সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি (SEP), চতুর্থ আন্তর্জাতিকের আন্তর্জাতিক কমিটির শ্রীলঙ্কা শাখা, সাড়া দ্বীপ-জুড়ে শ্রমজীবী মানুষ এবং যুবকদের দ্বারা প্রচারাভিযানের ডাক দেয় সংগঠন এবং শ্রমিক ও গ্রামীণ জনগণের একটি গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসের আহ্বান জানায়।
SEP শোষিত শ্রমজীবী জনগণের এই কংগ্রেসকে প্রতিক্রিয়াশীল পুঁজিবাদী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করে যা গোটাভায়া রাজাপাক্ষে এবং রনিল বিক্রমাসিংহে-র কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি এবং স্বৈরাচারী হিসাবে তার উত্তরসূরির
কুখ্যাত সংসদীয় বন্ধুদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শাসক শ্রেণীর নতুন সরকারের একটাই উদ্দেশ্য: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), মার্কিন ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ এবং শ্রীলঙ্কার শাসক শ্রেণীর দাবিকৃত নৃশংস কঠোরতা কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়া, যখন জনপ্রিয় বিরোধীদের গলা টিপে মারা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসের ভিত্তি শ্রমিক এবং গ্রামীণ মেহনতিদের নিজেদের শ্রেণীগত স্বার্থের লড়াইয়ের জন্য যা দ্বীপের কর্মক্ষেত্রগুলিতে, কারখানায়, বাগানে, নিজেদের এলাকাতে এবং গ্রামীণ এলাকায় অ্যাকশন কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্থাপন করতে হবে। এই কমিটিগুলোকে যদি শ্রমজীবী মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতি সত্যিকারের আওয়াজ দিতে হয়, তাহলে তাদের পুঁজিপতি শ্রেণীর সমস্ত দল এবং তাদের ট্রেড ইউনিয়ন দোসরদের থেকে স্বাধীন হওয়া অপরিহার্য।
এসইপিই একমাত্র দল যারা সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। আমরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছি যে একটি পুঁজিবাদী অন্তর্বর্তী সরকার শাসক শ্রেণীর জন্য সময় কেনার একটি হাতিয়ার হবে, যখন এটি শ্রমিক শ্রেণীর সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর একটি ধ্বংসাত্মক আক্রমণ প্রস্তুত করছে। পুঁজিবাদী শ্রেণীর জন্য, অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হল একটি জ্বলন্ত পৃথিবীর নীতি যা কয়েক দশকের সংগ্রামে শ্রমিকদের দ্বারা অর্জিত সামাজিক লাভের অবশিষ্টাংশকে ধ্বংস করে দেয়- চাকরি, কাজের অবস্থা, জনশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মূল্য ভর্তুকি।
রাষ্ট্রপতি হিসাবে সংসদদের বিক্রমাসিংহেকে নির্বাচন, যে IMF কঠোরতার কুখ্যাত প্রয়োগকারী এবং মার্কিন সাম্রজ্যবাদের দালাল, অকাট্য প্রমাণ প্রদান করে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত, গণতন্ত্রবিরোধী এবং সম্পূর্ণরূপে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, IMF এবং শ্রীলঙ্কার শাসক শ্রেণীর এজেন্টদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। .
