গত এক সপ্তাহ ধরে ইউরোপজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে ১৭ই অক্টোবর পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ মিছিলে অংশ নিয়েছে; জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ (হলুদ ভেস্ট পরিহিত) আন্দোলনের কর্মীরা এতে যোগ দেন। তাদের সাথে ছিলেন হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা, যারা এক মাস ধরে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বুধবার গ্রিসের প্রায় ৫০টি শহরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চিকিৎসকরা মিছিল করেছে। ইতালির মিলানে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়; পর্তুগালের লিসবন ও পোর্তোতে শ্রমিকরা মিছিল বের করে। আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় এবং সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীরা বেলগ্রেডে মিছিল করে। চিলি, ভারত ও মেক্সিকোর রাস্তায়ও নেমে আসেন শিক্ষার্থী ও শ্রমিকরা। কানাডায় ৯ হাজারেরও বেশি ৯৭ শতাংশ অটোমোবাইল শ্রমিক ‘স্টেলানটিস’ (Stellantis)-এর বিরুদ্ধে ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
এই ঘটনাগুলো বিশ্ব পুঁজিবাদের একই সংকট থেকে উদ্ভূত দুটি আন্দোলনের সবচেয়ে তীব্র বহিঃপ্রকাশ—যে আন্দোলনগুলো একে অপরের সাথে যেমন যুক্ত, তেমনি একে অপরের বিপরীতমুখী। শাসকগোষ্ঠী প্রতিটি ফ্রন্টে যুদ্ধকে আরও জোরদার করছে। তাদের বিপরীতে গড়ে উঠছে সামাজিক বিরোধিতার এক আন্দোলন, যা বর্তমানে মূলত তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তবে যে সংকট বুর্জোয়া শ্রেণিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে শ্রমিক শ্রেণির আরও বৃহত্তর অংশকে সংগ্রামের পথে টেনে আনছে। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের এই বিস্ফোরণ এমন এক বিপ্লবী সংকটের পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা কেবল শুরু হয়েছে মাত্র।
এই যুদ্ধ মূলত একটি একক, ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়া বৈশ্বিক সংঘাত। বৃহস্পতিবার ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হেনেছি এবং প্রয়োজনে আরও আঘাত হানতে পারি।” এর আগের দিন ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানায় যে, ৩রা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। গত মাসে জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে যিনি ‘ইসলামিক রিপাবলিক’কে (ইরানকে) “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করার হুমকি দিয়েছিলেন, সেই ট্রাম্প ‘মাদার অফ অল বম্বস’ (সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা) ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেননি।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু “ইরানের murderous (হত্যাকারী) শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার” অঙ্গীকার করেছেন। শুক্রবার হেবরনের কাছে এক হামলায় দুই ইজরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর, তিনি শহরটিকে ঘিরে ফেলার এবং পুরো পশ্চিম তীরকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি অধিকৃত অঞ্চলে এমন এক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন, “যার মাত্রা ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।” গাজায় যে গণহত্যা চলছে, তা পশ্চিম তীরেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
একই সময়ে, ন্যাটো শক্তিগুলো ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের প্রক্সি যুদ্ধকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সাথে তীব্রতর করে তুলছে এবং পারমাণবিক যুদ্ধের বিপদকে একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। গত মাসে মস্কো যখন সতর্ক করে দেয় যে, ন্যাটোর অবরোধ থেকে কালিনিনগ্রাদকে রক্ষা করতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, তখন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে উত্তরে বলেন, “আমি বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি না।” ১৬ই অক্টোবর ট্রাম্প যখন রাশিয়ার ওপর আরোপিত অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন, তখন সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার তাঁর কঠোর সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তিনি “রুশ অর্থনীতিকে লাইফ সাপোর্ট দিচ্ছেন।”
