শ্রীলঙ্কার সোশ্যালিস্ট ইকুয়ালিটি পার্টি (এসইপি) সতর্ক করেছে যে গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহের বিরোধী দলগুলিকে সর্বদলীয় সরকারে যোগদান করার আবেদনের মূল লক্ষ্য হল একটি পুঁজিবাদী শাসনকে সুসংহত করা যা আইএমএফের বর্বর ব্যয় হ্রাস কঠোরতা কর্মসূচি চাপিয়ে দেবে এবং শ্রমিক এবং দরিদ্রদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক শ্রেণী যুদ্ধের সৃষ্টি করবে।
যেকোন সর্বদলীয় বা অন্তর্বর্তী সরকারই হবে শ্রমিক শ্রেণী ও গ্রামীণ মেহনতিদের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক অধিকারের বিরোধিতাকে দমন করার একটি হাতিয়ার। তার পরিবর্তে এসইপি সংকটে জর্জরিত শাসক শ্রেণীর নিরলস আক্রমণের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীকে তাঁদের শ্রেণীস্বার্থের লড়াইয়ের উপায় হিসাবে নিজস্ব স্বাধীন অ্যাকশন কমিটির ভিত্তিতে শ্রমিক ও গ্রামীণ জনগণের একটি গণতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস জরুরিভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিক্রমাসিংহে, একজন প্রবীণ মার্কিন-পন্থী রাজনৈতিক দালাল এবং আইএমএফ এর নীতি প্রয়োগকারী, ১৪ই জুলাই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি গোটাভায়া রাজাপাক্ষে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিযুক্ত করেন কারণ তিনি গণ-বিক্ষোভের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তিনি ২০শে জুলাই কুখ্যাত পার্লামেন্টে গণতন্ত্র বিরোধী ভোটে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। গত মাসে, বিক্রমাসিংহে কঠোর জরুরী আইন জারি করেছেন যা নির্বিচারে গ্রেপ্তার করতে, দল ও সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে, ধর্মঘট নিষিদ্ধ করতে এবং মিডিয়াকে সেন্সর করার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করার জন্য ব্যাপক ক্ষমতা দেয়।
রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার প্রথম কাজগুলির মধ্যে একটিতে, বিক্রমাসিংহে ২২শে জুলাই রাষ্ট্রপতির সচিবালয় এবং আশেপাশের এলাকা থেকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের হিংসাত্মকভাবে উচ্ছেদ করার জন্য সামরিক ও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে, বিক্ষোভ এবং ইউনিয়ন নেতাদের পুলিশ গ্রেপ্তারের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে, তিনি অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা আইনের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করেছিলেন, প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে ধর্মঘট এবং শিল্প বাধা প্রাপ্ত হয় এমণ যে কোন কর্মসূচিকে নিষিদ্ধ করার জন্য।
এখন বিক্রমাসিংহে শাসক-শ্রেণির কঠোরতা ও দমন-পীড়নের কর্মসূচির জন্য সমগ্র কলম্বোর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য সমর্থন চাইছেন। গত বুধবার পার্লামেন্টে তার নীতিগত বিবৃতিতে তিনি ঘোষণা করেন যে দেশ নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বড় বিপদে আছি,” বিরোধী দলগুলোকে “দেশের স্বার্থে সর্বদলীয় সরকার গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।”
বিক্রমাসিংহে যখন 'মহা বিপদের' কথা বলেন, তখন তিনি সর্বোপরি পুঁজিবাদী শ্রেণির জন্য হুমকি এবং বর্তমান অসহনীয় জীবনযাত্রার গণবিরোধিতার কারণে এর ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সম্পদের জন্য হুমকিকে বোঝান। তিন মাসের গণ বিক্ষোভ এবং সাধারণ ধর্মঘট ২৮শে এপ্রিল, ৬ই মে, ১০ এবং ১১ তারিখের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক জড়িত হয়ে বুর্জোয়া শাসনকে মূলে নাড়া দিয়েছে এবং গোটাভায়া রাজাপাক্ষেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।
এখন বিক্রমাসিংহে শ্রমিক শ্রেণী এবং নিপীড়িত জনসাধারণের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ পাল্টা আক্রমণ চালানোর জন্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে আবেদন করছেন যে কোনো কৌশলগত পার্থক্যকে দূরে সরিয়ে রাখতে।
