শ্রীলঙ্কায় সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি’র (SEP) তৃতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৪-১৬ই মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বীপ জুড়ে দলের সদস্যরা এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল, যা বিদ্যমান COVID-19 মহামারীর কারণে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহামারী, রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন-ন্যাটোর ছায়া যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক স্তরে শ্রেণী সংগ্রামের উত্থান তীব্রতর হবার কারণে পুঁজিবাদের এক বিশাল বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে, শ্রীলঙ্কায় অসাধারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে SEP কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি গোটাভায়া রাজাপাক্ষের সরকার এবং সামগ্রিকভাবে শ্রীলঙ্কার বুর্জোয়া শাসন অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কটে নিমজ্জিত, রাজাপাক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শ্রমিক, যুবক এবং গ্রামীণ শ্রমজীবীদের সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ এবং ধর্মঘটের সন্মুখীন।
ডেভিড নর্থ, ডব্লিউএসডব্লিউএস এর আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং SEP (US) এর জাতীয় চেয়ারম্যান, কংগ্রেসে ভাষণ দেন, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য ফোর্থ ইন্টারন্যাশনাল (আইসিএফআই) এবং এসইপি (ইউএস) এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। আইসিএফআই-এর অন্যান্য শাখাগুলিও কংগ্রেসকে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে, যা পাঠ করা হয়েছিল।
'সবচেয়ে অসাধারণ পরিস্থিতির' যার অধীনে কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে নর্থ বলেন: 'আমাদের দৃষ্টিতে, আপনারা শ্রীলঙ্কার মধ্যে অভূতপূর্ব একটি ভিন্ন মাত্রার রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে বিশ্ব পুঁজিবাদের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় সেই সংকট উদ্ভাসিত হচ্ছে।”
তিনি অব্যাহত রেখেছিলেন: 'এই কংগ্রেস যে মৌলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তা হল ঘটনাগুলির প্রতি IC-এর শ্রীলঙ্কা শাখার মনোভাবকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং অবশ্যই শ্রীলঙ্কার মধ্যেই বিকাশমান বিপ্লবী সংকটের প্রতি। অন্য অর্থে, আপনারা বর্তমানে যে কংগ্রেসটি করছেন তার সাথে ১৯১৭ সালের এপ্রিলে বলশেভিক পার্টির কংগ্রেসের সাথে অনেক মিল রয়েছে, প্রথম কংগ্রেস যেটি একটি বিপ্লবী সঙ্কটের মধ্যে লেনিনের রাশিয়ায় ফিরে আসার পরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একটি বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে, [বলশেভিক] পার্টির জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল একটি রাজনৈতিক অভিযোজন, রাজনৈতিক কর্মসূচী এবং দৃষ্টিভঙ্গি সংজ্ঞায়িত করা যা শ্রমিক শ্রেণীকে প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব প্রদান করে।'
নর্থ দেখান যে বলশেভিক পার্টির কংগ্রেসে লেনিনের সংগ্রাম ছিল স্থায়ী বিপ্লবের তত্ত্বের ভিত্তিতে পার্টিকে পুনর্গঠিত করা, পার্টিকে বিপ্লবের পথে দাঁড় করানো, অর্থাৎ এটিকে ক্ষমতায় আনা।
নর্থ ব্যাখ্যা করেছেন: 'শ্রীলঙ্কায় পার্টির নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, ব্যতিক্রমী সঙ্কটের পরিস্থিতিতে, আমরা প্রথমে বুঝতে পারি যে এই সংকটটিকে তার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করা আরও বেশি প্রয়োজনীয়… আমাদের শুরু করার জায়গাটি কখনই জাতীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক কাঠামো... শুধুমাত্র সেই ভিত্তিতে, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যার মধ্যে শ্রীলঙ্কায় সংকট উদ্ভূত হচ্ছে, শ্রমিক শ্রেণীর জন্য প্রয়োজনীয় বিপ্লবী অভিমুখে পৌঁছানো সম্ভব।'
ব্যাপক আলোচনার পর, কংগ্রেস সর্বসম্মতিক্রমে মূল পরিপ্রেক্ষিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, 'মহামারী, পুঁজিবাদের বৈশ্বিক সংকট, শ্রেণী সংগ্রামের পুনরুত্থান এবং সোশ্যালিষ্ট ইকুয়ালিটি পার্টি (শ্রীলঙ্কা) এর কর্ত্তব্য' এবং একটি জরুরী সিদ্ধান্ত, ' রাজাপাক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে গণ বিদ্রোহ এবং সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টির কর্ত্তব্য।”