এটাকেও সতর্কতা হিসেবে নিতে হবে। অসম্মানিত এবং ঘৃণ্য ইউএনপি-র একমাত্র সাংসদ বিক্রমাসিংহে, জনগণের দ্বারা নয়, পুঁজিবাদীদের 'আদেশের' প্রতিনিধি হিসাবে রাষ্ট্রপতি পদে তার দাবি তুলেছিলেন। তিনি 'ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি' হিসাবে দায়িত্ব পালনের ছয় দিনের মধ্যে বিক্রমাসিংহে নোটিশ দিয়েছিলেন যে তিনি নির্বাহী রাষ্ট্রপতির সমস্ত কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা এবং বৃহত্তর সামরিক-রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় বিরোধীদের দমন করতে এবং শ্রমিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে মারাত্মক আঘাত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বিগুণ ক্ষমতাবান হয়ে, তিনি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষকে সমস্ত প্রতিবাদকে অবৈধ করার, সেন্সরশিপ আরোপ করার এবং বিনা চার্জে জনগণকে আটক করার ক্ষমতা দেওয়ার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষনা করেন। তিনি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন এবং জনসাধারণকে 'ফ্যাসিস্ট' বলে অপবাদ দিয়েছিলেন যারা অপরাধী ও শাসক শ্রেণীর গুণ্ডা গোটাভায়া রাজাপাক্ষেকে ক্ষমতা থেকে তাড়িয়ে ছিল।
একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করে, এসইপি লঙ্কা সামা সমাজ পার্টির বিপর্যয়মূলক ১৯৬৪ সালের ট্রটস্কিবাদের অপরিহার্য রাজনৈতিক নীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার তিক্ত রাজনৈতিক পাঠের দিকে আকৃষ্ট হয়। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে, এবং শ্রমিক শ্রেণীর শক্তিশালী '২১ দফা দাবী' আন্দোলনের মোকাবিলায়, বুর্জোয়া শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির নেতা প্রধানমন্ত্রী সিরিমা বন্দরনায়েকে, লঙ্কা সামা সমাজ পার্টি (এলএসএসপি) নেতাদের দিকে মনোনিবেশ করেন। পুঁজিবাদী শাসনকে সমর্থন করার জন্য বন্দরনায়েকের বুর্জোয়া 'সিংহলিজ ফার্স্ট' সরকারে এলএসএসপি-র প্রবেশ শুধুমাত্র '২১টি দাবি' আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটায়নি। এটি জনসাধারণকে হতাশাগ্রস্ত করেছে, শ্রেণী সংগ্রামের উপর জাতিগত-ভাষাগত দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে তুলেছে এবং প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক রাজনীতির আধিপত্য এবং কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছে।
এসইপি এলএসএসপির বিশ্বাসঘাতকতার পথে কখনই নামবে না। আমরা পুঁজিবাদী সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব ধরণের সমর্থনকে প্রত্যাখ্যান করি। এসইপির পূর্বসূরি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, ১৯৬৮ সালে চতুর্থ আন্তর্জাতিকের আন্তর্জাতিক কমিটির একটি অংশ হিসাবে LSSP-এর সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিকতাবাদ এবং স্বতন্ত্র শ্রেণী রাজনীতি-শ্রমিকদের ক্ষমতার জন্য সংগ্রাম প্রত্যাখ্যানের সরাসরি বিরোধিতা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কা এবং বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের সংকট ষাট বছর আগের তুলনায় আজ অনেক গভীর। গত তিন মাসের গণঅভ্যুত্থান বুর্জোয়া শাসনকে একেবারে মূলে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু লিও ট্রটস্কি যেমন একবার ব্যাখ্যা করেছিলেন, বুর্জোয়াদের শক্তি হল সে তার দুর্বলতা বোঝে। যদি রাজনৈতিক ক্ষমতা তার হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে এটি নির্মমভাবে IMF-এর কঠোরতা কর্মসূচি চাপিয়ে এবং যেকোনো জনপ্রিয় বিরোধিতাকে চূর্ণ করে তার স্বার্থ রক্ষা করবে।
