বাংলা

শ্রীলঙ্কার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্টের আহ্বান করার মধ্যেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে

অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে জরুরি অবস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন যা তিনি প্রাথমিকভাবে ১৩ই জুলাই রবিবার একটি সরকারি গেজেট জারি করে ঘোষণা করেন। জরুরী অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার নির্বিচারে লোকেদের গ্রেপ্তার এবং আটক করার, বিক্ষোভ দমন, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনুসন্ধান এবং সেন্সরশিপ আরোপ করতে।

প্রদর্শনকারীরা রাষ্ট্রপতির দপ্তরের বাইরে ১৩ই জুলাই, ২০২২

৯ই জুলাই দেশের সর্ববৃহৎ সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মুখে পরে গত সপ্তাহে গোটাভায়া রাজাপাক্ষে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরে, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের জন্য সংসদে আগামীকালের অবৈধ ভোটের প্রাক্কালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্রমাসিংহে, যিনি গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন, তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিয়োগ হবার পর এখন তিনিই আগামীকালের ভোটে প্রার্থীদের একজন।

গেজেট বিবৃতিটি 'জননিরাপত্তার স্বার্থে, জনশৃঙ্খলার সুরক্ষা এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে' দাবি করে জরুরি অবস্থাকে ন্যায্যতা দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে বোঝায় যে এটি বিক্ষোভ এবং ধর্মঘটের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বা এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য প্রার্থীদের কেউই জীবনের প্রয়োজনীয়তা বজায় রাখছেন না, বরং গত তিন মাস ধরে যে গণআন্দোলন শুরু হয়েছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাঙ্গনের বিরুদ্ধে তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন যা শ্রমজীবী ​​মানুষদের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করেছে।

জরুরি অবস্থার ঘোষণা সংসদে আগামীকালের ভোটের গণতান্ত্রিক বিরোধী চরিত্রকে দেখায়। গতকাল প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি তথাকথিত নির্বাচনকে 'শ্রমিক শ্রেণী, যুবক এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্র' বলে নিন্দা করেছে। এটি ঘোষণা করেছে: 'সংসদ কোনোভাবেই শ্রমজীবী ​​জনগণের, অর্থাৎ সমাজের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক অনুভূতি ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না।

বিক্রমাসিংহের সাথে, বিরোধী সামগী জনা বালাওয়েগয়া (এসজেবি) নেতা সজিথ প্রেমাদাসা, রাজাপক্ষের শ্রীলঙ্কা পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) থেকে ডালাস আলাহাপেরুমা এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা নেতা (জেভিপি) অনুরা কুমারা দিসানায়েক তারা প্রার্থি হিসাবে ঘোষণা করেছেন। যিনি রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবেন তিনি রাজাপাক্ষের বাকি মেয়াদের জন্য - অর্থাৎ ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পদে থাকবেন।

জনসংখ্যার বিস্তৃত স্তরগুলি কেবল রাজাপাক্ষে এবং বিক্রমাসিংহের প্রতিই বিদ্বেষী নয় পরন্তু সংসদে বসে থাকা লোভী ২২৫ জন রাজনীতিকদের সকলের প্রতিই বিদ্বেষী। আগামীকালের ভোটের কোনো বৈধতা নেই কিন্তু, ফলাফল যাই হোক না কেন, তা কেবল পুরো দুর্নীতিগ্রস্ত দলের রদবদল। তাদের সকলেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দ্বারা নির্দেশিত কঠোর কঠোরতামূলক ব্যবস্থা আরোপকে সমর্থন করে এবং শ্রমজীবী মানুষের খরচে কর্পোরেট মুনাফা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করার জন্য ছক কষে।

বিক্রমাসিংহে পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি কোথাও বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে ভারী সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য আজকের অধিবেশনের আগে সমস্ত প্রবেশ পথের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে সংসদ সদস্যদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও দেশের বাকি অংশকে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, সামরিক বাহিনীকে বলা হয়েছে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির জন্য জ্বালানি সরবরাহ করতে।

বিক্রমাসিংহে সোশ্যাল মিডিয়াতেও আক্রমণ বাড়িয়েছেন। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলির উপর একটি ব্যাপক তদন্ত চালাতে যা রাষ্ট্রপতি ভোটে সংসদ সদস্যদের উপর 'প্রভাব বা চাপ সৃষ্টি করতে পারে'। এই পদক্ষেপটি সোশ্যাল মিডিয়াতে আরও বিস্তৃত আক্রমণের সংকেত দেয় যা গত তিন মাস ধরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ সংগঠিত করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

