বাংলা

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তর ভারতে শ্রমিকদের ব্যাপক গণ বিক্ষোভ

দিল্লীর কাছে নয়ডাতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ফটো-হিতেন্দ্র মেহেতা [Photo: Hitendra Mehta]

উত্তর ভারতের জাতীয় রাজধানীর অঞ্চলে (NCR) অবস্থিত উৎপাদনকারী শিল্পগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার অসংগঠিত শ্রমিক ১০ই এপ্রিল থেকে তীব্র ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। ইরান-বিরোধী মার্কিন-ইজরায়েলি যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা এই আন্দোলন শুরু করেছে। বাড়িভাড়া, অনান্য খরচ এবং খাদ্যের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির সাথে তাল মেলাতে শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন।

উত্তর ভারতে এই বিক্ষোভের স্ফুরণ হলো সেই বৈশ্বিক প্রতিরোধেরই একটি অংশ, যা ট্রাম্পের ইরান-বিরোধী অপরাধমূলক যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফিলিপাইন, হাইতি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডেও শ্রমিক ও কৃষকদের ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে।

NCR হলো দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিকে ঘিরে থাকা একটি অঞ্চল। এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মহানগরী নয়াদিল্লি, পুরনো দিল্লি শহর এবং হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান রাজ্যের সংলগ্ন শিল্পসমৃদ্ধ জেলাসমূহ।

এই অঞ্চলে প্রায় ১৫,০০০ ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ আকারের দেশীয় এবং বহুজাতিক উৎপাদন শিল্প গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় ৪৫ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত আছেন; এদের অধিকাংশই চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী শ্রমিক। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, NCR—বোম্বে মহানগর অঞ্চলের পাশাপাশি—দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল জীবনযাত্রার অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এই অঞ্চলের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা মাসে ২৩,০০০ টাকা (২৪৭ ডলার) সমপরিমাণ একটি অভিন্ন ও ন্যূনতম জীবনধারণ-উপযোগী মজুরি প্রদানের দাবি জানাচ্ছেন।

ভারতের জাতিয় রাজধানী আঞ্চল [Photo by Planemad/Soumya-8974 / CC BY-SA 3.0] [Photo by Planemad/Soumya-8974 / CC BY-SA 3.0]

শ্রমজীবী ​​শ্রেণীর এই সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল নয়ডা শিল্পশহরে, কিন্তু তা দ্রুত সমগ্র এনসিআর (NCR) অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের শ্রমজীবীদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত গৃহকর্মীরাও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।

মজুরি এতটাই কম যে, এদের অধিকাংশই সপ্তাহে ছয় দিন—প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে কঠোর পরিশ্রম করেও—মাসে মাত্র ১০,০০০ ($১০৭) থেকে ১৫,০০০ ($১৬০) টাকা উপার্জন করেন। গত প্রায় এক দশক ধরে তাদের বর্তমান মজুরির হার কার্যত অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।

সরকার বিক্ষোভের জবাবে পুলিশ দিয়ে হিংস দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, যা ১৩ ও ১৪ই এপ্রিল চরম আকার ধারণ করে। স্থানীয় ও রাজ্য—উভয় স্তরের সরকারি কর্তৃপক্ষই শ্রমিকদের দৈনন্দিন দুর্দশার বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিবাদ দমনের লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে।

প্রচুর পরিমাণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং বহু বিক্ষোভকারীকে নির্মমভাবে প্রহার করার পর, ১৪ই এপ্রিল পুলিশ ৩৫০-এরও বেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে; তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও পটকা নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি উল্টে দেয়।

এ ছাড়াও, উত্তর প্রদেশের হিন্দুবাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ—যাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পুলিশি হিংস্রতা লেলিয়ে দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—শ্রমিকদের এই গণজাগরণকে একটি 'নকশাল' এবং এমনকি 'পাকিস্তান' দ্বারা ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। নকশালরা ছিল ভারতীয় মাওবাদী, যারা ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহের সূচনা করেছিল। মোদী সরকারের নৃশংস দমন-পীড়নের মুখে তাদের অস্তিত্ব বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