ট্রটস্কি আরও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে শ্রমিক শ্রেণীর দুর্বলতা হল তারা তার শক্তি বুঝতে পারে না। গণমানুষের বিক্ষোভে মহান জঙ্গিপনা প্রদর্শন করেছে, দৃঢ় সংকল্প ও সাহসিকতা প্রদর্শন করেছে। কিন্তু শ্রমজীবী জনগণ যদি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বাঁধা থাকে এবং একটি পুঁজিবাদী অন্তর্বর্তী সরকারে তাদের বিশ্বাস রাখে, তাহলে ফলাফল অনিবার্যভাবে একটি বিপর্যয় হবে।
২০১১ সালের ব্যর্থ মিশরীয় বিপ্লবের শিক্ষাগুলি এই জটিল সন্ধিক্ষণে শ্রীলঙ্কার শ্রমিক শ্রেণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০১১ সালের শুরুতে একটি শক্তিশালী জনপ্রিয় অভ্যুত্থান শুরু হয় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হোসনি মোবারকের কয়েক দশকের সামরিক একনায়কত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করে। যাইহোক, যেহেতু শ্রমিক শ্রেণী স্বাধীন শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গিতে সজ্জিত ছিল না, গণ-আন্দোলনটি বুর্জোয়া বিরোধিতা এবং ধনী মধ্যবিত্তের বিভিন্ন অংশের দ্বারা প্রভাবিত ছিল-অর্থাৎ, পুঁজিবাদী শাসনের প্রতি যেকোনো আক্রমণকে কঠোরভাবে বিরোধিতা করে। এতে বিপ্লবী সমাজতন্ত্রীদের মতো ছদ্ম-বাম দলগুলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা 'গণতান্ত্রিক পরিসর খোলার' নামে মুসলিম ব্রাদারহুড দ্বারা গঠিত স্বল্পস্থায়ী, ডানপন্থী পুঁজিবাদী সরকারকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছিল, সেই সময়ের তথাকথিত সামরিক বাহিনীর 'উদারপন্থী' অংশকে।
মিশরে গণ-আন্দোলন ক্ষয়প্রাপ্ত এবং খণ্ডিত হওয়ার সাথে সাথে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা সমর্থিত সামরিক বাহিনী রক্তাক্ত দমণ পীড়নের সুযোগটি গ্রহণ করে এবং বর্তমান স্বৈরশাসক, মুবারকের প্রাক্তন জেনারেল, আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অধীনে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
শ্রমিক শ্রেণীর জন্য এই করুণ পরাজয়ের অপরিহার্য শিক্ষা কী? রাজনৈতিক উদ্যোগকে হাত থেকে পিছলে যেতে দেওয়া যাবে না। তাঁদেরকে বুর্জোয়াদের সমস্ত রাজনৈতিক দল, ও তাদের ছদ্ম-বাম সহযোগী এবং ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তাঁদের শ্রেণীস্বার্থ রক্ষা করতে এবং ক্ষমতার জন্য লড়াই করতে তার নিজস্ব রাজনৈতিক হাতিয়ার স্থাপন করতে হবে। এসইপি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য আলোচনায় অংশ নেবার আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এসইপি বুঝতে পেরেছিল যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা এবং পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিরোধী ষড়যন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়ে শ্রমিক শ্রেণীকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শ্রমিক ও গ্রামীণ জনগণের গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসের জন্য আমাদের আহ্বানের এটাই তাৎপর্য।
