বাংলা

শ্রীলঙ্কা: জীবন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বাধীন অ্যাকশন কমিটি গঠন করুন!

সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি, চতুর্থ আন্তর্জাতিকের আন্তর্জাতিক কমিটির শ্রীলঙ্কা শাখা, ১০ই মে সিংহলি এবং তামিল ভাষায় নিম্নলিখিত বিবৃতি জারি করেছে। আগের দিন, রাজাপাক্ষে সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কলম্বো শহরের কেন্দ্রস্থলে গুন্ডা লাগিয়ে হিংসতা চালানোর পরে দ্বীপ জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হামলা বুমেরাং হয়। ডাক, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত ওয়াকআউট ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাধারণ ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য করে এবং প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি গোটাভায়া রাজাপাক্ষের ভাই, মাহিন্দা রাজাপাক্ষে পদত্যাগ করেন।

বিবৃতিতে বিশদভাবে বলা হয়েছে, SEP প্রেসিডেন্ট রাজাপাক্ষে এবং সেনাবাহিনীর দ্বারা গণসরকার বিরোধী বিক্ষোভকে হিংসভাবে দমন করার জন্য চলমান প্রস্তুতির বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীর স্বাধীন রাজনৈতিক সংহতির জন্য লড়াই করছে, এবং 'অন্তর্বর্তীকালীন' সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণকে প্রতারণা করার সমান্তরাল প্রচেষ্টা চলছে,যার মধ্যে বিরোধী দলগুলিও আছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কৃচ্ছ্রতা আরোপ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধতায় কোনো খামতি নেই।

শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারীরা শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ধর্মঘটের সময় একটি প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেয়।২৮শে এপ্রিল, ২০২২, বৃহস্পতিবার, (এপি ফটো/এরঙ্গা জয়াবর্ধন)

সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি (SEP) গল ফেস গ্রিনে শিবিরে থাকা নিরস্ত্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উপর ক্ষমতাসীন শ্রীলঙ্কা পোডুজানা পেরামুনা’র (SLPP) গুণ্ডাদের দ্বারা সোমবারের নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানায়৷ এসইপি শ্রমিক শ্রেণীর কাছে আহ্বান জানায় শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বাধীনভাবে হস্তক্ষেপ করতে।

সরকারের সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর কঠোর হামলা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতি এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির কারণে অসহনীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া এবং প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শ্রমিক, যুবক ও গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্ষোভে নেমেছে এই দাবিতে যে প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাক্ষে ও তার সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

সোমবারের গুন্ডা হামলা এই সংগ্রামে জনসাধারণের মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, জনগণের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পরিষেবা সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের নিরাপত্তা এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে শ্রমিক শ্রেণীকে স্বাধীনভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

এসইপি শ্রমিকদের এবং গ্রামীণ ও শহরে্র মেহনতী মানুষদের প্রতিটি কারখানাতে, কর্মক্ষেত্র, চা বাগানগুলিতে এবং শ্রমিক-শ্রেণির এলাকাগুলিতে ট্রেড ইউনিয়ন থেকে স্বতন্ত্র হয়ে তাদের নিজস্ব অ্যাকশন কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। এসইপি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য কর্মী, চা বাগানের শ্রমিক, শিক্ষক, শিল্পী এবং অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে এই জাতীয় অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছে। এটি শ্রমিকদের এবং নিপীড়িত জনসাধারণকে সহায়তা করবে যারা অ্যাকশন কমিটিগুলিকে বিস্তৃত করতে এবং সারা দেশে তাদের সংগঠিত করার পদক্ষেপ নেবে।

অপরিহার্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য অ্যাকশন কমিটির এই নেটওয়ার্কের সাথে, এসইপি জোর দেয় যে সরকারী গুন্ডাদের আক্রমণ থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা কমিটি এবং প্রতিরক্ষা রক্ষীদের অবশ্যই গড়ে তোলা উচিত।

গালে ফেস গ্রিন-এ একটি প্রতিবাদ শিবিরে ডানপন্থী গুণ্ডাদের হামলা [ছবি: ফেসবুক] [Photo: Facebook]


গালে ফেস প্রতিবাদের জায়গায় গুন্ডাদের অবাধে আক্রমণ চালানোর অনুমতি দিয়ে, পুলিশ আবারও দেখিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ যারা এই পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের অংশ তাঁদের কাছে শ্রমিক শ্রেণী, যুবক এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য কোনও নিরাপত্তা নেই। রামবুক্কানায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলি চালনায় চামিন্দা লক্ষন এর হত্যা এবং আরও কয়েক ডজন মানুষের আহত হওয়ার মধ্যে দিয়ে পুলিশের আসল কাজটি প্রদর্শিত হয়েছিল।