মূল সিদ্ধান্ততে এসইপি’র প্রতিশ্রুতি “COVID-19 মহামারী নির্মূল করার বৈজ্ঞানিক কৌশল এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের প্রস্তুতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির জন্য এবং র্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটির (IWA-RFC) আন্তর্জাতিক শ্রমিক জোট গঠনের জন্য যা ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য ফোর্থ ইন্টারন্যাশনাল (ICFI) দ্বারা শুরু করা হয়েছে তার জন্য জোরালোভাবে লড়াই করা।'
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাথে মহামারীর সম্পর্ককে ICFI তুলনা করার পরে, সিদ্ধান্তটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে কীভাবে যুদ্ধরত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শাসক শ্রেণীগুলি তার ভয়াবহতা সত্ত্বেও যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল কারণ কোনও আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা তাদের ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করবে। বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে শুধুমাত্র রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণীর হস্তক্ষেপের দ্বারা ক্ষমতা দখল করে বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তনের সূচনা করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে।
দলিলটি অব্যাহত ছিল: “আজ, শ্রমিক শ্রেণী — উৎপাদনের বিশ্বায়নের অধীনে যার আগে এমন আন্তর্জাতিকীকরণ হয়নি — সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির পাশাপাশি ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো বিলম্বিত পুঁজিবাদী বিকাশের দেশগুলিতে, পুঁজিবাদ একটি সুদূরপ্রসারী পদ্ধতিগত সংকটের মধ্যে, এবং পুঁজিবাদকে উৎখাত করা এবং বিশ্বকে সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে নিয়ে যাওয়ার মত একই কাজের তাঁরা মুখোমুখি।'
সিদ্ধান্তটি মহামারীটির প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলির দ্বারা পরিচালিত দুটি ধরণের নীতিকে উন্মোচিত করেছে: 'হার্ড ইমিউনিটি', যাতে বলা হয়েছে যে ভাইরাসটি যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে এটি শেষ পর্যন্ত নিজেকে নিঃশেষ করে দেবে এবং মহামারীর প্রভাবের 'প্রশমন' ভ্যাকসিনেশন এবং মাস্কিং এর মাধ্যমে যা আসলে হার্ড ইমিউনিটির একটি পরিবর্তন। উভয়ই ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর পরিবর্তে বিপজ্জনক নতুন রূপের সাথে বিশ্বব্যাপী COVID-19- কে ঊর্ধ্বগতির দিকে পরিচালিত করেছে।
“হার্ড ইমিউনিটি এবং প্রশমনের কৌশলগুলির বিপরীতে, ICFI মহামারী শেষ করার জন্য বৈজ্ঞানিক কৌশলকে সমর্থন করে। এটি অগ্রগণ্য মহামারীবিদ, ভাইরোলজিস্ট এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীদের দ্বারা উন্নত নীতির উপর ভিত্তি করে এবং COVID-19-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যবস্থার জন্য অস্ত্রাগারে প্রতিটি অস্ত্রের সর্বজনীন সমন্বিত মোতায়েনকে অন্তর্ভুক্ত করে,” সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।
নথিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রধান সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি মারাত্মক মহামারী চলাকালীন তাদের প্রতিক্রিয়াশীল ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ আক্রমনাত্মকভাবে অনুসরণ করছে, যা বিশ্বযুদ্ধের হুমকি সৃষ্টি করেছে। “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ, বৈশ্বিক মহামারী এবং সামাজিক বিপর্যয় শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীকে একত্রিত করার মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা যেতে পারে, অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীর দ্বারা একটি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা সেই পথে যা আইসিএফআই ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালে সমাজতন্ত্র এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই, এই বিবৃতিতে জারি করেছিল।'
সিদ্ধান্তটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ডিসেম্বরে 'শাসক স্তালিনবাদী আমলাতন্ত্র দ্বারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে।' শ্রমিক শ্রেণীর জন্য এর বিশাল প্রভাব এবং শিক্ষা রয়েছে যা এখন আন্তর্জাতিকভাবে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংঘর্ষে আসছে, যা ছাড়া এটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ঐতিহাসিক কর্ত্তব্য অর্জন করতে পারবে না।'