সমগ্র সংসদীয় কাঠামোর প্রতি ব্যাপক জনগণের গভীর-অবিশ্বাস এবং শত্রুতা ইতিমধ্যেই '২২৫ নিপাত যাক'-এই জনপ্রিয় স্লোগানে প্রকাশ হয়েছে - অন্য কথায়, শুধুমাত্র রাজাপাক্ষে এবং বিক্রমাসিংহে নয়, ২২৫ জনের সমস্তই দুর্নীতিবাজ, স্বার্থান্বেষী রাজনীতিবিদদের সাথে যারা তাদের আরামদায়ক, সংসদীয় আসন দখল করে আছে। তবে শ্রমজীবী মানুষরা, শুধু সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সমালোচনা করতে পারে না, তাদের কণ্ঠস্বর যাতে শুনতে পায় এবং তাদের কাজগুলি যাতে অনুভব করা যায় তাদের এমণ নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি থাকতে হবে।
১৯১৭ সালের রাশিয়ান বিপ্লবের বিশাল রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, লিও ট্রটস্কির বিপ্লবী শক্তি সম্পর্কে গভীর ধারণা ছিল। ১৯৩০-এর দশকে স্প্যানিশ বিপ্লবের উপর তাঁর লেখাগুলির সাথে শ্রীলঙ্কার ঘটনার একটি অসাধারণ প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ট্রটস্কি লিখেছেন:
বাস্তবে, সংগ্রামের প্রবল ঝাঁকুনি সত্ত্বেও, বিপ্লবের বিষয়গত কারণগুলি হল- পার্টি, যা জনসাধারণের সংগঠন, স্লোগান- আন্দোলনের কাজের পিছনে অসাধারণভাবে থাকে- এবং আজ এই পশ্চাদপদতাই প্রধান বিপদ তৈরি করে।
ধর্মঘটের আধা-স্বতঃস্ফূর্ত বিস্তার, যা শিকার ও পরাজয় এনেছে বা কোন কিছু ছাড়াই শেষ হয়েছে, এটি বিপ্লবের একটি সম্পূর্ণ অনিবার্য পর্যায়, সেই কাল যা জনসাধারণকে জাগরণ করার, তাদের সংগঠিত করা এবং সংগ্রামে তাদের প্রবেশে করা। কারণ এটা শুধু আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের শ্রেষ্ট অংশ নয়, পুরো জনসাধারণের। শুধু কারখানার শ্রমিকরা ধর্মঘট করে না, কারিগর, চালক ও বেকার, নির্মাণ, সেচ এবং অবশেষে কৃষি শ্রমিকরাও ধর্মঘট করে। প্রবীণরা ছাঁচে ফেলে তৈরি করে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা শেখে। এসব ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে শ্রেণী নিজেকে শ্রেণী হিসেবে অনুভব করতে থাকে।
যাইহোক, স্বতঃস্ফূর্ততা - যা বর্তমান পর্যায়ে আন্দোলনের শক্তি গঠন করে - ভবিষ্যতে তার দুর্বলতার উত্স হতে পারে। ভবিষ্যৎতেও আন্দোলনকে কোনো সুস্পষ্ট কর্মসূচি ছাড়াই, নিজস্ব নেতৃত্ব ছাড়াই নিজের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে, এমনটা ধরে নেওয়ার অর্থ হবে হতাশার দৃষ্টিভঙ্গি। যে প্রশ্নটি জড়িত তা ক্ষমতা দখলের চেয়ে কম কিছু নয়। এমনকি সবচেয়ে ঝড়ো হানাও—আরও বেশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা—এই সমস্যার সমাধান করে না। প্রলেতারিয়েত যদি আগামী মাসগুলোতে তার কাজ এবং পদ্ধতিগুলি যা নিজের কাছে স্পষ্ট হওয়া, তার র্যাঙ্কগুলি একত্রিত এবং শক্তিশালী হচ্ছে, সংগ্রামের এই প্রক্রিয়া যদি অনুভব না করে তাহলে তার নিজস্ব পদে একটি পচন শুরু হবে... অবশ্যই, আমরা এখনও সেই বিন্দু থেকে অনেক দূরে। তবে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। [“স্পেনে বিপ্লব,” 24 জানুয়ারী, 1931, স্প্যানিশ বিপ্লব (1931-39), পাথফাইন্ডার প্রেস, পৃষ্ঠা 88-89]
সেজন্যই SEP একটি সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে চা বাগানে এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে স্বাধীন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অ্যাকশন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু এই অ্যাকশন কমিটিগুলিকে সমগ্র দ্বীপে সম্প্রসারিত করতে হবে, সংযোগ স্থাপন করতে হবে এবং একটি সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা ও তা গ্রহণ করার জন্য শ্রমিক ও গ্রামীণ মেহনতীদের কংগ্রেসে প্রতিনিধি নির্বাচনের ভিত্তি হয়ে উঠতে হবে।