রাষ্ট্রপতি ইউক্রেন যুদ্ধ এবং COVID-19 মহামারী সহ 'প্রতিকূল আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কারণগুলির' রূপরেখা দিয়েছেন, যা শ্রীলঙ্কায় একটি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাংক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে এ বছর শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ সংকুচিত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার শুকিয়ে যাওয়ায় অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের আমদানি কমে গেছে। জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, খাদ্যবস্তুতে মূল্যস্ফীতি ৯০ শতাংশে ছুঁয়েছে, যা প্রচুর অসুবিধা তৈরি করেছে।
অর্থনীতিকে 'পুনরুজ্জীবন' এবং 'আধুনিকীকরণ' করার নামে, বিক্রমাসিংহে শ্রমজীবী মানুষের উপর নতুন বোঝা চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত বছরের ১২.২ শতাংশ ঘাটতি থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাজেটে উদ্বৃত্ত তৈরি করা তার লক্ষ্য, শুধুমাত্র করের বিশাল বৃদ্ধি, সরকারি ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ চাকরি ধ্বংস, অবশিষ্ট নগণ্য ভর্তুকির অবসান, সমস্ত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের বেসরকারীকরণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সরকারি পরিষেবাগুলি কাটছাঁট করার মাধ্যমেই যা অর্জন করা যেতে পারে।
এই শ্রমিক-শ্রেণি-বিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য, বিক্রমাসিংহে 'নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সহ একটি নতুন সংবিধান' প্রস্তাব করেছেন যা 'রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পরিষদ' এবং একটি 'জনগণের সমাবেশ, যা সমস্ত আগ্রহী দলের মতামত পাওয়ার একটি ব্যবস্থা,' যেখানে বিভিন্ন সংগঠন ও থাকবে।
এই প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো গণতান্ত্রিক বিষয়বস্তু নেই। বরং, প্রস্তাবগুলি হল দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দল, মধ্যবিত্ত 'সুশীল সমাজ' গোষ্ঠী এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে শ্রমিক এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের বিরুদ্ধে জড়ো করা।
এই কর্মসূচির গণতান্ত্রিক বিরোধী চরিত্র বিক্রমাসিংহে সরকার দ্বারা পুলিশি আক্রমণকে ন্যায্যতা দিতে বিরোধী বিক্ষোভকারীদেরকে 'ফ্যাসিবাদী' এবং 'সন্ত্রাসী' হিসাবে নিন্দিত যে আক্রমণ তার মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়। যদিও প্রতিবাদীরা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা বর্তমানে গ্রেফতার হচ্ছেন, তাঁর সরকার তার কঠোরতা কর্মসূচির বিরোধিতার বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক দমন-পীড়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যারা একইভাবে 'ফ্যাসিস্ট' এবং 'সন্ত্রাসী' হিসাবে চিহ্নিত হবে।
থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অ্যাডভোকাটা দ্বারা আয়োজিত একটি সভায় বক্তৃতাকালে, বিক্রমাসিংহে যে কাউকে আইএমএফের বিকল্প উপস্থাপন করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন যে 'প্রথম ছয় মাস কঠিন হবে ... [কিন্তু] বুলেট কামড়ানো ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।'
সংসদীয় বিরোধী দলের কারোর কাছেই IMF-এর ব্যয় হ্রাস কঠোরতা কর্মসূচির কোন বিকল্প নেই। কার্যত তারা সবাই রাষ্ট্রপতির নীতি বিবৃতিকে 'ইতিবাচক' হিসাবে প্রশংসা করেছেন।
সামাগি জনা বালাভেগয়া (এসজেবি) নেতা সজিথ প্রেমাদাসা, যিনি আগে বিক্রমাসিংহের সাথে কাজ করতে অস্বীকার করেছিলেন, শুক্রবার আকস্মিক মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনা করেছেন। “কিছু [আলোচনার পয়েন্ট] ইতিবাচক কিছু নেতিবাচক ছিল। কিন্তু সবাই কীভাবে শ্রীলঙ্কাকে সঙ্কট থেকে বের করে আনতে হবে তা অন্বেষণ করতে সম্মত হয়েছে, 'একজন SJB নেতা আলোচনার পরে ঘোষণা করেছেন এবং আরও আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কা মুসলিম কংগ্রেস সহ SJB-এর সাথে জোটবদ্ধ মুসলিম দলগুলি, এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করে