নথিটি ব্যাখ্যা করেছে যে শুধুমাত্র ICFIই সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হয়েছিল, সাম্রাজ্যবাদ এবং স্তালিনবাদ উভয়েরই এজেন্টদের বিপরীতে, কারণ এটি স্ট্যালিনবাদী আমলাতন্ত্রের প্রতিবিপ্লবী ভূমিকা সম্পর্কে লিও ট্রটস্কির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ছিল। ট্রটস্কি সতর্ক করেছিলেন যে সোভিয়েত শ্রমিক শ্রেণী যদি রাজনৈতিক বিপ্লবে মস্কোর আমলাতন্ত্রকে উৎখাত না করে এবং বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অংশ হিসাবে তার ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না করে, তাহলে আমলাতন্ত্র সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিলুপ্ত করে পুঁজিবাদ পুনরুদ্ধার করবে।
সিদ্ধান্তটি ব্যাপকভাবে মোকাবিলা করেছে পুঁজিবাদের বৈশ্বিক সঙ্কটের অংশ হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বুর্জোয়া শাসনের মুখোমুখী হওয়া বিশাল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংকটকে, যা কোভিড-১৯ মহামারী এবং এই অঞ্চলের সরকারগুলির প্রতিক্রিয়াশীল নীতিগুলির দ্বারা ব্যাপকভাবে তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহামারীর বিরুদ্ধে তাদের অপরাধমূলক প্রতিক্রিয়া, কঠোর ব্যয় হ্রাস ব্যবস্থা, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ অভিযানের পিছনে সারিবদ্ধ হওয়া এবং শাসনের স্বৈরাচারী রূপের দিকে অগ্রসর হওয়া, এই সমস্ত কিছুই এই অঞ্চলে শ্রমজীবীদের বৈশ্বিক উত্থানের অংশ হিসাবে শ্রেণী সংগ্রামের উত্থানকে ইন্ধন দিয়েছিল।
নথিটি রাজনৈতিক উপসংহার টানে: “মহামারী দ্বারা তীব্রতর সঙ্কট আবারও তথাকথিত স্বাধীনতার অধীনে দক্ষিণ এশিয়ায় ১৯৪৭-১৯৪৮ সালে তৈরি হওয়া রাষ্ট্রগুলির ঐতিহাসিক অযোগ্যতা প্রমাণ করেছে। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি জাতীয় বুর্জোয়াদের যোগসাজশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং স্তালিনবাদী সোভিয়েত আমলাতন্ত্রের মধ্যে যুদ্ধোত্তর মীমাংসার অংশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল… শ্রীলঙ্কা একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের জন্য একমাত্র পথ হল প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র এবং বুর্জোয়াদের শাসনকে উৎখাত করা এবং একটি বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক ফেডারেশনের অংশ হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা।'
সিদ্ধান্তটি রাষ্ট্রপতি গোটাভায়া রাজাপাক্ষের শ্রীলঙ্কার সরকার এবং বুর্জোয়া শাসনের সঙ্কট, স্বৈরাচারী শাসনের দিকে পরিবর্তন এবং শ্রেণী সংগ্রামের বিকাশকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্থাপন করে।
'সোশ্যালিষ্ট ইকোয়ালিটি পার্টির কর্ত্তব্য' এর সমাপনী বিভাগে ডকুমেন্টটি ট্রটস্কির স্থায়ী বিপ্লবের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিক শ্রেণীর জন্য একটি স্বাধীন বিপ্লবী কর্মসূচির বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিত ' ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মতো বিলম্বিত পুঁজিবাদী বিকাশের দেশ যে অবস্থার সন্মুখীন, জাতীয় বুর্জোয়ারা গণতান্ত্রিক কর্ত্তব্য এবং জনসাধারণের সামাজিক সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারে না... শুধুমাত্র ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক শ্রেণী, দরিদ্র কৃষক এবং নিপীড়িত জনসাধারণকে নেতৃত্ব দিয়ে, এর সমাধান করতে পারে, বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অংশ হিসেবে সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক কাজে লিপ্ত হতে পারে।
জরুরী সিদ্ধান্ততে বলা হয়েছে: “শ্রীলঙ্কার বর্তমান অসাধারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেবলমাত্র বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের বিশাল সংকটকে প্রেক্ষাপটে রেখে সঠিকভাবে বোঝা যাবে, যা কোভিড-১৯ মহামারী এবং চলমান ইউএস-ন্যাটোর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত তীব্র হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় শ্রমিক, যুবক এবং গ্রামীণ মেহনতিদের ক্রমবর্ধমান গণ আন্দোলনের প্রতি দলের একটি সঠিক রাজনৈতিক অভিমুখ শুধুমাত্র এই ধরনের আন্তর্জাতিক পদ্ধতির মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে।”
