সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি (এসইপি) গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতি গোটাভায়া রাজাপাকসের জরুরি অবস্থা ঘোষণার নিন্দা করে এবং অবিলম্বে এর সমাপ্তির দাবি জানায়।
জরুরি অবস্থার ঘোষণাটি শ্রমিক শ্রেণীকে দমণ করার জন্য এবং আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ঘাটতির ফলে সৃষ্ট হওয়া সামাজিক দুর্দশার কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের জন্য শ্রমজীবী মানুষের মাসব্যাপী যে সংগ্রাম তার অবসান ঘটানোর প্রস্তুতির জন্য।
২৮শে এপ্রিল ও ৬ই মে একদিনের সাধারণ ধর্মঘটে শ্রমিক শ্রেণী এই দাবিগুলোর জন্য সংগ্রামে তার বিশাল সামাজিক শক্তি প্রদর্শন করেছে। গত শুক্রবার, স্ব-কর্মসংস্থানকারী, গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ, জেলে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সম্মিলিতভাবে এই সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল-এ যোগ দিয়ে পুরো দ্বীপের অর্থনীতি বন্ধ করে দেয়।
ধর্মঘট ও হরতাল শাসক শ্রেণী এবং সমগ্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে আতঙ্কিত করেছিল-সরকার ও বিরোধী দল-সহ ধর্মঘট ডাকা ট্রেড ইউনিয়নগুলিকেও।
গত শুক্রবারের ধর্মঘটের প্রতি রাজাপাক্ষের প্রতিক্রিয়া ছিল অবিলম্বে জরুরি অবস্থা জারি করে ইতিমধ্যে তার ব্যাপক কর্তৃত্ববাদী নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় হিসাবে । জরুরী আইনের অধীনে, তিনি ওয়ারেন্ট ছাড়াই লোকেদের গ্রেপ্তার করতে, ধর্মঘট, বিক্ষোভ এবং সভা নিষিদ্ধ করতে, কারফিউ এবং মিডিয়া সেন্সরশিপ আরোপ করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করতে সামরিক ও পুলিশ মোতায়েন করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সকল ছুটি বাতিল করে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২৬ বছর ধরে তামিল-বিরোধী সাম্প্রদায়িক যুদ্ধের সময় গড়ে তোলা সামরিক বাহিনী দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যে মাথাপিছু হিসাবে বৃহত্তম এবং এটি ব্যাপকভাবে এর রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। গত দুই বছরে, রাজাপাক্ষে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বেসামরিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন।
রাজাপাক্ষের দাবি যে তিনি 'সম্প্রদায়ের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ এবং পরিষেবাগুলি' বজায় রাখার জন্য জরুরী ক্ষমতার প্রয়োগ করেছেন তা একটি নগ্ন মিথ্যা। তার শাসন ব্যাবস্থা এবং পুঁজিবাদী শ্রেণী ইতিমধ্যেই 'সম্প্রদায়ের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ এবং পরিষেবাগুলি' সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত করেছে, যা শ্রমিক এবং দরিদ্রদের জন্য অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
যেখানে রাজাপাক্ষে সরকার সামরিক বাহিনীকে সংগঠিত করছে, ট্রেড ইউনিয়নগুলো শ্রমিক শ্রেণীকে ধ্বংস করছে। গত শুক্রবারের ধর্মঘট ও হরতালের 'অপ্রত্যাশিত সাফল্য' বলে তারা যা বলেছিল তাতে স্পষ্ট যে তাঁরা কাঁপছে এবং সরকারের সাথে সংঘর্ষের ভয়ে, ইউনিয়নগুলি আগামী বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অনির্দিষ্টকালের সাধারণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে এবং তার পরিবর্তে মামুলি বিক্ষোভ - প্রতিদিন দুপুরে খাবার সময়কালে - শ্রমিক সমাবেশ।
রাষ্ট্রপতি ও সরকার পদত্যাগ না করলে ১৭ই মে জাতীয় সংসদ অভিমুখে মিছিল করবে এবং সমাধানের দাবি জানাবে। তাদের সমাধান, যেমনটি তারা ইতিমধ্যেই বলেছে, বিরোধী পুঁজিবাদী দলগুলি-প্রধানত সমগী জনা বালাওয়েগয়া (SJB) এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (JVP)- দ্বারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা, সাথে পরবর্তীতে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷
এটি শাসক শ্রেণীর জন্য একটি সমাধান শ্রমিক শ্রেণীর জন্য নয়। সমস্ত সংসদীয় দল-সরকার এবং বিরোধী দল-জরুরিভাবে সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য অর্থ পাবার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কঠোর নির্দেশ আরোপ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেমন অর্থমন্ত্রী আলি সাবরি ঘোষণা করেছেন: 'এটি আরও ভাল হওয়ার আগে এটি আরও খারাপ হতে চলেছে… সামনের কয়েক বছর এটি বেদনাদায়ক হতে চলেছে।'
সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি (SEP) এই সপ্তাহের সাধারণ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ট্রেড ইউনিয়নগুলির বিশ্বাসঘাতক সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছে। এটি কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতি রাজাপাক্ষেকে সামরিক বাহিনী একত্রিত করার সময় করে দেবে অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির সাথে বন্ধ দরজার আড়ালে মিলিত হবেন। তিনি SJB নেতা সজিথ প্রেমাদাসাকে প্রধানমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব দিয়েছেন, যিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন কিন্তু ঘোষণা করেছেন যে তার দল বাইরে থেকে একটি অন্তর্বর্তী শাসনকে সমর্থন করবে।
ট্রেড ইউনিয়নের হাতে ছেড়ে দিলে শ্রমিক শ্রেণীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। এই একই ইউনিয়নগুলি গত দুই বছরে শ্রমিকদের-স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষক সহ--এর প্রতিটি সংগ্রামকে বিক্রি করে দিয়েছে। ফেডারেশন অফ হেলথ প্রফেশনালের নেতৃবৃন্দ, রবি কুমুদেশ এবং সামান রত্নপ্রিয়া, প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে তারা তাদের সদস্যদের ধর্মঘট এবং বিক্ষোভে ডাক দিয়েছেন শ্রমিকদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে নয়, বরং 'তাদের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করতে'।
রাজাপাক্ষের সামরিক দমন-পীড়নের হুমকিকে পরাস্ত করতে এবং শ্রেণীস্বার্থে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য লড়াই করতে শ্রমিক শ্রেণীর মুখোমুখি হওয়া জরুরি কাজটি হল স্বাধীনভাবে তার শক্তিকে একত্রিত করা।
SEP শ্রমিকদের অবিলম্বে তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অ্যাকশন কমিটি গঠন করার আহ্বান জানায়, ট্রেড ইউনিয়ন এবং পুঁজিবাদী দলগুলি যাদের সাথে তারা আবদ্ধ তাঁদের থেকে স্বাধীনভাবে, প্রতিটি কারখানা এবং কর্মক্ষেত্রে, বাগানে এবং শ্রমিক-শ্রেণির শহরতলিতে এবং শহরে।
SEP অ্যাকশন কমিটি গঠনে সহায়তা করতে প্রস্তুত, যেমনটি আমরা ইতিমধ্যেই চা বাগান এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের মধ্যে করেছি। আমরা শ্রমিক ও যুবকদের আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।
আমরা একমত যে রাষ্ট্রপতি রাজাপাক্ষে এবং তার সরকারকে যেতে হবে, তবে এটিই যথেষ্ট নয়।
- SEP কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি বিলুপ্তির দাবি করে, যা এখন সামরিক-সমর্থিত রাষ্ট্রপতির একনায়কতন্ত্র প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- SEP সকল দমনমূলক আইন বাতিলের দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক সিকিউরিটি অ্যাক্ট যা রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা চালু করার ক্ষমতা দিয়েছে; অত্যাবশ্যকীয় পাবলিক সার্ভিস আইন যা শিল্প শ্রমিকদের দবী-দাওয়াকে অপরাধীকরণ করতে ব্যবহৃত হয়; এবং সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইন যা নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং বিচার ছাড়াই দীর্ঘায়িত সময় আটকে রাখতে সক্ষম করে তাকেও যেতে হবে।
শ্রীলঙ্কায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পুঁজিবাদের গভীর সংকটের মধ্যে শাসক শ্রেণী শ্রমজীবী মানুষের উপর বিশাল নতুন বোঝা চাপিয়ে তাদের মুনাফা ও সম্পদ রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। সামাজিক প্রয়োজনের জন্য লড়াই করতে শ্রমিক শ্রেণীর প্রয়োজন রাজনৈতিক কর্মসূচি যার ভিত্তি সমাজতান্ত্রিক এবং আন্তর্জাতিকতাবাদী নীতি।
SEP অ্যাকশন কমিটির রাজনৈতিক ও শিল্প সংগ্রামের ভিত্তি হিসাবে নিম্নলিখিত দাবিগুলি প্রস্তাব করে:
- জনগণের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রয়োজনীয় পণ্য ও সম্পদের উৎপাদন ও বন্টনের উপর শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ! ব্যাংক, বড় কর্পোরেশন, প্ল্যান্টেশন এবং অন্যান্য প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলির জাতীয়করণ!