নিজের হুমকি-ধমকপূর্ণ বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও, আদিত্যনাথ শেষ পর্যন্ত ন্যূনতম মজুরি ২১ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। মজুরি বৃদ্ধির এই অতি-সামান্য ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশিই মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে 'বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক নজরদারি' বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন যে, তাদের উচিত তাদের নিপীড়ক নিয়োগকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, কারণ তারা নাকি 'কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেন'।

প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-শাসিত রাজ্য সরকার ন্যূনতম মজুরি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধির নির্দেশ জারি করার পর, ১০ই এপ্রিল দীর্ঘকাল ধরে শোষিত হাজার হাজার শ্রমিক কাজ ছেড়ে দিয়ে ধর্মঘটে শামিল হন। গত কয়েক মাস ধরে—বিশেষ করে গুরগাঁও-মানেসার শিল্পাঞ্চলে—শ্রমিকদের ব্যাপক ও লড়াকু আন্দোলনের ফলেই সরকার এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল। এই মানেসার জনপদেই ২০১১ সাল থেকে শুরু করে বেশ কয়েক বছর ধরে মারুতি-সুজুকি গাড়ি কারখানার শ্রমিকরা এক সাহসী ও তীব্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিল।

শ্রমিকদের প্রাত্যহিক নিয়তি হয়ে ওঠা দাসসুলভ মজুরি এবং কাজের পরিবেশের বর্ণনা সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দুস্তান টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত তুলারাম নামের এক শ্রমিক ওই সংবাদপত্রকে জানান, “আমি গত ৫ বছর ধরে এই শিল্পে কাজ করছি। আমার মাসিক বেতন মাত্র ২,০০০ টাকা বেড়ে এখন ১৩,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমার এই বেতন মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে যায়।”

হরিয়ানা সরকারের ৩৫ শতাংশ এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের ২১ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণার পরেও, শ্রমিকরা কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন মাত্র। মজুরির এই নগণ্য বৃদ্ধি নিয়ে হরিয়ানার শ্রমিকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে ‘সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস’ (CITU)—যা ‘ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)’-র স্তালিনপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত—তাদের দ্বারা এই শ্রমিকদের আপাতত নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

দুটি প্রধান কারণ মূলত এই স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানকে চালিত করেছে। প্রথমটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যুদ্ধের ফলে ভারতীয় অর্থনীতির ওপর সৃষ্ট প্রভাব। ভারত—যারা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল, সার এবং রান্নার গ্যাস আমদানি করে—তারা এই পণ্যগুলোর সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যার ফলস্বরূপ খাদ্যদ্রব্যের দামও আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় প্রধান কারণটি হলো চারটি নতুন 'শ্রম বিধি' (Labour Codes), যা গত নভেম্বর মাসে ব্যবসা-বান্ধব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি-শাসিত জাতীয় সরকার কর্তৃক কার্যকর করা হয়েছে। শ্রমিক-স্বার্থের ঘোর বিরোধী মোদী সরকারের এটি ছিল এমন একটি পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ছিল 'ব্যবসা করার সহজতা' (Ease of Doing Business) বৃদ্ধি করা—যা বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ও জোরদারভাবে প্রচারিত একটি সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়াশীল ধারণা।

স্তালিনবাদী ট্রেড ইউনিয়নগুলো—যেমন সিটু (CITU) এবং অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC), যা ভারতের পুরনো কমিউনিস্ট পার্টির (CPI) সাথে যুক্ত—এই গণঅভ্যুত্থানের মুখে যেন সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়েছে। সিটু এবং এআইটিইউসি—উভয়েরই ধর্মঘট বা আন্দোলনকে মাঝপথে বিসর্জন দেওয়ার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে; বিশেষ করে তামিলনাড়ু রাজ্যে, যেখানে তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতি বেশ শক্তিশালী। ধর্মঘট ও বিক্ষোভগুলোতে হস্তক্ষেপ করে আন্দোলনটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল পাঠানোর মাধ্যমে তারা এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিকে একটি প্রত্যক্ষ 'শ্রেণী সংঘাত' হিসেবে অভিহিত করে সিটু-র সাধারণ সম্পাদক মন্তব্য করেছেন যে, নতুন শ্রম বিধিগুলো একদিকে যেমন 'ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার' খর্ব করে, তেমনি অন্যদিকে তা 'নির্মম শোষণের' পথ প্রশস্ত করে। একইভাবে, এআইটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কৌর বলেছেন যে, শ্রেণী সংঘাতের এই বিস্ফোরণ মূলত সরকারের পক্ষ থেকে 'যৌথ দরকষাকষির' (collective bargaining) অধিকার অস্বীকার করারই প্রত্যক্ষ ফলাফল। যদিও নতুন শ্রম বিধিগুলো ভারতীয় শ্রমিকদের ওপর শোষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তবুও স্তালিনবাদী ইউনিয়ন নেতারা এই বিধিগুলোর বাস্তবায়ন রুখতে কোনো সুসংহত বা ধারাবাহিক আন্দোলনের ডাক দেননি। এর পরিবর্তে, তারা নিজেদের এমন একটি শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন, যাদের সহায়তা শাসক শ্রেণীর প্রয়োজন—যাতে তারা এই 'শ্রেণী সংঘাতকে' প্রশমিত ও দমন করতে পারে।