রাজাপাক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিদ্রোহের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে যেখানে শ্রমিক শ্রেণী কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে, প্রস্তাবটি শ্রমিক ও কৃষকদের সরকার গঠণের লড়াই করতে শ্রমিক শ্রেণীর জন্য একটি স্বাধীন বিপ্লবী কর্মসূচীকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে সমাজতান্ত্রিক নীতিতে, দক্ষিণ এশিয়ায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাজতন্ত্রের জন্য বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে ।
কংগ্রেসের আলোচনার উপসংহারে তার বক্তব্যে, বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক বিজয় ডায়াস উল্লেখ করেন কংগ্রেসে আলোচিত দুটি সিদ্ধান্ত, রিপোর্ট এবং ডেভিড নর্থ সহ ICFI এর সমস্ত শাখাগুলির শুভেচ্ছা, যা আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রের দৃষ্টিকোণগুলিকে তুলে ধরেছে যার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে SEP।
শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে, ডায়াস বলেন: “নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে [ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির নেতা] রনিল বিক্রমাসিংহকে স্থাপন করা একটি ঐতিহাসিক নিয়োগ যা সবাইকে অবাক করেছে। সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিততে ব্যর্থ এবং শুধুমাত্র জাতীয় তালিকার মাধ্যমে যিনি সংসদে, প্রধানমন্ত্রীর পদে, সংসদের প্রভাবশালী পদে প্রবেশ করতে পেরেছেন এমন একজন ব্যক্তির নিয়োগের রাজনৈতিক বিপদ এখন প্রকাশ পাচ্ছে।”
ডায়াস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বড় শক্তিগুলির কলম্বো রাষ্ট্রদূতদের সাথে বিক্রমাসিংহে যে ধারাবাহিক বৈঠক করেছিলেন তার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এই আলোচনাগুলি জনসমক্ষে দাবি করা জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসগুলির তীব্র ঘাটতি মোকাবেলায় সেই দেশগুলির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার দাবিতে নয়, পরন্তু কীভাবে রাশিয়া এবং চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক-কৌশলগত আক্রমণে শ্রীলঙ্কাকে একীভূত করা যায় সেই ব্যাপারে। উইকিলিকস দ্বারা ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে, ডায়াস উল্লেখ করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই বিক্রমাসিংহেকে তার স্বার্থের জন্য শ্রীলঙ্কায় খুঁজে পেতে পারে এমনদের মধ্যে অগ্রণী এজেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ডায়াস ব্যাখ্যা করেছেন যে বুর্জোয়া রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য দল, যার মধ্যে বিরোধী সমগী জনা বালাওয়েগয়া (এসজেবি) এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি), বিক্রমাসিংহের পিছনে সারিবদ্ধ ছিল। তিনি বিভিন্ন ছদ্ম-বাম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পার্টির রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন যারা রাজনৈতিকভাবে শ্রমিক শ্রেণীকে বুর্জোয়া দলগুলির অধীনস্থ করার জন্য কাজ করছে।
তিনি সংক্ষিপ্তভাবে প্রতিটি কারখানা, কর্মক্ষেত্র, প্ল্যান্টেশন এবং এলাকাতে শ্রমিকদের অ্যাকশন কমিটি গঠনের জন্য SEP-এর আহ্বান ও সংগ্রাম এবং যা ইউনিয়নগুলি থেকে স্বাধীন, এবং শ্রমিক ও কৃষকদের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিক শ্রেণীকে স্বাধীনভাবে সংগঠিত করা পার্টির সংগ্রামের সাথে এর সম্পর্ক সম্পর্কে বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যারা দক্ষিণ এশিয়ায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাজতন্ত্রের জন্য বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে সমাজতান্ত্রিক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।
কংগ্রেস এর প্রতিনিধিরা নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করেন। আগত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক বিজয় ডায়াসকে পার্টির চেয়ারম্যান, বিদায়ী সহ-সম্পাদক দীপল জয়সেকেরাকে সাধারণ সম্পাদক, সামান গুনাদাসাকে নতুন সহ-সম্পাদক, কে. রত্নায়েকে ডব্লিউএসডব্লিউএস জাতীয় সম্পাদক, বসান্থা রূপাসিংহেকে সহ-সম্পাদক এবং ভিলানি পেরিস কে কোষাধক্ষ্য নির্বাচিত করেন।