বিদেশে যুদ্ধের অর্থ হলো নিজ দেশের শ্রমিক শ্রেণির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। ট্রাম্প এপ্রিলে ঘোষণা করেছিলেন যে, যেহেতু দেশ “যুদ্ধে লিপ্ত”, তাই ডে-কেয়ার, মেডিকেইড (Medicaid) এবং মেডিকেয়ার (Medicare)-এর মতো স্বাস্থ্য সামাজিক খাতে ব্যয় বহন করা “সম্ভব নয়”। হোয়াইট হাউস সামরিক বাজেটের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে, যা আগের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি। ইউরোপীয় শক্তিগুলো অতিরিক্ত ৮০০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে, আর ফরাসি সরকার সামাজিক পরিষেবা খাতে ৫৪ বিলিয়ন ইউরো কাটছাঁটের দাবি জানিয়েছে। একদিকে যখন আর্থিক অভিজাত শ্রেণি কল্পনাতীতভাবে ধনী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে সরকারগুলো যুদ্ধের ব্যয়ভার শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। কেবল গত এক বছরেই বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনী ব্যক্তির সম্পদ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে যারা রাস্তায় নেমেছে, সেই প্রজন্মকে বলা হয়েছে—অতিরিক্ত ভিড়ে ভর্তি স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থানকে মেনে নিতে, যাতে সামাজিক খাতের অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করা যায়; আর এখন তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় (conscription) যোগ দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে বেলজিয়াম, ইতালি ও গ্রিসের শিক্ষার্থীরাও একই দাবি নিয়ে এগিয়ে এসেছে। স্পেনের প্রায় ৫০টি শহরে আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং জার্মানিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে ধর্মঘট করেছে।
সামাজিক বিরোধের এই বিস্ফোরণ একটি বৈশ্বিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, বলিভিয়া ও ফিলিপাইনে অবরোধ ও পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে; সিরিয়া জুড়েও চলছে বিক্ষোভ। কলম্বিয়ায় শ্রমিকরা সম্প্রতি নতুন কট্টর-ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম জাতীয় ধর্মঘট পালন করেছে। কেনিয়া জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ধর্মঘট করছেন, বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এবং ভারতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে হাজার হাজার মানুষকে পুলিশ আটক করেছে। উত্তর আমেরিকা জুড়ে অটোমোবাইল, ইস্পাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং হোটেল শিল্পের কর্মীরা সংগ্রামের পথে নেমে আসছেন।
এই আন্দোলন কেবল তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যে বস্তুগত পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে, তা-ই এখন শ্রমিক শ্রেণিকে সংগ্রামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—আর এতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আমলারা। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো, শ্রমিক শ্রেণিকে একটি স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে বাধা দেওয়া। ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে তাঁরা যথাক্রমে ৫ নভেম্বর, ১১ নভেম্বর এবং ২০ নভেম্বর যে ধর্মঘটগুলোর ডাক দিয়েছেন, তার প্রতিটিই কেবল এক দিনের জন্য এবং একে অপরের থেকে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এগুলো জাতীয় সীমানার গণ্ডিতে আবদ্ধ; এমনকি এই ধর্মঘটগুলো শ্রমিক শ্রেণির অন্যান্য অংশ এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের থেকেও বিচ্ছিন্ন। তবে আমলাতন্ত্র এমন এক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা তারা নিজেরা তৈরি করেনি এবং যা নিয়ন্ত্রণ করাও তাদের সাধ্যের বাইরে। তাদের গড়িমসি আর বিভাজনের প্রবণতাই বলে দিচ্ছে যে, নিচ থেকে কতটা প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে।
শাসক অভিজাতরা জানে যে তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব, এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।” তিনি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং নেতানিয়াহু এই আন্দোলনের জন্য অভিবাসী ও ইসলামকে দায়ী করেছেন। সরকারগুলো এর জবাবে দমন-পীড়ন বাড়িয়ে চলেছে এবং পুলিশি রাষ্ট্রসুলভ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ফ্রান্স বেশ কয়েকটি বড় শহরে কারফিউ জারি করেছে, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় পুলিশকে মুক্ত রাখতে সেখানে সেনা মোতায়েন করছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, “প্রয়োজন হলে” তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। ইতালির ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মিলানে ৫০০ সামরিক বাহিনী পাঠাচ্ছেন।