এমন চা বাগান-ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নগুলি - ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ ওয়ার্কার্স অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক ওয়ার্কার্স ফ্রন্ট - সকলেই বিক্রমাসিংহের সাথে যোগ দিতে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে৷ চা বাগান-ভিত্তিক সিলন ওয়ার্কার্স কংগ্রেসও শ্রমিক-শ্রেণি-বিরোধী লাইনে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাইথ্রিপালা সিরিসেনার নেতৃত্বাধীন দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি) এই পদক্ষেপটিকে 'নাশকতা' করার জন্য অন্যান্য দলকে আক্রমণ করে সর্বদলীয় শাসনে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে। এসএলএফপির মাত্র নয়জন সংসদ সদস্য রয়েছে কারণ পাঁচজন ইতিমধ্যেই সরকার থেকে সরে এসেছেন এবং মন্ত্রী পদ গ্রহণ করেছেন।
তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (TNA), যা তামিল শাসক অভিজাতদের প্রতিনিধিত্ব করে, তারাও বিক্রমাসিংহের সাথে আলোচনা করেছে এবং আরও আলোচনায় সম্মত হয়েছে। এটি অবশ্য সর্বদলীয় প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) সর্বদলীয় সরকারের বিরোধী নয় কিন্তু ঘোষণা করেছে যে তারা প্রস্তাবিত সরকারে অংশ নেবে না। JVP অনুরা কুমারা দিসানায়েক অভিযোগ করেছেন যে 'প্রতিটি দল অবদান রাখতে পারে' এর অধিকার সহ একটি অন্তর্বর্তী সর্বদলীয় সরকারের জন্য দলের নিজস্ব যে প্রস্তাব তা বিবেচনা করা হয়নি। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অসম্মানিত সংসদকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এবং শ্রমিকদের এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের দ্বারা যে কোনও স্বাধীন পদক্ষেপকে অবরুদ্ধ করার মরিয়া প্রচেষ্টায় JVP ' সময়ের আগেই ভোট' করার আহ্বান জানিয়েছে৷
একইভাবে, ছদ্ম-বাম ফ্রন্টলাইন সোশ্যালিস্ট পার্টি (এফএসপি) ব্যাপকভাবে ঘৃণ্য বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বাধীন যেকোনো সরকারকে সমর্থন করার বিষয়ে সতর্ক। এফএসপি নেতা কুমার গুনারত্নম ঘোষণা করেছেন যে রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবটি গণ বিরোধী দলকে দমন করার জন্য এবং সংসদীয় বিরোধী দলগুলিকে তা প্রত্যাখ্যান করার এবং FSP- এর 'গণসংগ্রামে' যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্য কথায়, এফএসপি শ্রমিক ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের বুর্জোয়া বিরোধী দলগুলোর সাথে আবদ্ধ রাখতে চাইছে যারা বিক্রমাসিংহের মতো একই আইএমএফ নীতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ট্রেড ইউনিয়নগুলি একটি অন্তর্বর্তী পুঁজিবাদী সরকারের দাবিতে এপ্রিল এবং মে মাসের গণধর্মঘটকে সময়কাল এবং রাজনৈতিক পরিসরে সীমিত করতে বিশ্বাসঘাতক ভূমিকা পালন করেছে। এখন ট্রেড ইউনিয়ন শাসকের কিছু অংশ প্রকাশ্যে বিক্রমাসিংহের সাথে সারিবদ্ধ।
ফেডারেশন অফ হেলথ প্রফেশনালস নেতা রবি কুমুদেশ শনিবার বিক্রমাসিংহের সাথে দেখা করেছেন, ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি পরবর্তী ধর্মঘট ঠেকাতে তার ক্ষমতায় যা আছে সব করবেন। “আমরা ঘন ঘন সংগ্রাম করার ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি এমন একটি সময় [যখন], আমাদের সকলকে একত্রিত হওয়া উচিত এবং আত্মত্যাগ করা উচিত দেশ গড়তে। শুধুমাত্র আপনিই সেই পরিবর্তন ঘটাতে পারেন,” তিনি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন।
শ্রমিকদের এই দল এবং সংস্থাগুলিতে কোনও আস্থা থাকা উচিত নয়, যারা সকলেই বিক্রমাসিংহের সাথে একমত যে IMF-এর ব্যয় হ্রাস কঠোরতা দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। এসইপি একাই একটি বিকল্প সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচির রূপরেখা দিয়েছে যাতে পুঁজিবাদী শ্রেণী এবং আন্তর্জাতিক অর্থ পুঁজির পক্ষে সরকারের চাপিয়ে দেওয়া তীব্র কষ্টের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণী এবং গ্রামীণ জনসাধারণ লড়াই করতে পারে।