মৌলিক প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য, শ্রমিক শ্রেণী সরকার ও তার আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ট্রেড ইউনিয়নগুলিতে যেন বিশ্বাস না রাখে। প্রতিবাদ আন্দোলনের শুরু থেকেই ট্রেড ইউনিয়নগুলো শ্রমিক শ্রেণীর স্বাধীন হস্তক্ষেপে বাধা দিয়েছে। শ্রমিকদের প্রচণ্ড চাপের কারণে তারা ২৮শে এপ্রিল এবং ৬ই মে- দুটি সাধারণ ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হয়।

৬ই মে সাধারণ ধর্মঘটের পরে অবশ্য, ট্রেড ইউনিয়নগুলি ১১ই মে থেকে শুরু হতে যাওয়া একটি অনির্দিষ্টকালের সাধারণ ধর্মঘট এবং হরতাল-সাধারণভাবে ছোট ব্যবসাও বন্ধ থাকে – তা বাতিল করে এবং প্রতিবাদ আন্দোলনের বিরুদ্ধে গুণ্ডা হামলার প্রস্তুতি নিতে সরকারকে উত্সাহিত করেছিল। এখন ইউনিয়নগুলি সোমবার সন্ধ্যা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কারণ ন্যাশনাল হাসপাতাল এবং ডাক বিভাগ সহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকরা ইউনিয়নের বাইরে গিয়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করেছে।

শ্রমিক, যুবক ও দরিদ্রদের যে অসহনীয় সামাজিক অবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তা কোনো পুঁজিবাদী সরকারের অধীনে দূর হবে না। সরকারের মতোই, জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) এবং ছদ্ম-বাম ফ্রন্টলাইন সোশ্যালিস্ট পার্টি (এফএসপি) সহ সমস্ত পুঁজিবাদী দলগুলি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দ্বারা দাবিকৃত দূষিত শ্রম-বিরোধী কঠোরতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।.

এমতাবস্থায় শ্রমজীবী জনগণ তাদের সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার জন্য পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামতে বাধ্য হবে। এই ধরনের সংগ্রাম তখনই সফল হবে যদি এর রাজনৈতিক ও বাস্তব প্রস্তুতি শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে হয়। এটি শ্রমিকদের অ্যাকশন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরী তা দেখায়।

অ্যাকশন কমিটি হল একটি সাংগঠনিক রূপ যেখানে শ্রমিক এবং দরিদ্ররা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে, গণতান্ত্রিকভাবে যেকোনো সাম্প্রদায়িক বা ভাষাগত বিভাজনকে সরিয়ে রেখে। এটি বুর্জোয়া শাসনের বিকল্প হিসেবে শ্রমিক ও কৃষকদের সরকার গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। প্রগতিশীল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়াই ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যেমন সোমবার রাতে সম্পত্তি ধ্বংসের দিকে পরিচালিত করেছে, তা শুধুমাত্র সরকারের হাত এবং প্রতিক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।

যদিও পুঁজিবাদ জনগণের চাহিদা পূরণে তার সম্পূর্ণ অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে গঠিত অ্যাকশন কমিটির একটি নেটওয়ার্ক সকলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয়তা সরবরাহ করতে সংগঠিত হতে পারে। গ্রামীণ অ্যাকশন কমিটিগুলি দরিদ্র কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করতে পারে, ফসল তোলার নির্দেশ দিতে পারে, স্টোরেজ সুবিধা প্রদান করতে পারে এবং দাম নির্ধারণ করতে পারে।

৭ই এপ্রিল জারি করা SEP বিবৃতিতে নিম্নলিখিত নীতিগুলির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে:

জনসাধারণের চাপের চাহিদা পূরণের জন্য অ্যাকশন কমিটিগুলির কাজকে উদ্দিপ্ত করার জন্য আমরা নিম্নলিখিত কর্মসূচি এবং নীতিগুলি প্রস্তাব করছি:

  • মানুষের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং অন্যান্য সম্পদের উৎপাদন ও বন্টনের উপর শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ! ব্যাংক, বড় কর্পোরেশন, চা বাগান এবং অন্যান্য প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলির জাতীয়করণ!

পুঁজিপতি শ্রেণী বিপুল মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন ও বন্টনের উপায়ে তার মালিকানাকে কাজে লাগায়। শ্রমিকশ্রেণীর প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের একমাত্র উপায় হল পুঁজিপতিদের হাত থেকে সেগুলি তাদের হাতে নিয়ে নেওয়া এবং সম্পদের একটি তালিকা তৈরি করা যাতে সেগুলি ব্যাবহার করা যায় তাদের বর্তমান যন্ত্রনা ও দুর্দশার অবসান ঘটাতে।

  • সব বৈদেশিক ঋণ অস্বীকার! আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দাবীকৃত সামাজিক ব্যয় হ্রাসকে না!