শ্রমিক, যুবক এবং গ্রামীণ মেহনতিরা বিক্রমাসিংহের দমনমূলক ব্যবস্থাকে অস্বীকার করে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে চলেছে। এখন যেহেতু রাজাপাক্ষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন, কলম্বো এবং আঞ্চলিক শহরগুলির বিক্ষোভ কেন্দ্রগুলি তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে বিক্রমাসিংহের পদত্যাগের দাবিতে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কট্টর দালাল এবং IMF-পন্থী বাজার পুনর্গঠনের রক্ষক, যিনি ব্যাপকভাবে ঘৃণ্য। তিনি তার দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) একমাত্র সংসদ সদস্য।

ট্রেড ইউনিয়ন এবং ছদ্ম-বাম সংগঠনগুলি ব্যাপক জনপ্রিয় বিরোধিতাকে সমানভাবে অবিশ্বাসী এবং ঘৃণ্য বিরোধী দলগুলির পিছনে সমর্থনের জন্য ব্যাবহার করতে চায় এবং একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বান জানায় বুর্জোয়া শাসনকে টিকিয়ে রাখতে।

ছদ্ম-বাম ফ্রন্ট লাইন সোশ্যালিস্ট পার্টি (এফএসপি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ইন্টার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ফেডারেশন (আইইউএসএফ) আজ বিক্রমাসিংহের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদের দিন ঘোষণা করেছে। আইইউএসএফ ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে বিক্ষোভে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল কলম্বোর মধ্য দিয়ে একটি মিছিল যাতে হাজার হাজার মানুষ জড়িত হতে পারে।

এফএসপি-র মতোই, শ্রমিক শ্রেণি যাতে কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করতে পারে তার জন্য নাশকতায় গত তিন মাস ধরে ট্রেড ইউনিয়নগুলি বিশ্বাসঘাতক ভূমিকা পালন করেছে। যেখানে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে তা করা হয়েছে ঠান্ডা করার জন্য, যা ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা দ্রুত প্রত্যাহার করেছেন। গত সপ্তাহে, ইউনিয়ন শাসকরা সাধারণ ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে কিন্তু কোনোটিই হয়নি।

তাদের পচা রাজনীতির সারসংক্ষেপ গতকাল প্রধান ইউনিয়ন জোট- ট্রেড ইউনিয়ন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (টিইউসিসি)-এর দ্বারা জনগণের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য 'শ্রমিক শ্রেণীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা'-এর ঘোষণায় তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলগুলির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, তা শ্রমিক শ্রেণীর নয়, ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে নাটক গঠন করা হয়েছে। তাদের 'সাংবিধানিক পন্থী' কর্মসূচী হল শ্রমিক শ্রেণীকে নিষ্ক্রিয় করা এবং বিরোধীদের অর্থহীন নির্বাচনে চালিত করা যাতে শাসক শ্রেণীর জন্য সময় কেনা যায়।

বন্ধ দরজার আড়ালে, আগামীকালের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক ঘোড়া-কেনাবেচা অব্যাহত রয়েছে। SLPP’র সংসদীয় ভোটের বৃহত্তম গোষ্ঠী রয়েছে কিন্তু একটি অংশ 'স্বতন্ত্র' হিসাবে ভেঙে যাওয়ার পরে গভীরভাবে বিভক্ত হয়েছে।

গতকাল বিক্রমাসিংহে এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষে, যিনি মে মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, এসএলপিপি সংসদ সদস্য ডালাস আলাহাপেরুমার পরিবর্তে বিক্রমাসিংহের পক্ষে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করার জন্য এসএলপিপি সংসদ সদস্যদের সাথে দেখা করেন। ভোট কেনার অভদ্র প্রচেষ্টায়, বিক্রমাসিংহে ঘোষণা করেছেন যে তিনি সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্থ SLPP সংসদ সদস্যদের বাড়ি এবং সম্পত্তি পুনর্নির্মাণের জন্য জনসাধারণের অর্থ ব্যবহার করবেন।

মিলিটারি ওয়েলওয়াট্টায় ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিতে জ্বালানী সরবরাহ ও বন্টনের তত্ত্বাবধান করছে, ১লা জুলাই ২০২২, কলম্বো, [WSWS মিডিয়া]


জনসমর্থনের জন্য সমানভাবে এক অভদ্র প্রস্তাবে, সরকার প্রতি লিটারে নগণ্য ২০ টাকা বা চার শতাংশ জ্বালানির দাম কমানোর ঘোষণা করেছে। এবং, হঠাৎ করেই, বিক্রমাসিংহে ঘোষণা করেছেন যে তিনি জীবনযাত্রার খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন।