SEP যেকোন প্রকারের অন্তর্বর্তী পুঁজিবাদী সরকারে কোন প্রকার সমর্থন করা বা কোন ধরণের সম্পৃক্ততা প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা শ্রমিকদের এবং গ্রামীণ মেহনতিদের প্রতি আহ্বান জানাই বিষয়গুলিকে তাঁদের নিজেদের হাতে তুলে নিতে এবং প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে, চা বাগানে, শহরতলিতে, শহর ও গ্রামে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অ্যাকশন কমিটি গঠন করতে যা ট্রেড ইউনিয়ন এবং প্রতিটি বুর্জোয়া পার্টির থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হবে।
IMF-এর নির্দেশের বিরোধিতা করে, SEP শ্রমজীবী মানুষের জরূরী প্রয়োজনীয়তাগুলিকে মোকাবেলা করার জন্য এবং যেগুলির জন্য অ্যাকশন কমিটিগুলি লড়াই করতে পারে তার জন্য একাধিক নীতির রূপরেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উৎপাদন ও বন্টনের উপর শ্রমিক শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক এর জাতীয়করণ, বড় কর্পোরেশন এবং বাগানগুলিকে গণতান্ত্রিক জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনা, কোটিপতিদের এবং কর্পোরেশনগুলির বিপুল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, এবং সমস্ত বিদেশী ঋণ প্রত্যাখ্যান।
শ্রমজীবী মানুষের অপরিহার্য সামাজিক অধিকারের লড়াই গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এসইপি অবিলম্বে স্বৈরাচারী নির্বাহী প্রেসিডেন্সি বিলুপ্তির ডাক দিচ্ছে, জরুরি অবস্থা, অপরিহার্য পরিষেবা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন সহ সমস্ত দমনমূলক আইন বাতিল এবং সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
যে কোনো পুঁজিবাদী সরকারের বিরোধিতা করে, সর্বদলীয়, অন্তর্বর্তীকালীন বা অনান্য, SEP একটি 'শ্রমিক ও গ্রামীণ জনসাধারণের গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস' গঠনের আহ্বান জানায়, যার ভিত্তি হবে অ্যাকশন কমিটি দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যা শ্রমিক ও দরিদ্রদের সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক হাতিয়ার।
২০শে জুলাইয়ের বিবৃতিতে, এসইপি ব্যাখ্যা করেছে যে এই জাতীয় কংগ্রেস 'শ্রমিক শ্রেণীর জন্য তার বাহিনীকে একত্রিত করতে, গ্রামীণ জনগণের সক্রিয় সমর্থন জয় করতে এবং শ্রমিক ও কৃষকদের সরকারের মাধ্যমে নিজস্ব শাসনের ভিত্তি স্থাপন করার জন্য একটি রাজনৈতিক কৌশল প্রদান করে যা সমাজতান্ত্রিক ধারায় সমাজ পুনর্গঠন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিক এবং গ্রামীণ জনগণ যত দ্রুত অ্যাকশন কমিটি গঠনের জন্য রাজনৈতিক লড়াই শুরু করবে, তত তাড়াতাড়ি শাসক শ্রেণীর দ্বারা প্রস্তুত করা বিপর্যয়ের বিরোধিতা করার জন্য শ্রমিক এবং গ্রামীণ শ্রমজীবীদের একটি কংগ্রেস আহ্বান করা যেতে পারে। যারা এই লড়াইয়ে অংশ নিতে চায় আমরা তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক সহায়তার প্রস্তাব দিচ্ছি।”
এসইপি শ্রমিকদেরকে সিংহল শাসনতন্ত্র বা তামিল সাম্প্রদায়িকতাকে চাগিয়ে তোলার যে কোনো প্রচেষ্টার কঠোরভাবে বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছে যা শাসক শ্রেণী বারবার শ্রমজীবী মানুষকে বিভক্ত করতে এবং পুঁজিবাদের দ্বারা সৃষ্ট সংকটের সমাজতান্ত্রিক সমাধানের লড়াইকে দুর্বল করতে ব্যবহার করেছে। এই সংগ্রামে শ্রমিক ও দরিদ্রদের বন্ধু আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণী যারা দেশে দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং চাকরি ও মজুরি হ্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমেছে।
শ্রীলঙ্কার শ্রমিকরা তাদের সংগ্রামকে সমন্বয় ও একত্রিত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিকদের সাথে তাদের অ্যাকশন কমিটিগুলিকে ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স অফ র্যাঙ্ক-এন্ড-ফাইল কমিটির সাথে সংযুক্ত করে, যা ফোর্থ ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক কমিটি দ্বারা সূচিত হয়েছে।
আমরা শ্রমিক ও যুবকদের এই কর্মসূচির জন্য লড়াই করতে এসইপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