শ্রম বিধিগুলো কার্যকর হওয়ার পর থেকে সমগ্র ভারতজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনের যে বৃহত্তর ঢেউ আছড়ে পড়েছে, এই সাম্প্রতিক বিক্ষোভ তারই একটি অংশ। গত কয়েক মাসে বিহারের বারৌনি, গুজরাটের সুরাট এবং হরিয়ানার মানেসার ও পানিপথে শিল্প-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জোরালো ও লড়াকু বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, নতুন শ্রম বিধিগুলোর সুবাদে—অন্যান্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি—নিয়োগকর্তারা (যার মধ্যে বিশাল আকারের রাষ্ট্রায়ত্ত কর্পোরেশনগুলোও অন্তর্ভুক্ত) এখন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা যথেচ্ছভাবে বৃদ্ধি করার সুযোগ পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, 'ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন'-এ কর্মরত চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করলেও, তাদের মজুরি দেওয়া হয় মাত্র আট ঘণ্টার হিসেবে। তাছাড়া, তারা মাসে মাত্র দুদিন ছুটি পায় এবং তাদের সেই নগণ্য মজুরি পেতেও প্রায়শই বিলম্ব হয়। শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, প্রভিডেন্ট ফান্ডে (ভবিষ্য তহবিল) অবদানের নামে জালিয়াতি করা হয় এবং কর্মক্ষেত্রে শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকেও শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়।

ভারতের অভিজাত শ্রেণি দেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে যতই গর্ব করুক না কেন, ভারতের শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা ১৯শ শতাব্দীর পরিস্থিতিরই প্রতিচ্ছবি। ২০২৫ সালের 'পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে' (PLFS) অনুযায়ী, মাত্র ২৩.৬ শতাংশ শ্রমিক নিয়মিত বেতন বা মজুরির ভিত্তিতে কর্মরত। বাকিদের মধ্যে ৫৬.২ শতাংশ হলো 'স্ব-নিযুক্ত' (self-employed)—যা মূলত ফুটপাতে মুড়ি চপ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত একটি অলঙ্কারপূর্ণ শব্দ; অন্যদিকে ২০.২ শতাংশ হলো অনিয়মিত বা দিনমজুর শ্রমিক, যারা যখনই কোনো কায়িক শ্রমের কাজ পায়, তখনই সেই কাজ করে।

সিটু (CITU)—যারা ৬২ লক্ষ শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে—তারা এনসিআর (NCR) অঞ্চলের শ্রমিকদের সমর্থনে আগামী ১৬ই এপ্রিল দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। কিন্তু এই দুটি শ্রমিক ফেডারেশনেরই অতীত রেকর্ড—যারা জাতীয় ও রাজ্য সরকারগুলোকে শ্রমিক-বিরোধী নীতিসমূহ জোরদার করার সুযোগ করে দিয়েছে—এই বিষয়টিই নির্দেশ করে যে, শ্রমিকদের অবশ্যই এই শ্রমিক আমলাতন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করতে হবে এবং সংগ্রামের নিজস্ব স্বাধীন পথ গড়ে তুলতে হবে; যার মধ্যে রয়েছে 'ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স অফ র‍্যাঙ্ক-অ্যান্ড-ফাইল কমিটিজ'-এর সাথে যুক্ত হওয়া, নিচুতলার শ্রমিকদের দ্বারা পরিচালিত কমিটি গঠনের মাধ্যমে।

Loading