এসইপি যে অ্যাকশন কমিটিগুলির ডাক দিয়েছে তা ছদ্ম-বাম ফ্রন্টলাইন সোশ্যালিস্ট পার্টি (এফএসপি) দ্বারা অন্তর্বর্তী সরকারকে ছাড়ের জন্য চাপ দিতে যে 'জনগণের পরিষদের' প্রস্তাব দিয়েছে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কোনো পুঁজিবাদী সরকারের কাছে ভিক্ষার বাটি নিয়ে যাওয়া অর্থহীন। শাসক শ্রেণীর কাছে আরও দূর্দশা ও কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দেওয়ার নেই। শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রামী সংগঠন হিসেবে অ্যাকশন কমিটি হওয়া দরকার।
এসইপি বিভিন্ন নীতির রূপরেখা দিয়েছে যাকে সামনে রেখে শ্রমিক এবং গ্রামীণ শ্রমজীবীরা লড়াই করতে পারে: আইএমএফের কঠোরতা কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করুন! সব বৈদেশিক ঋণ প্রত্যাখ্যান! অতি ধনীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে বড় ব্যাংক ও কর্পোরেশনগুলির জাতীয়করণ! শ্রমজীবী শ্রেণীকে অবশ্যই উৎপাদন ও বন্টন পুনর্গঠন করতে হবে যাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ক্ষুধা ও অনাহারের অবসান ঘটানো যায় এবং হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের দুর্দশার সমাধানের জন্য তাদের ঋণ মুকুব করতে হবে এবং সার এর ভর্তুকি পুনরায় চালু করতে হবে। চাকরি অবশ্যই সকলের জন্য উপলব্ধ হতে হবে এবং মজুরি সূচি হবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে।
SEP এর প্রস্তাবিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হওয়া কাজগুলি গণতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক উভয়ই। অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রকারী সমস্ত পুঁজিবাদী দলগুলোই ঘোষণা করেছে যে দেশের গণতন্ত্রবিরোধী সংবিধানকে রক্ষা করতে হবে। অন্য ভাবে বলা যায়, তারা জোর দেয় পুঁজিবাদী রাষ্ট্র, পুলিশ, আদালত, কারাগার এবং সর্বোপরি, নির্বাহী রাষ্ট্রপতি এবং এর ব্যাপক ক্ষমতা অবশ্যই যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে। এসইপি জোর দিয়ে বলে যে নির্বাহী রাষ্ট্রপতি পদ অবিলম্বে বিলুপ্ত করতে হবে এবং এর সাথে দমনমূলক আইনগুলি যা কয়েক দশক ধরে তৈরি করা হয়েছে সেগুলোও।
লিও ট্রটস্কি যেমন নিরবছিন্ন বিপ্লবের তত্ত্বে ব্যাখ্যা করেছেন, শ্রীলঙ্কার মতো বিলম্বিত উন্নয়নের দেশে, গণতান্ত্রিক কাজগুলি শ্রমিক শ্রেণীর দ্বারা সমাজতন্ত্রের লড়াইয়ের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত করতে হবে। ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার পর থেকে সাত দশকে, পুঁজিবাদী শ্রেণী এবং তার রাজনৈতিক দলগুলি ১৯৭০ এবং ১৯৮৯-৯০ সালে সিংহল গ্রামীণ যুবকদের রক্তক্ষয়ী গণহত্যা সহ শ্রমিক এবং গ্রামীণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারবার পদদলিত করেছে, এবং এর সাথে ১৯৮৩-২০০৯ এর প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ। আজ, এর সম্পদ রক্ষায় এবং বৈশ্বিক পুঁজির বিনিয়োগের জন্য, তারা আরও বড় অপরাধ সংগঠিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শুধুমাত্র শ্রমিক শ্রেণী, জনগণকে এর পিছনে নিয়ে সমগ্র সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করতে পারে, তামিল এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রবল বৈষম্যের অবসান ঘটাতে পারে এবং দরিদ্র কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমিকদের মুখোমুখি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারে, জমির অভাব, সার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের বিস্ময়কর খরচ এবং ক্ষুদ্র উৎপাদকদের উপর বড় কৃষি উদ্বেগ দ্বারা নিরলস চাপের মোকাবেলাও।