যুদ্ধ ও কৃচ্ছ্রসাধনের (austerity) বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিরোধিতাকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে উগ্র ডানপন্থীদের লালন পালন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, জাপান, চিলি, পেরু, কলম্বিয়া এবং কোস্টা রিকায় উগ্র ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এসেছে অথবা সরকারে অংশ নিয়েছে। ফ্রান্সে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জনমত সমীক্ষাতে নব্য-ফ্যাসিবাদী ‘ন্যাশনাল র্যালি’ এগিয়ে আছে; জার্মানির ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD) ও অস্ট্রিয়ার ‘ফ্রিডম পার্টি’ তাদের নিজ নিজ দেশের জাতীয় নির্বাচনে শীর্ষে ছিল; আর রোমানিয়ায় ফ্যাসিবাদী ‘এইউআর’ (AUR) নেতৃত্বে আছে। স্পেনে ২৯শে নভেম্বরের নির্বাচনের পর উগ্র ডানপন্থী দল ‘ভক্স’ (Vox) সরকারে যোগ দিতে পারে। এছাড়া ব্রাজিলে আসন্ন রবিবারের নির্বাচনে ফ্যাসিবাদী ধারার ফ্লাভিও বলসোনারো লুলার সাথে সমানে সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৩৮ সালে ‘ফোর্থ ইন্টারন্যাশনাল’ (চতুর্থ আন্তর্জাতিকের)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে লিও ট্রটস্কি লিখেছিলেন, “সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ হলো বুর্জোয়া শ্রেণির লুণ্ঠনমূলক রাজনীতিরই ধারাবাহিকতা ও তীব্রতর রূপ। যুদ্ধের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণির সংগ্রাম হলো তাদের শ্রেণি-সংগ্রামেরই ধারাবাহিকতা ও তীব্রতর রূপ।” ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় যে ‘ফেব্রুয়ারি বিপ্লব’ হয়েছিল, তা বলশেভিকদের আহ্বানে শুরু হয়নি; বরং যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সংকট থেকেই তার উদ্ভব ঘটেছিল। বলশেভিকরা তাতে যা যোগান দিয়েছিল তা হলো—একটি কর্মসূচি এবং সুচিন্তিত বিচার বিবেচনা, যার মাধ্যমে অক্টোবর মাসে শ্রমিক শ্রেণি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হয়েছিল।
আজকের শ্রেণি-সংগ্রামও একইভাবে যুদ্ধ ও সামাজিক সংকটের প্রভাবে বস্তুগত বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে উঠছে। সমাজতন্ত্রীদের কাজ হলো শ্রমিকদের তাদের নিজেদের সংগ্রামের বস্তুগত যুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং ভবিষ্যতে যা ঘটতে যাচ্ছে তার জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করা এটিই মার্ক্সবাদের একটি মৌলিক নীতি। এই যুক্তিটি স্কুল, কর্মক্ষেত্র এবং পাড়া-মহল্লায় এমন সব ‘অ্যাকশন কমিটি’ বা সংগ্রাম কমিটি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার দিকে নির্দেশ করে, যা পুঁজিবাদী দলগুলো এবং ট্রেড ইউনিয়ন আমলাতন্ত্রের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে। এই কমিটিগুলো আমলাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচী ও জাতীয় সীমানার গণ্ডি ভেঙে ফেলতে পারবে; ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স অফ র্যাঙ্ক-অ্যান্ড-ফাইল কমিটিস’ (IWA-RFC)-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে; এবং যুদ্ধ, স্বৈরতন্ত্র ও সামাজিক ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে সাধারণ ধর্মঘট (জেনারেল স্ট্রাইক) আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে পারবে।
বর্তমানে যে তরুণ ও শ্রমিকরা লড়াই করছেন—যাঁদের দাবি হলো মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসস্থান, উপযুক্ত মজুরি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ (কনস্ক্রিপশন) প্রথার অবসান—তাঁদের এই দাবিগুলো এমন কোনো সরকারের কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব নয়, যারা ঋণদাতাদের কাছে দায়বদ্ধ এবং যুদ্ধের পথে অবিচল। এর জন্য প্রয়োজন আর্থিক অভিজাত শ্রেণির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং একটি আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচির ভিত্তিতে শ্রমিক শ্রেণির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