পুঁজিপতি শ্রেণী বিপুল মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন ও বন্টনের উপায়ে তার মালিকানাকে কাজে লাগায়। শ্রমিকশ্রেণীর প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের একমাত্র উপায় হল পুঁজিপতিদের হাত থেকে তাদের সেগুলিকে নিয়ে নেওয়া এবং সম্পদের একটি তালিকা তৈরি করা যাতে করে সেগুলি দিয়ে বর্তমান কষ্ট ও দুর্দশার অবসান ঘটানো যায়।
- সব বৈদেশিক ঋণ প্রত্যাখ্যান! আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কঠোরতার দাবিকে না!
রাজাপাক্ষে সরকার তার কঠোর ব্যয় হ্রাসমূলক ব্যবস্থাকে ন্যায্যতা দেয় যাতে করে বিশ্বব্যাপী ব্যাংকারদের কয়েক বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা যায়। শ্রমিক শ্রেণী এই ঋণ জমা করেনি এবং পরিশোধ করতে অবশ্যই তাঁদের বাধ্য করা উচিত নয়। শোধের জন্য যে অর্থ তা খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি সাশ্রয়ী মূল্যে শ্রমজীবী মানুষের জন্য উপলব্ধ করতে ব্যবহার করা উচিত।
- বিলিয়নেয়ার এবং কর্পোরেশনের বিপুল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করুন!
বিশ্ব বৈষম্যর তথ্যভান্ডার অনুসারে, ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশের কাছে দ্বীপের মোট সম্পদের ৬৩.৮ শতাংশ ছিল যেখানে নীচের ৫০ শতাংশের কাছে ছিল মাত্র ৪.৩ শতাংশ। এই বিশাল সম্পদ যা শ্রমিক শ্রেণীর দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে তা অবশ্যই সামাজিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং বিতরণ করতে হবে।
- দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, জেলে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সকল ঋণ মুকুব করুন! কৃষকদের সার এর ভর্তুকিসহ সব ভর্তুকি পুনর্বহাল করুন!
তাদের নিষ্পেষণকারী অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মুক্তির পথ প্রদানের মাধ্যমে, শ্রমিক শ্রেণী নিপীড়িত গ্রামীণ জনসাধারণ এবং ছোট ব্যবসারদের জন্য একটি আকর্ষণের মেরু হয়ে উঠবে যারা উচ্চ ঋণ, ব্যয়বহুল খরচা এবং মূল্যের দ্বারা বোঝার চাপে যা তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে না।
- শালীন এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ সহ সকলের জন্য কাজের নিশ্চয়তা!
IMF এর পথে চলতে থাকলে চাকরি তুষারপাতের মত ধ্বংস হবে। ট্রেড ইউনিয়নের হাতে ছেড়ে দেওয়া, চাকরি, মজুরি এবং শর্তগুলি আরও দর কষাকষি থেকে দূর হবে যেমনটি বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসছে।
- জীবনযাত্রার ব্যয় সূচক মজুরি!