এসইপি সর্বদা তামিল শ্রমিক ও কৃষকদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সমর্থন করে এবং বিষাক্ত সিংহল নৈরাজ্যবাদের বিরোধিতা করে যা কয়েক দশক ধরে শ্রমিকদের বিভক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একই সময়ে, আমরা তামিল শাসক অভিজাতদের বিভক্ত তামিল জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করি যারা 'তাদের' শ্রমিকদের শোষণ করার 'অধিকার' ছাড়া আর কিছুই চায় না, এবং যারা বর্তমান সঙ্কটের মতো সময়ে সর্বদা শ্রমিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে সারিবদ্ধ হয়। আমরা সতর্ক করছি যে আগামী সপ্তাহগুলি এবং মাসগুলিতে মরিয়া শাসক শ্রেণী আবারও জঘন্য সাম্প্রদায়িক মিথ্যাচার এবং শ্রমিকদেরকে একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানি দেবে। এর বিরোধিতা অবশ্যই করতে হবে।
শ্রমিক ও গ্রামীণ জনগণের গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসের জন্য SEP-এর আহ্বান শ্রমিক শ্রেণীর জন্য তার শক্তিকে একত্রিত করতে, গ্রামীণ জনগণের সক্রিয় সমর্থন জয় করতে এবং শ্রমিক ও কৃষকদের সরকারের মাধ্যমে নিজস্ব শাসনের ভিত্তি স্থাপনের জন্য একটি রাজনৈতিক কৌশল প্রদান করে। সমাজতান্ত্রিক লাইনে সমাজের পুনর্গঠন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিক এবং গ্রামীণ জনগণ যত দ্রুত অ্যাকশন কমিটি গঠনের জন্য রাজনৈতিক লড়াই শুরু করবে, তত তাড়াতাড়ি শাসক শ্রেণীর দ্বারা প্রস্তুত করা বিপর্যয়ের বিরোধিতা করার জন্য শ্রমিক এবং গ্রামীণ শ্রমজীবীদের একটি কংগ্রেস আহ্বান করা যেতে পারে। যারা এই লড়াইয়ে অংশ নিতে চায় তাদের আমরা সব ধরনের রাজনৈতিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত।
লিও ট্রটস্কির অন্তর্দৃষ্টি আজ অনুরণিত। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বুর্জোয়া অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করার পরে যে শ্রমিক রাষ্ট্রটি রূপ নেয় তা সোভিয়েত-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল - বিপ্লবের সময় উদ্ভূত শ্রমিক এবং দরিদ্র কৃষকদের স্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কাউন্সিলকে এই নাম দেওয়া হয়। ১৯৩০ সালে স্প্যানিশ শ্রমিকদের সম্বোধন করে, ট্রটস্কি একটি রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা হিসাবে সোভিয়েত প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন:
আমার কাছে মনে হয় সোভিয়েত এর স্লোগানটি পুরো পরিস্থিতির দ্বারা প্রস্তাবিত হয়, যদি আমরা সোভিয়েতগুলিকে সেই রূপে গ্রহণ করি যেভাবে আমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল এবং বিকাশ করেছিল: প্রথমে তারা শক্তিশালী স্ট্রাইক কমিটি ছিল। প্রারম্ভিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কল্পনাও করেনি যে এগুলি ভবিষ্যতের ক্ষমতার অঙ্গ ... এটা বোঝা যায় যে সোভিয়েতগুলি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যায় না। কিন্তু প্রতিটি স্থানীয় ধর্মঘটের সময়, বেশিরভাগ বাণিজ্যকে আলিঙ্গন করে এবং একটি রাজনৈতিক চরিত্র গ্রহণ করে, সোভিয়েতদের অস্তিত্ব সমন্ধে জানানো প্রয়োজন। সংগঠনের এটাই একমাত্র রূপ যা প্রদত্ত শর্তে আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নিতে এবং বিপ্লবী কর্মের শৃঙ্খলা আনতে সক্ষম। [“ স্প্যানিশ রাভ্যুলেশন ইন ডেঞ্জার,” Ibid., p. ৬৭]