রাজাপক্ষে সরকার তার সামাজিক ব্যয় হ্রাস ব্যবস্থার জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যাংকারদের বিলিয়ন ডলার পরিশোধের প্রয়োজনীয়তাকে দায়ী করে। বিরোধী দলগুলোও একমত। আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কের কোষাগারে এই বছরের বকেয়া US7 বিলিয়ন ডলার দেবার পরিবর্তে, এটি শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানী, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলির জন্য অর্থ প্রদানের কাজে ব্যবহার করা উচিত।

  • বিশাল ধনীদের এবং কর্পোরেশনগুলির বিপুল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে!

বিশ্ব বৈষম্য এর তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার সমাজের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশের কাছে দ্বীপের মোট সম্পদের ৬৩.৮ শতাংশ আছে যেখানে নীচের ৫০ শতাংশের কাছে মাত্র ৪.৩ শতাংশ। এই বিশাল সম্পদ যা শ্রমিক শ্রেণীর দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে তা অবশ্যই সামাজিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং বিতরণ করতে হবে।

  • দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সকল ঋণ বাতিল করো! কৃষকদের সারে ভর্তুকিসহ সব ভর্তুকি পুনর্বহাল করতে হবে!

তাদের নিষ্পেষণকারী অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মুক্তির পথ প্রদানের মাধ্যমে, শ্রমিক শ্রেণী নিপীড়িত গ্রামীণ জনসাধারণ এবং ছোট ব্যবসার ব্যাবস্থাপকদের কাছে একটি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবে যারা উচ্চ ঋণ, ব্যয়বহুল খরচ এবং মূল্য যা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে না তার বোঝার চাপে রয়েছে।

  • নিরাপদ কাজের পরিবেশ সহ সকলের জন্য কাজের নিশ্চয়তা! জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচক অনুসারে মজুরি!

আইএমএফ এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকাররা তাদের পথে থাকলে, চাকরি ধ্বংসের বিশাল স্তুপ হবে। মুদ্রাস্ফীতি ইতিমধ্যেই এমণ গতিতে অব্যাহত আছে এবং মজুরি খেয়ে নিয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের হাতে ছেড়ে দেওয়া, চাকরি, মজুরি এবং শর্তগুলি দর কষাকষি থেকে আরো দূরে যেমনটি বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসছে।

শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধরত শ্রমিকরা তাদের শ্রেণী ভাই বোনেদের মত একই অবস্থা ভাগ করে নেয় এবং তাঁদের শ্রেণী শত্রুও একই। বিশ্বজুড়ে শ্রেণী সংগ্রামের ক্রমবর্ধমান জোয়ার শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের সম্ভাব্য মিত্র এবং কারখানাতে, কর্মক্ষেত্র এবং অফিসে সর্বত্র সমর্থনের ভিত্তি।

এটিকে পুঁজিবাদের অবসান ঘটাতে বৈশ্বিক কর্পোরেশন, ব্যাঙ্ক এবং ফাইন্যান্স হাউসগুলির অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত সংগ্রামে পরিণত করা যেতে পারে। শ্রীলঙ্কায় নির্মিত অ্যাকশন কমিটিগুলির প্রয়োজন ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স অফ র‍্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটির (IWA-RFC) সাথে একত্রিত হওয়া, যেটি চতুর্থ আন্তর্জাতিকের আন্তর্জাতিক কমিটি (ICFI) দ্বারা চালু করা হয়েছে।

সোশ্যালিষ্ট ইকোয়ালিটি পার্টিকেও অবশ্যই সতর্কতা জারি করতে হবে। রাজাপাক্ষের শাসন, ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া তার পূর্বসূরিদের মতো এবং তার বর্ণবাদী মিত্ররা সিংহল, তামিল এবং মুসলিম শ্রমিকদের জাতিগত লাইনে বিভক্ত করার মরিয়া প্রচেষ্টায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং সিংহল শাসনতন্ত্রের বিষ প্রয়োগ করবে। যাইহোক, সমস্ত শ্রমিক এবং দরিদ্ররা একই মরিয়া অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। শ্রীলঙ্কায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সকল প্রকার জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রত্যাখ্যান করা অপরিহার্য।

শ্রীলঙ্কায় একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব প্রয়োজন এবং তার জন্য একটি বিপ্লবী নেতৃত্ব অপরিহার্য। বিগত শতাব্দীর সমগ্র ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে একটি বিপ্লবী দল ছাড়া শ্রমিক শ্রেণীর সবচেয়ে জঙ্গী এবং দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ সংগ্রামগুলিও অনিবার্যভাবে পরাজিত হয়, যা প্রতিবিপ্লব ও বর্বর দমন-পীড়নের দ্বার উন্মোচন করে।

আমরা এই কর্মসূচীর সাথে একমত হওয়া শ্রমিক ও যুবকদের সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টিতে যোগদান করতে এবং এটিকে শ্রমিক শ্রেণীর গণ পার্টি হিসাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

Loading