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। যারা ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার পথে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেয়েছে তারা এই 'গণতন্ত্রের' দেশগুলিতে নৃশংস দমন, আটক, অপরাধীকরণ এবং নির্বাসনের সম্মুখীন হয়েছে।
দেশ থেকে দেশে, শাসক শ্রেণীর শক্তিশালী অংশগুলি শ্রমিক শ্রেণীর সামাজিক বিরোধিতাকে দমন করতে ফ্যাসিবাদ ও একনায়কত্বের দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীনভাবে রয়েছেন যদিও স্বৈরাচারী অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা অসম্ভব। ফ্রান্সে, মেরিন লে পেন দেশের ইতিহাসে ফ্যাসিবাদী প্রার্থী হিসাবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। অতি-ডানপন্থীদের বৃদ্ধি এবং একনায়কতান্ত্রিক শাসনের দিকে শাসক শ্রেণীর পদক্ষেপ একটি আন্তর্জাতিক ঘটনা যা থেকে কোনো অঞ্চলই মুক্ত নয়।
একই দ্বন্দ্ব যা যুদ্ধ এবং প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় তা সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং তার প্রয়োজনীয়তাকেও প্রদর্শন করে।
সারা বিশ্বে, প্রতিটি জাতি ও দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক পুঁজিবাদের অধীনে জীবনের অসহনীয় অবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও ধর্মঘট করছে। এই ক্রমবর্ধমান আন্দোলন যুদ্ধ বন্ধ করার এবং আর্থিক অভিজাত শ্রেণীর হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে যাদের অব্যাহত শাসন বিশ্বকে ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, পেরু, ইরাক, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, সুদান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, স্পেন, তুরস্ক, ফিনল্যান্ড এবং আরও অনেক দেশে, জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন বা ধর্মঘটের তরঙ্গ বেড়ে চলেছে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদী নিষেধাজ্ঞার কারণে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স সহ যেসব দেশের সরকার যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিল সেইসব দেশেই এখন শক্তিশালী ধর্মঘট আন্দোলন গড়ে উঠছে।
এই ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের দরকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব। অনলাইন মে দিবস এর সভা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সারা বিশ্বের শ্রমিকদের একত্রিত করবে এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সংকটের বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক সমাধানের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে।
আমরা বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক ওয়েব সাইটের সমস্ত পাঠকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সভার জন্য রেজিষ্টার করতে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং আপনার সহকর্মীদের মধ্যে এটিকে ব্যাপকভাবে প্রচার করার জন্য অনুরোধ করছি।
২০২২ সালের মে দিবসের অনলাইন সমাবেশের দিকে এগিয়ে চলুন!