এই ঘোষণাগুলি শ্রমজীবী ​​মানুষের জন্য অপমান, কারণ প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবার বেলার খাবার এড়িয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষুধা ও অনাহারের মুখোমুখি হচ্ছে। এমনকি তাদের জ্বালানি কেনার সামর্থ্য থাকলেও, মানুষকে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, যা পাবার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কর্মীদের স্বল্পতার কারণে হাসপাতালগুলিতে রুগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে কর্মীদের কাজে যেতে জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়।

JVP নেতা দিসানায়েকে রবিবার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন যে তিনি সমস্ত দল সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রপতির জন্য তার প্রার্থী পদ থেকে সরে যেতে প্রস্তুত তাঁর নিজের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি সংসদে এমন কাউকে মনোনীত করেননি যার জনসাধারণের বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল এবং বিলের সাথে মানানসই হতে পারে। এই পদক্ষেপ বুর্জোয়া শাসনের সম্পূর্ণভাবে অসম্মানিত প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আগামীকাল যাকেই রাষ্ট্রপতি হিসাবে বসানো হবে, পরবর্তী সরকার আইএমএফের দাবিকৃত কঠোর পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়ন করবে যা সরকারী ক্ষেত্রের চাকরিকে আরও কমিয়ে দেবে, ইতিমধ্যেই সঙ্কটে থাকা জনশিক্ষা ও স্বাস্থ্যতেও তা গভীরভাবে প্রবেশ করবে, কর বৃদ্ধি ও প্রসারিত হবে এবং মূল্যবৃদ্ধি চলতে থাকবে ভর্তুকি যা অবশিষ্ট আছে তা বাতিল করা হবে। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ইতিমধ্যেই মুক্ত পতনের মধ্যে রয়েছে, ফিচ রেটিং এই সপ্তাহে সতর্ক করেছে যে ইউরোপে মন্দা শ্রীলঙ্কার রপ্তানি ও পর্যটনকে আঘাত করবে এবং এর তীব্র বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

গতকাল তার বিবৃতিতে, এসইপি ঘোষণা করেছে: 'বুর্জোয়া রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সমস্ত দল, তাদের সাথি ছদ্ম-বাম এবং ট্রেড ইউনিয়ন আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে, সোশ্যালিষ্ট ইকোয়ালিটি পার্টি শ্রমিক শ্রেণী, যুবক এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছে একটি বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচির জন্য, যা তাদের মুখোমুখি হওয়া বিশাল সামাজিক সংকট সমাধানের একমাত্র উপায়।

“আমরা দ্বীপ জুড়ে প্রতিটি কর্মক্ষেত্র, কারখানায়, বাগানে, আশেপাশের এলাকায় এবং গ্রামীণ এলাকায় শ্রমিক ও দরিদ্র কৃষকদের অ্যাকশন কমিটি গঠনের আহ্বান জানাই, যা প্রতিষ্ঠিত দল এবং ইউনিয়নগুলি থেকে স্বাধীন, তাদের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক অধিকারের জন্য লড়াই করতে । পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন সংগ্রামে চতুর্থ আন্তর্জাতিকের আন্তর্জাতিক কমিটি কর্তৃক সূচিত র‌্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটির আন্তর্জাতিক শ্রমিক জোটের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যাকশন কমিটির একটি নেটওয়ার্ক অবশ্যই স্থাপন করতে হবে।

“এসইপি গণতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক দাবির পক্ষে, সরাসরি শ্রমজীবী মানুষের জ্বলন্ত চাহিদাগুলিকে সম্বোধন করে, যেগুলিকে সামনে রেখে অ্যাকশন কমিটিগুলি লড়াই করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ব্যবসা ও ব্যাংকের জাতীয়করণ, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সমস্ত বৈদেশিক ঋণ প্রত্যাখ্যান, দরিদ্র কৃষকদের ঋণ মুকুব, বৈদেশিক বাণিজ্যে একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের মজুরি ঠিক করা।

“নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য সংসদে বুধবারের জালিয়াতি ভোটকে প্রত্যাখ্যান করে, আমরা অবিলম্বে স্বৈরাচারী নির্বাহী রাষ্ট্রপতি পদ বিলুপ্তির দাবি জানাই।

“শ্রমিক শ্রেণীর একটি স্বাধীন আন্দোলন, তাদের গণতান্ত্রিক এবং সামাজিক অধিকারের জন্য লড়াই করছে, যা যুবক এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের তার পক্ষে জড়ো করবে এবং সমাজতান্ত্রিক নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শ্রমিক ও কৃষকদের সরকারের ভিত্তি স্থাপন করবে। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাজতন্ত্রের জন্য বৃহত্তর সংগ্রামের একটি অংশ।

'আমরা শ্রমিক, যুবক, ছাত্র এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের এই বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচির জন্য লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে এবং এসইপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।'

Loading