সারমর্মে, আজকে শ্রমিক শ্রেণীর সামনে এটাই রাজনৈতিক কাজ এবং যার জন্য SEP একাই লড়াই করছে।
এই রাজনৈতিক সংগ্রামে শ্রীলঙ্কার শ্রমিক শ্রেণীর মিত্র হল সারা বিশ্বের শ্রমিক ও নিপীড়িত মানুষ। যদি তারা এর জন্য লড়াই করে, তাহলে শ্রীলঙ্কার শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীর কাছ থেকে অফুরন্ত সমর্থন পাবে। সারা বিশ্বে, জনসাধারণ বুঝতে পারছে যে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদ ধারাবাহিক সঙ্কটে নিমজ্জিত, যুদ্ধ, একটি অন্তহীন মহামারী, ফ্যাসিবাদ এবং সর্বদা তীব্র শোষণ ও সামাজিক দুর্দশা ছাড়া তাদের দেওয়ার আর কিছুই নেই।
বিশ্বজুড়ে শাসক অভিজাতরা শ্রীলঙ্কার মতো সামাজিক বিস্ফোরণের ভয়ে আতঙ্কিত, যার শুরু পাকিস্তান, মিশর এবং অন্যান্য এক ডজনেরও বেশি দেশে এখন আইএমএফের কঠোরতা এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে রয়েছে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর সাম্রাজ্যবাদী মিত্ররাও আছে। যেমন ফিনান্সিয়াল টাইমস ১৫ই ফেব্রুয়ারি সতর্ক করেছে:
কিন্তু শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলি একটি জাতীয় সমস্যার চেয়ে অনেক বেশি - এগুলি অন্যান্য উদীয়মান বাজারে সম্ভাব্য অসুবিধাগুলির একটি নাটকীয় উদাহরণ। বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে তা যদি ধনী দেশগুলিতে পরিচালনা করা যথেষ্ট কঠিন হয়, তবে বিশ্বের বেশিরভাগ জনসংখ্যার আবাসস্থল দরিদ্র এবং উদীয়মান অর্থনীতির অনেকের জন্য উদ্বেগের আরও কারণ রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আসে-এবং আজ অর্থনৈতিক চাপ সর্বত্র।
একটি গণতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসের সংগঠন এবং তা আহ্বান করতে শ্রমিক শ্রেণীর ব্যাপক অংশ এবং গ্রামীণ জনসাধারণকে সাথে নিয়ে একটি প্রকৃত গণআন্দোলনের বিকাশ প্রয়োজন। কংগ্রেসের কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা, একবার এটি আহবান করা হলে, এটি দেশের সমস্ত অংশে কর্মক্ষেত্রে, কারখানায়, চা বাগানে এবং আশেপাশের কতটা এলাকা জুড়ে স্থানীয় কমিটির বিশাল নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে তার উপর নির্ভর করবে।
কমিটির এই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের লড়াইয়ে, চতুর্থ আন্তর্জাতিকের আন্তর্জাতিক কমিটি কর্তৃক প্রবর্তিত র্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটির আন্তর্জাতিক শ্রমিক জোট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সারা বিশ্বে, শ্রমিকদের একটি ক্রমবর্ধমান আন্দোলন চলছে যারা নিজেদেরকে স্বাধীনভাবে সংগঠিত করতে শুরু করেছে এবং কর্পোরেট ও জাতীয়তাবাদী ট্রেড ইউনিয়ন শাসন যন্ত্রের আরোপিত শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে শুরু করেছে।
সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠায় গণআন্দোলনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং বদ্ধপরিকর।
মানবতার জন্য সমাজতান্ত্রিক ভবিষ্যত গড়ে তুলতে যৌথ সংগ্রামের জন্য আমরা ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে একটি বিশেষ আবেদন জারি করছি। আমরা শ্রীলঙ্কার জঙ্গি শ্রমিক ও যুবকদের SEP-তে যোগদান করতে এবং সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিকতার জন্য এই বিপ্লবী সংগ্রামে আপনার স্থান নিতে আহ্বান জানাই।