মুদ্রাস্ফীতির দ্রুত বৃদ্ধি-বছর থেকে বছরের ভিত্তিতে এই এপ্রিলে প্রায় ৩০ শতাংশ- যা ইতিমধ্যেই মজুরি খেয়ে ফেলেছে। এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৪৬.৬ শতাংশে আঘাত হানে এবং অনেক শ্রমিক তাদের পরিবারকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়াতে অক্ষম। অতীতের ক্ষতি পূরণের জন্য অবিলম্বে মজুরি বৃদ্ধি করুন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য মাসিক সূচক ভিত্তিতে মজুরি প্রদান।
- বিনামূল্যে শিক্ষা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা সহ সামাজিক কর্মসূচিতে কয়েক বিলিয়ন বরাদ্দ করুন, যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য উচ্চমানের পরিষেবার নিশ্চয়তা!
একের পর এক সরকারগুলি জনশিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা তহবিলকে অনাহারে রেখে সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সম্প্রসারণে অর্থ যোগান দিয়ে গেছে তাঁদেরকে এখন গণবিক্ষোভ আন্দোলনকে দমন করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ট্রেড ইউনিয়নের বিশ্বাসঘাতকতা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন থেকে শ্রমিক শ্রেণীকে রক্ষা করার জন্য, রাজাপাক্ষে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এবং শ্রমজীবী জনগণের অধিকারগুলিকে অতি ধনীদের মুনাফার চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম সংগঠিত করতে অ্যাকশন কমিটিগুলির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শ্রমিক - সিংহল, তামিল এবং মুসলিম - সবাই তাদের সাধারণ শ্রেণী স্বার্থের ভিত্তিতে গত শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দেয়। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও বিদ্বেষপূর্ণ ব্যাবহারের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণীকে বিভক্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করতে হবে।
এই রাজনৈতিক সংগ্রাম অনিবার্যভাবেই প্রশ্ন তোলে কোন শ্রেণী শাসন করবে। আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে একটি পুঁজিবাদী সরকার - রাজাপাক্ষের শাসন বা অন্তর্বর্তী সরকার - আন্তর্জাতিক অর্থ পুঁজির দাবি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য কিছুতেই থামবে না এবং যে কোনও বিরোধকে দমন করার জন্য সামরিক দমন-পীড়ন করতে দ্বিধা করবে না।
দ্বীপ জুড়ে স্বাধীন অ্যাকশন কমিটি প্রতিষ্ঠা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সংগ্রামের বিকাশ গ্রামীণ জনগণের সমর্থন অর্জন করবে এবং সমাজতান্ত্রিক নীতির সাথে সমাজের পুনর্গঠনের জন্য একটি শ্রমিক ও কৃষক সরকারের ভিত্তি স্থাপন করবে।
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের কোনো জাতীয় সমাধান নেই। এটি COVID-19 মহামারী এবং এখন ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন-ন্যাটোর ছায়া যুদ্ধের দ্বারা দ্রুতভাবে তীব্র হতে থাকা গভীরতর বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদ সংকটের অংশ।
সারা বিশ্বের শ্রমিকরা একই ধরনের হামলার সম্মুখীন হচ্ছে। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে যৌথ সংগ্রামের জন্য শ্রীলঙ্কার শ্রমিক শ্রেণীকে ভারতে এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বে তার শ্রেণী ভাই বোনদের দিকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
অ্যাকশন কমিটি গঠনের মাধ্যমে, শ্রীলঙ্কার শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স অফ র্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটি (IWA-RFC) তে যোগদান করে সারা বিশ্বের শ্রমিকদের সাথে তাদের সংগ্রামের সমন্বয় করতে পারে, যা ফোর্থ ইন্টারন্যাশনালের ইন্টারন্যাশনাল কমিটি দ্বারা চালু করা হয়েছে।
সর্বোপরি শ্রীলঙ্কাতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে একটি বিপ্লবী নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজন। আমরা শ্রমিক ও যুবকদের ICFI-এর শ্রীলঙ্কা শাখা SEP-তে যোগদান করার জন্য এবং সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একে গণ পার্টি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।
